১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরের রুপদিয়া স্টেশন ঘুরে  গেলো ট্রায়াল ট্রেন 

যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া রেলস্টেশন ঘুরে গেলো একটড ট্রায়াল ট্রেন। ফরিদপুরের ভাঙ্গা – যশোর রুটে প্রথধাপের পরীক্ষামূলক
 ট্রেন চলাচল ছিলো এটি। শনিবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ভাঙ্গা থেকে ছাড়া ট্রেনটি সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে যশোরের রূপদিয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে। প্রায় ১০ মিনিট এই স্টেশনে অবস্থান করে। ট্রায়াল ট্রেনে আগমনে স্থানীয়রা খুশি হয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী জুন নাগাদ এই পথে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রেলওয়ে গ্রুপ’ (সিআরইসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত ব্রডগেজ ওই রেলপথে ভাঙ্গা, কাশিয়ানী এবং যশোরের পদ্মবিলা ও সিঙ্গিয়াতে রেলওয়ে জংশন থাকছে। এ ছাড়া নগরকান্দা, মুকসুদপুর, মহেশপুর, লোহাগড়া, নড়াইল এবং যশোরের জামদিয়া ও রূপদিয়াতে রেলস্টেশন হয়েছে।
কাজের অংশ হিসেবে আজ ও আগামীকাল রবিবার দুই দিন ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত বিভিন্ন গতিতে ট্রেন চালিয়ে নির্মাণ অবস্থা পরীক্ষা করা হবে।
পরীক্ষামূলক ট্রেনের চালক জানান, সকাল ৮ টা ৪০ মিনিটে আমরা ভাঙ্গা ছেড়ে আসি। সকাল ১০ টা ৩৫ মিনিটে যশোরের রূপদিয়া স্টেশনে পৌঁছেছি।
সহকারী লোকো মাস্টার হাসান মতিউর রহমান জানান, ৬০ কিমি বেগে ট্রেনটি এসেছে। যাওয়ার সময় আরও ২০ কিমি বেগে যাবে।
যশোর রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান বলেন, এই ট্রেন যশোরবাসীর জন্যে প্রধানমন্ত্রীর ঈদের উপহার। ট্রেনটি ৬০ থেকে ৮০ কিমি বেগে যশোরে আসে। যাওয়ার সময় আরও বেশি বেগে যাবে। আগামী জুন মাস নাগাদ এই রুটে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে।
ভাঙ্গা যশোর অংশের ট্র্যাক ইনচার্জ আনোয়ারুল কবির বলেন, ‘নতুন এই ট্র্যাক করা হয়েছে চীনা প্রযুক্তিতে। ব্যবহার করা হয়েছে কংক্রিটের স্লিপার। এটি টেকসই যেমন, তেমনি রক্ষণাবেক্ষণ খরচও অনেক কম হবে।’ ট্র্যাক ইঞ্জিনিয়ার এ এস এম সাফওয়ান হোসাইন রাতুল বলেন, পদ্মা সেতুকেন্দ্রিক নতুন এই রেললাইন দেশের রেল নেটওয়ার্ককে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। মাঠপর্যায়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে। ২০১৬ সালের ৩ মে একনেকে ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প’ নামে এটির অনুমোদন হয়। এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা।  নতুন এই রেলপথ চালু হলে যশোর থেকে দূরত্ব কমবে অন্তত ১৯৩ কিলোমিটার।
জনপ্রিয় সংবাদ

মা নিজেই নদীতে ফেলার ঘটনা স্বীকার, শিশু জীবিত উদ্ধার

যশোরের রুপদিয়া স্টেশন ঘুরে  গেলো ট্রায়াল ট্রেন 

আপডেট সময় : ০৩:১২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪
যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া রেলস্টেশন ঘুরে গেলো একটড ট্রায়াল ট্রেন। ফরিদপুরের ভাঙ্গা – যশোর রুটে প্রথধাপের পরীক্ষামূলক
 ট্রেন চলাচল ছিলো এটি। শনিবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ভাঙ্গা থেকে ছাড়া ট্রেনটি সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে যশোরের রূপদিয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে। প্রায় ১০ মিনিট এই স্টেশনে অবস্থান করে। ট্রায়াল ট্রেনে আগমনে স্থানীয়রা খুশি হয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী জুন নাগাদ এই পথে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রেলওয়ে গ্রুপ’ (সিআরইসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত ব্রডগেজ ওই রেলপথে ভাঙ্গা, কাশিয়ানী এবং যশোরের পদ্মবিলা ও সিঙ্গিয়াতে রেলওয়ে জংশন থাকছে। এ ছাড়া নগরকান্দা, মুকসুদপুর, মহেশপুর, লোহাগড়া, নড়াইল এবং যশোরের জামদিয়া ও রূপদিয়াতে রেলস্টেশন হয়েছে।
কাজের অংশ হিসেবে আজ ও আগামীকাল রবিবার দুই দিন ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত বিভিন্ন গতিতে ট্রেন চালিয়ে নির্মাণ অবস্থা পরীক্ষা করা হবে।
পরীক্ষামূলক ট্রেনের চালক জানান, সকাল ৮ টা ৪০ মিনিটে আমরা ভাঙ্গা ছেড়ে আসি। সকাল ১০ টা ৩৫ মিনিটে যশোরের রূপদিয়া স্টেশনে পৌঁছেছি।
সহকারী লোকো মাস্টার হাসান মতিউর রহমান জানান, ৬০ কিমি বেগে ট্রেনটি এসেছে। যাওয়ার সময় আরও ২০ কিমি বেগে যাবে।
যশোর রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান বলেন, এই ট্রেন যশোরবাসীর জন্যে প্রধানমন্ত্রীর ঈদের উপহার। ট্রেনটি ৬০ থেকে ৮০ কিমি বেগে যশোরে আসে। যাওয়ার সময় আরও বেশি বেগে যাবে। আগামী জুন মাস নাগাদ এই রুটে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে।
ভাঙ্গা যশোর অংশের ট্র্যাক ইনচার্জ আনোয়ারুল কবির বলেন, ‘নতুন এই ট্র্যাক করা হয়েছে চীনা প্রযুক্তিতে। ব্যবহার করা হয়েছে কংক্রিটের স্লিপার। এটি টেকসই যেমন, তেমনি রক্ষণাবেক্ষণ খরচও অনেক কম হবে।’ ট্র্যাক ইঞ্জিনিয়ার এ এস এম সাফওয়ান হোসাইন রাতুল বলেন, পদ্মা সেতুকেন্দ্রিক নতুন এই রেললাইন দেশের রেল নেটওয়ার্ককে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। মাঠপর্যায়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে। ২০১৬ সালের ৩ মে একনেকে ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প’ নামে এটির অনুমোদন হয়। এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা।  নতুন এই রেলপথ চালু হলে যশোর থেকে দূরত্ব কমবে অন্তত ১৯৩ কিলোমিটার।