০৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্ষুদ্রঋণের প্রলোভনে সর্বস্ব হারাচ্ছে নিরীহ মানুষ

⦿থামছেই না নামস্বর্বস্ব এনজিওর তৎপরতা
⦿ টার্গেট গ্রামের হতদরিদ্র মানুষ
⦿ ক্ষুদ্রঋণের নামে চলছে নৈরাজ্য
⦿ নানা কৌশলে লাভেলোভের প্রলোভন
⦿ অনেকে আইনি জটিলাতার ফাঁদেও পড়ছেন

🔗এভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা তাদের কোন অধিকার নেই। রেগুলেটরি বডি উচিত এদের এখনই প্রতিরোধ করা- খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষক, সিপিডি

হতদরিদ্র জয়নাল মিয়া। গতর খেটে ৫ সদস্যের পরিবার চালান। বয়স বাড়ায় এখন আর আগের মতো খাটুনির কাজ করতে পারেন না। একদিন সহজ কিস্তিতে ক্ষুদ্রঋণে সিএনজি কেনার প্রস্তাব পান এক এনজিও কর্মীর কাছ থেকে। জয়নাল মিয়া খুশি হয়ে সায় দিলেন তার কথায়। ক্ষুদ্রঋণ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মাইক্রো ব্যাংক’ থেকে তাকে সিএনজি কেনার জন্য ৩ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা হয়। এরই তিনি ধার- দেনা করে সঞ্চয়ের নামে ৮৫ হাজার টাকা জমা দেন। যেদিন তিন লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা সেদিন থেকে লাপাত্তা সেই এনজিও কর্মী।
সম্প্রতি হবিগঞ্জের মাধবপুরে এমনই এক ঘটনা ঘটে। এভাবে প্রতারক চক্র প্রায় শতাধিক লোকজনের কাছ থেকে কৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে।

দেশের সর্বত্র ক্ষুদ্র ঋণের নামে নৈরাজ্য ও প্রতারণা চলছে। স্থানীয়ভাবে নামে-বেনামে শতশত সমিতির মাধ্যমে শ্রমজীবী হাজার হাজার মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে। কেউ কেউ সমবায় সমিতির নামে আবার কেউ শরিয়া ভিত্তিক ব্যাংকিং চালু করেও প্রতারণা করছে। অধিক মুনাফা ও লাভের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে নিঃস্ব করছে নামসর্বস্ব বিভিন্ন এনজিও। এসব অবৈধ ক্ষুদ্রঋণের হাতিয়ার এখনই নিয়ন্ত্রণের অনুরোধ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক ও দিনমজুররা থাকেন তাদের প্রধান টার্গেট। চটকদার বিজ্ঞাপন ও নানা কৌশলে লাভেলোভের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই তাদের নেশা। প্রথমে সঞ্চয়ের টাকা সংগ্রহ করা হলে রাতারতি চম্পট দেওয়ার ঘটনা ঘটছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। তাদের অস্থায়ী অফিসে ঝুলে আছে তালা।
অনেকেই নিকটাত্মীয় ও পরিচিতদের কাছ থেকে ধারদেনা করে কেউ বা গৃহপালিত গরু-ছাগল বিক্রি করে সঞ্চয় কিস্তি দিয়ে সর্বাস্বান্ত হয়েছেন।
খবর নিয়ে জানা যায়, সুবিধামতো জায়গা ভাড়া নিয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষকে আকৃষ্ট করতে লোভনীয় অফারে ঝুলিয়ে দেয়া হয় ব্যানার। এরপর ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ দেয়ার নামে ব্ল্যাংক চেক হাতিয়ে ধরিয়ে দেয়া হয় ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। টাকা দেয়ার চার মাসের মাথায় উধাও হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। পরে ঋণ নেয়া ব্যক্তিদের নামে একে একে আসতে থাকে চেক প্রতারণার মামলা। এমন ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নে।
স্থানীয় ও প্রতারণার শিকার এমন কয়েকজন জানান, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ভগতগাজী এলাকায় অগ্রণী-ই কমার্স লিমিডেট নামে একটি অফিসের জন্য বাড়িভাড়া নেয় ওমর আলী নামে এক ব্যক্তি। এলাকার মানুষকে ঋণপ্রদানে চটকদার প্রচারণা চালান।
সাপ্তাহিক কিস্তিতে এক লাখ টাকা জমা করলেই ছয় বছরের মাথায় দেয়া হবে দুই লাখ টাকা। এ ছাড়া বসতবাড়ি, আবাদি জমি, দোকানঘর, টিভি, ফ্রিজ, যানবাহনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা হবে অনেককিছু। পাশাপাশি দেয়া হবে ঋণ। এমন লোভনীয় প্রচারণায় মুগ্ধ হয় স্থানীয়রা। টাকা জমানোর পাশাপাশি অফিস প্রধান ওমর আলীর নির্দেশে ব্ল্যাংক চেক জমা দিয়ে ঋণের জালে পা দেন এলাকার দরিদ্ররা।
এরপর আদালত থেকে একেক জনের নামে এক থেকে ছয় লাখ টাকার চেক প্রতারণা মামলার কাগজ এলে জানতে পারেন তারা প্রতারণার শিকার হয়েছে। প্রত্যেক ঋণগ্রহীতা তাদের পুরো টাকা পরিশোধ করার পরেও ওমর আলীর করা মামলায় এখন নিঃস্ব হয়ে আদালত চত্বরে ঘুরছেন। আদালতে হাজিরা দিতে এসে ওমর আলীকে পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বিচার দাবি করেন সবাই।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান জানান, অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হলে তা বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সঙ্গে ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে মামলা করলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে সম্প্রতি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া এলাকা থেকে ঋণ দেওয়ার নামে নারীদের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ’ করে একটি প্রতারক চক্র। এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ হাজার ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় নেওয়া হয়। ঋণ নিতে এসে ‘কৃষি ফাউন্ডেশনের’ কার্যালয় বন্ধ পান স্থানীয় মানুষ। গ্রামের নারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য গবাদিপশু কিনতে ঋণ দেওয়ার কথা ছিল একটি ফাউন্ডেশনের। ১৫ দিন ধরে নেওয়া হয় ঋণের জন্য সঞ্চয়। ঋণ দেওয়ার নিদিষ্ট দিনে গ্রাহকেরা ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে গিয়ে দেখলেন সবাই লাপাত্তা। পড়ে আছে শুধু কাগজপত্র ও চেয়ার-টেবিলের মতো কিছু আসবাবপত্র।

র‌্যাব সূত্র থেকে জানা যায়, রাজধানী ঢাকাতেও এসব প্রতারক চক্র ফাঁদ পেতে আছে। উত্তরণ ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ২-৩ মাসের জন্য অফিস ভাড়া নেয়। এরপর তারা পত্রিকায় কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেয়। কর্মী নিয়োগ করে গ্রাহক সংগ্রহ করার জন্য নিয়োগকৃত কর্মীদের তাদের নিজ বাড়ি এলাকায় পাঠিয়ে দেয়। প্রতারক চক্র প্রতারণার উদ্দেশ্যে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার নামে ১০ শতাংশ হারে সিকিউরিটি হিসেবে গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়োগ করা কর্মীদের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে।
প্রতারণার কৌশল হিসেবে প্রথমে তারা সদস্য সংগ্রহ করে থাকে। এই প্রতারক চক্রের মাঠ পর্যায়ের কর্মী/সদস্যদের মাধ্যমে বিভিন্ন বস্তি এলাকার প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, সেলুনের কর্মচারী, মনোহারী ও ফুটপাতের দোকানদার, গৃহকর্মী ও নিম্নআয়ের মানুষকে টার্গেট করে। ঋণের লোভ দেখিয়ে সঞ্চয়ের নামে তাদের কোম্পানিতে বিনিয়োগ/ডিপিএস করতে উদ্বুদ্ধ করে। তার পর সঞ্চয় সংগ্রহ করে অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রমে জড়িয়ে ফেলে। সাধারণ অশিক্ষিত মানুষ না বুঝে এসব প্রতারণার ফাঁদে পা দেয়। স্বল্প সময়ে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন এমন কি ফ্ল্যাট/জমি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়ে থাকে তারা।
এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদিত নয়; যা সম্পূর্ণ অবৈধ। এনজিও হিসেবে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি আর্থিক লেনদেনের জন্য অনুমোদিত নয়।

অনুমোদন ছাড়া সারা দেশে এ রকম অসংখ্য সমিতি ও মাইক্রোক্রেডিট প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এদের যথাযথ মনিটরিং না করায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করার তো কোনও অধিকার নেই তাদের। এ জন্য রেগুলেটরি বডি রয়েছে। তাদের উচিত এদের এখনই প্রতিরোধ করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

ক্ষুদ্রঋণের প্রলোভনে সর্বস্ব হারাচ্ছে নিরীহ মানুষ

আপডেট সময় : ০৭:১৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪

⦿থামছেই না নামস্বর্বস্ব এনজিওর তৎপরতা
⦿ টার্গেট গ্রামের হতদরিদ্র মানুষ
⦿ ক্ষুদ্রঋণের নামে চলছে নৈরাজ্য
⦿ নানা কৌশলে লাভেলোভের প্রলোভন
⦿ অনেকে আইনি জটিলাতার ফাঁদেও পড়ছেন

🔗এভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা তাদের কোন অধিকার নেই। রেগুলেটরি বডি উচিত এদের এখনই প্রতিরোধ করা- খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষক, সিপিডি

হতদরিদ্র জয়নাল মিয়া। গতর খেটে ৫ সদস্যের পরিবার চালান। বয়স বাড়ায় এখন আর আগের মতো খাটুনির কাজ করতে পারেন না। একদিন সহজ কিস্তিতে ক্ষুদ্রঋণে সিএনজি কেনার প্রস্তাব পান এক এনজিও কর্মীর কাছ থেকে। জয়নাল মিয়া খুশি হয়ে সায় দিলেন তার কথায়। ক্ষুদ্রঋণ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মাইক্রো ব্যাংক’ থেকে তাকে সিএনজি কেনার জন্য ৩ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা হয়। এরই তিনি ধার- দেনা করে সঞ্চয়ের নামে ৮৫ হাজার টাকা জমা দেন। যেদিন তিন লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা সেদিন থেকে লাপাত্তা সেই এনজিও কর্মী।
সম্প্রতি হবিগঞ্জের মাধবপুরে এমনই এক ঘটনা ঘটে। এভাবে প্রতারক চক্র প্রায় শতাধিক লোকজনের কাছ থেকে কৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে।

দেশের সর্বত্র ক্ষুদ্র ঋণের নামে নৈরাজ্য ও প্রতারণা চলছে। স্থানীয়ভাবে নামে-বেনামে শতশত সমিতির মাধ্যমে শ্রমজীবী হাজার হাজার মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে। কেউ কেউ সমবায় সমিতির নামে আবার কেউ শরিয়া ভিত্তিক ব্যাংকিং চালু করেও প্রতারণা করছে। অধিক মুনাফা ও লাভের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে নিঃস্ব করছে নামসর্বস্ব বিভিন্ন এনজিও। এসব অবৈধ ক্ষুদ্রঋণের হাতিয়ার এখনই নিয়ন্ত্রণের অনুরোধ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক ও দিনমজুররা থাকেন তাদের প্রধান টার্গেট। চটকদার বিজ্ঞাপন ও নানা কৌশলে লাভেলোভের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই তাদের নেশা। প্রথমে সঞ্চয়ের টাকা সংগ্রহ করা হলে রাতারতি চম্পট দেওয়ার ঘটনা ঘটছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। তাদের অস্থায়ী অফিসে ঝুলে আছে তালা।
অনেকেই নিকটাত্মীয় ও পরিচিতদের কাছ থেকে ধারদেনা করে কেউ বা গৃহপালিত গরু-ছাগল বিক্রি করে সঞ্চয় কিস্তি দিয়ে সর্বাস্বান্ত হয়েছেন।
খবর নিয়ে জানা যায়, সুবিধামতো জায়গা ভাড়া নিয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষকে আকৃষ্ট করতে লোভনীয় অফারে ঝুলিয়ে দেয়া হয় ব্যানার। এরপর ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ দেয়ার নামে ব্ল্যাংক চেক হাতিয়ে ধরিয়ে দেয়া হয় ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। টাকা দেয়ার চার মাসের মাথায় উধাও হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। পরে ঋণ নেয়া ব্যক্তিদের নামে একে একে আসতে থাকে চেক প্রতারণার মামলা। এমন ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নে।
স্থানীয় ও প্রতারণার শিকার এমন কয়েকজন জানান, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ভগতগাজী এলাকায় অগ্রণী-ই কমার্স লিমিডেট নামে একটি অফিসের জন্য বাড়িভাড়া নেয় ওমর আলী নামে এক ব্যক্তি। এলাকার মানুষকে ঋণপ্রদানে চটকদার প্রচারণা চালান।
সাপ্তাহিক কিস্তিতে এক লাখ টাকা জমা করলেই ছয় বছরের মাথায় দেয়া হবে দুই লাখ টাকা। এ ছাড়া বসতবাড়ি, আবাদি জমি, দোকানঘর, টিভি, ফ্রিজ, যানবাহনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা হবে অনেককিছু। পাশাপাশি দেয়া হবে ঋণ। এমন লোভনীয় প্রচারণায় মুগ্ধ হয় স্থানীয়রা। টাকা জমানোর পাশাপাশি অফিস প্রধান ওমর আলীর নির্দেশে ব্ল্যাংক চেক জমা দিয়ে ঋণের জালে পা দেন এলাকার দরিদ্ররা।
এরপর আদালত থেকে একেক জনের নামে এক থেকে ছয় লাখ টাকার চেক প্রতারণা মামলার কাগজ এলে জানতে পারেন তারা প্রতারণার শিকার হয়েছে। প্রত্যেক ঋণগ্রহীতা তাদের পুরো টাকা পরিশোধ করার পরেও ওমর আলীর করা মামলায় এখন নিঃস্ব হয়ে আদালত চত্বরে ঘুরছেন। আদালতে হাজিরা দিতে এসে ওমর আলীকে পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বিচার দাবি করেন সবাই।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান জানান, অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হলে তা বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সঙ্গে ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে মামলা করলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে সম্প্রতি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া এলাকা থেকে ঋণ দেওয়ার নামে নারীদের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ’ করে একটি প্রতারক চক্র। এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ হাজার ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় নেওয়া হয়। ঋণ নিতে এসে ‘কৃষি ফাউন্ডেশনের’ কার্যালয় বন্ধ পান স্থানীয় মানুষ। গ্রামের নারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য গবাদিপশু কিনতে ঋণ দেওয়ার কথা ছিল একটি ফাউন্ডেশনের। ১৫ দিন ধরে নেওয়া হয় ঋণের জন্য সঞ্চয়। ঋণ দেওয়ার নিদিষ্ট দিনে গ্রাহকেরা ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে গিয়ে দেখলেন সবাই লাপাত্তা। পড়ে আছে শুধু কাগজপত্র ও চেয়ার-টেবিলের মতো কিছু আসবাবপত্র।

র‌্যাব সূত্র থেকে জানা যায়, রাজধানী ঢাকাতেও এসব প্রতারক চক্র ফাঁদ পেতে আছে। উত্তরণ ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ২-৩ মাসের জন্য অফিস ভাড়া নেয়। এরপর তারা পত্রিকায় কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেয়। কর্মী নিয়োগ করে গ্রাহক সংগ্রহ করার জন্য নিয়োগকৃত কর্মীদের তাদের নিজ বাড়ি এলাকায় পাঠিয়ে দেয়। প্রতারক চক্র প্রতারণার উদ্দেশ্যে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার নামে ১০ শতাংশ হারে সিকিউরিটি হিসেবে গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়োগ করা কর্মীদের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে।
প্রতারণার কৌশল হিসেবে প্রথমে তারা সদস্য সংগ্রহ করে থাকে। এই প্রতারক চক্রের মাঠ পর্যায়ের কর্মী/সদস্যদের মাধ্যমে বিভিন্ন বস্তি এলাকার প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, সেলুনের কর্মচারী, মনোহারী ও ফুটপাতের দোকানদার, গৃহকর্মী ও নিম্নআয়ের মানুষকে টার্গেট করে। ঋণের লোভ দেখিয়ে সঞ্চয়ের নামে তাদের কোম্পানিতে বিনিয়োগ/ডিপিএস করতে উদ্বুদ্ধ করে। তার পর সঞ্চয় সংগ্রহ করে অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রমে জড়িয়ে ফেলে। সাধারণ অশিক্ষিত মানুষ না বুঝে এসব প্রতারণার ফাঁদে পা দেয়। স্বল্প সময়ে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন এমন কি ফ্ল্যাট/জমি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়ে থাকে তারা।
এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদিত নয়; যা সম্পূর্ণ অবৈধ। এনজিও হিসেবে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি আর্থিক লেনদেনের জন্য অনুমোদিত নয়।

অনুমোদন ছাড়া সারা দেশে এ রকম অসংখ্য সমিতি ও মাইক্রোক্রেডিট প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এদের যথাযথ মনিটরিং না করায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করার তো কোনও অধিকার নেই তাদের। এ জন্য রেগুলেটরি বডি রয়েছে। তাদের উচিত এদের এখনই প্রতিরোধ করা।