০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আর প্লাস্টিকের ফুল নয়, তাজা ফুলে সাজবে কুমিল্লা

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনের মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সারের ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। অতীতে উন্নয়নের নামে কাজ বেচাকেনা এবং কমিশন বাণিজ্যই যেন সিটি করপোরেশনের অন্যতম কাজ ছিল অভিযোগ করে পরিবর্তনের কুমিল্লা গড়ার অঙ্গীকার করেছেন এই প্রার্থী।
গতকাল রোববার সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন তার পরিকল্পিত নগরায়নের ইশতেহার।

তিনি বলেন, আর প্লাস্টিকের ফুল নয়, তাজা ফুলে সাজবে কুমিল্লা নগরী। বিগত সময়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন তো দূরে থাক, স্বল্প কিংবা দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিকল্পনা মতো কাজ হয়নি। পরিকল্পনা থাকলেও সীমানা বাড়েনি। শুধু ভাঙচুর, একই কাজ বারবার করার নামে দুর্নীতি ও লুটপাট করা হয়েছে। অতীতে উন্নয়নের নামে কাজ বেচাকেনা এবং কমিশন বাণিজ্যই যেন সিটি করপোরেশনের অন্যতম কাজ ছিল। ফলে টেকসই উন্নয়ন হয়নি। দুর্নীতি এখন প্রকাশ্যে আলোচনা হচ্ছে। তাই কুমিল্লার মানুষ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের জন্যই আমার এই ইশতেহার।

তার স্লোগান পরিচ্ছন্ন কুমিল্লা নগরী চাই। এরপরে প্রথমেই আছে যানজট। যানজট নিরসনে পদুয়ার বাজারে ফ্লাইওভার, টমছম ব্রিজে আন্ডারপাস নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ইন্টারসেকশন ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। যত্রতত্র পার্কিং ঠেকাতে নতুন ভবন নির্মাণে অনুমোদনের ব্যাপারে সিটি করপোরেশন সতর্ক থাকবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পার্কিং ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও পরিকল্পিত আবাসন, হোল্ডিং ট্যাক্স ও প্ল্যান সংক্রান্ত জটিলতা, দুর্নীতি ও নাগরিক হয়রানি বন্ধ হবে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেক্ষেত্রে অবৈধ দখল, উচ্ছেদ করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ দেওয়া হবে। পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি থ্রি-আর চালু হবে। রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে আবর্জনা অপসারণ করা হবে।
নগরের খাদ্য ও নগর কৃষিতে আলাদা গুরুত্ব থাকবে। সুশিক্ষার জন্য একটি স্মার্ট স্কুল (মোবাইল/অ্যাপস/অনলাইন) প্রতিষ্ঠা করা হবে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য নলেজ সেন্টার খোলা হবে। সিটি করপোরেশনে এক লাখ গাছের চারা রোপণ করা হবে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি, পর্যটন, বিনোদনের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য একটি আইসিটি ক্লাব যা একটি কেন্দ্রীয় হাবের আওতায় থাকবে। এছাড়াও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা। মাদক ও সামাজিক ব্যাধি দূরীকরণে এই প্রার্থী ক্রাইম ম্যাপিং প্রণয়ন করা হবে। কিশোরদের গ্যাং অভিশাপ থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়াও পাহাড়সমান হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে নগরবাসীকে হয়রানি মুক্ত করা হবে। আধুনিক শহর গড়ে তোলা, টয়লেট, শ্রমজীবী মানুষের জন্য প্রকল্প গ্রহণ ও উপাসনালয়, কবরস্থান, শ্মশান, কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করে ধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধন তৈরি করা হবে।

ইশতেহার ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন, সদর দক্ষিণ-পূর্ব বিএনপির সাবেক সভাপতি এসএ বারি সেলিম, বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের ছেলে ইফতেখার রশিদ অপু, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান ছুটি, শহীদুল্লাহ রতন, সাবেক কাউন্সিলর বিল্লাল হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

আর প্লাস্টিকের ফুল নয়, তাজা ফুলে সাজবে কুমিল্লা

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মার্চ ২০২৪

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনের মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সারের ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। অতীতে উন্নয়নের নামে কাজ বেচাকেনা এবং কমিশন বাণিজ্যই যেন সিটি করপোরেশনের অন্যতম কাজ ছিল অভিযোগ করে পরিবর্তনের কুমিল্লা গড়ার অঙ্গীকার করেছেন এই প্রার্থী।
গতকাল রোববার সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন তার পরিকল্পিত নগরায়নের ইশতেহার।

তিনি বলেন, আর প্লাস্টিকের ফুল নয়, তাজা ফুলে সাজবে কুমিল্লা নগরী। বিগত সময়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন তো দূরে থাক, স্বল্প কিংবা দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিকল্পনা মতো কাজ হয়নি। পরিকল্পনা থাকলেও সীমানা বাড়েনি। শুধু ভাঙচুর, একই কাজ বারবার করার নামে দুর্নীতি ও লুটপাট করা হয়েছে। অতীতে উন্নয়নের নামে কাজ বেচাকেনা এবং কমিশন বাণিজ্যই যেন সিটি করপোরেশনের অন্যতম কাজ ছিল। ফলে টেকসই উন্নয়ন হয়নি। দুর্নীতি এখন প্রকাশ্যে আলোচনা হচ্ছে। তাই কুমিল্লার মানুষ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের জন্যই আমার এই ইশতেহার।

তার স্লোগান পরিচ্ছন্ন কুমিল্লা নগরী চাই। এরপরে প্রথমেই আছে যানজট। যানজট নিরসনে পদুয়ার বাজারে ফ্লাইওভার, টমছম ব্রিজে আন্ডারপাস নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ইন্টারসেকশন ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। যত্রতত্র পার্কিং ঠেকাতে নতুন ভবন নির্মাণে অনুমোদনের ব্যাপারে সিটি করপোরেশন সতর্ক থাকবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পার্কিং ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও পরিকল্পিত আবাসন, হোল্ডিং ট্যাক্স ও প্ল্যান সংক্রান্ত জটিলতা, দুর্নীতি ও নাগরিক হয়রানি বন্ধ হবে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেক্ষেত্রে অবৈধ দখল, উচ্ছেদ করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ দেওয়া হবে। পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি থ্রি-আর চালু হবে। রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে আবর্জনা অপসারণ করা হবে।
নগরের খাদ্য ও নগর কৃষিতে আলাদা গুরুত্ব থাকবে। সুশিক্ষার জন্য একটি স্মার্ট স্কুল (মোবাইল/অ্যাপস/অনলাইন) প্রতিষ্ঠা করা হবে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য নলেজ সেন্টার খোলা হবে। সিটি করপোরেশনে এক লাখ গাছের চারা রোপণ করা হবে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি, পর্যটন, বিনোদনের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য একটি আইসিটি ক্লাব যা একটি কেন্দ্রীয় হাবের আওতায় থাকবে। এছাড়াও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা। মাদক ও সামাজিক ব্যাধি দূরীকরণে এই প্রার্থী ক্রাইম ম্যাপিং প্রণয়ন করা হবে। কিশোরদের গ্যাং অভিশাপ থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়াও পাহাড়সমান হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে নগরবাসীকে হয়রানি মুক্ত করা হবে। আধুনিক শহর গড়ে তোলা, টয়লেট, শ্রমজীবী মানুষের জন্য প্রকল্প গ্রহণ ও উপাসনালয়, কবরস্থান, শ্মশান, কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করে ধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধন তৈরি করা হবে।

ইশতেহার ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন, সদর দক্ষিণ-পূর্ব বিএনপির সাবেক সভাপতি এসএ বারি সেলিম, বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের ছেলে ইফতেখার রশিদ অপু, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান ছুটি, শহীদুল্লাহ রতন, সাবেক কাউন্সিলর বিল্লাল হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।