০১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ বিশ্ব সমুদ্র দিবস, কেমন আছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার

Oplus_0

দেশে বিদেশে সুনামের সহিত পরিচিত সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। কেমন আছে সমুদ্র সৈকত।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ৪/৫ লাখ মানুষের বসবাস, সমপরিমাণ পর্যটক আসেন কক্সবাজারে বেড়াতে। অথচ কক্সবাজার শহরে কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। ওয়াটার রিসাইকল প্লান্ট নেই।
কক্সবাজার শহরের  ৪/৫ লাখ মানুষের পয়ঃবর্জ্য, প্রায় ৫০০ হোটেল-গেস্ট হাউজের পয়ঃবর্জ্য
সরাসরি পৌরসভার নালা-নর্দমায় চলে যায়।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল জোন ও পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ড  ঘুরে দেখা যায় পৌরসভার সমস্ত নালা নর্দমার সংযোগস্থল হচ্ছে বাঁকখালি নদী।
এই বাঁকখালী নদী নাজিরারটেক হয়ে সরাসরি সমুদ্রে মিশেগেছে। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলতে পারি লক্ষ লক্ষ টন পয়ঃবর্জ্য সরাসরি সমুদ্রের পানিতে গিয়ে মিশে যাচ্ছে।
এদিকে দেখা যায় অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্য মারাত্মক রুপ ধারণ করেছে।  সৈকতে হাটতে গেলেই চোখে পড়বে প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন, ছেঁড়া জাল ও প্লাস্টিক বর্জ্য। বিশেষ করে পর্যটকদের ব্যবহৃত  ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের বোতল, চায়ের কাপ, জুস, চিপসের প্যাকেট, শপিং ব্যাগ, সরাসরি সমুদ্রে ভাসতে থাকে। এই সমুদ্র দূষণের কারণেই  প্রতিবছর মারা পড়ছে সামুদ্রিক কাছিম, ডলফিন ও তিমি। তবে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। তলদেশে মিলছে দূষণের ভয়াবহ চিত্র। যার কারণে পানি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির পাশাপাশি বিলুপ্তি ঘটছে সামুদ্রিক প্রাণীর।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্র তলদেশে শুধুমাত্র প্লাস্টিক বর্জ্যরে পরিমাণ ১৫ কোটি টন। ২০৪০ সাল নাগাদ যা দাঁড়াবে ৬০ কোটি টনে। যা সমুদ্রে বিরাজমান সম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি।
বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোহাম্মদ শরীফ বলেন, প্লাস্টিক দূষণ ছাড়াও সমুদ্র আরো অনেক কারণে দূষণ হয়ে থাকে। যেমন বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি থেকে যে বর্জ্যগুলো আসে ওগুলো কিন্তু পরিবেশের জন্য ঝুঁকির কারণ। এগুলো খাদ্য শৃঙ্খলে চলে আসছে বিভিন্নভাবে। আর বৈশ্বিক পরিবর্তনটাও কিন্তু বিভিন্ন দূষণের কারণেই হচ্ছে। আর গ্রীণ হাউজের প্রভাবের কথা বলি এক ধরণের সি এফ সি বা গ্রীণ হাউজ গ্যাসের জন্য হচ্ছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। ঋতুগুলো পর্যন্ত বদলে যাচ্ছে। আগে আমাদের যেই সময় বৃষ্টি হতো বৃষ্টির সময়টাও বদলে গেলো। যেই দীর্ঘ সময়ধরে বর্ষাকাল থাকতো সেটাও পরিবর্তন হয়ে গেলো। শীত কমে গেলো, গরম বেড়ে গেলো। এইসবকিছুই কিন্তু দূষণের ফল। এই যে যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেলা হচ্ছে সেটা বিভিন্নভাবে পরিবেশের সাথে মিশে যাচ্ছে। সেটা সেন্টমার্টিন হোক, কক্সবাজার হোক, নোয়াখালী বা হাতিয়া কিংবা সুন্দরবন হোক। এসব কিন্তু নদী-নালা খাল-বিলের মাধ্যমে সাগরেই যাচ্ছে। কিছু শিল্প-কলকারখানার প্লাস্টিক আছে বিভিন্ন ধরণের একক ব্যবহৃত প্লাস্টিক এগুলোও কিন্তু সাগরেই যাচ্ছে। এগুলো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে দুইভাবে ক্ষতি করে। প্রথমত খাদ্য শৃঙ্খলের মধ্যে চলে যাচ্ছে, দ্বিতীয়ত সাগরের বালির সাথে মিশে সাগরের পরিবেশ নষ্ট করছে। সাগরে স্কুবা ডাইভিং করতে গেলে অনেকসময় দেখা যায় একক ব্যবহৃত প্লাস্টিক, পলিথিন, ক্যান এসব যেই জায়গায় থাকে সেই জায়গারই ক্ষতি করছে। বালি, শৈবাল, মাছ, কচ্ছপ, হাঙর সবকিছুরই ক্ষতি হতেই থাকবে যতক্ষণ প্লাস্টিককে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি।
সচেতন মহল মনে করছেন আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস পালন করে, সভা সেমিনারে সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
 কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও সমুদ্র দূষণ রোধ করতে। দেশীয় আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ টিম গঠন করে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া সময়ের দাবি।
জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

আজ বিশ্ব সমুদ্র দিবস, কেমন আছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার

আপডেট সময় : ০৫:৪২:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০২৪
দেশে বিদেশে সুনামের সহিত পরিচিত সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। কেমন আছে সমুদ্র সৈকত।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ৪/৫ লাখ মানুষের বসবাস, সমপরিমাণ পর্যটক আসেন কক্সবাজারে বেড়াতে। অথচ কক্সবাজার শহরে কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। ওয়াটার রিসাইকল প্লান্ট নেই।
কক্সবাজার শহরের  ৪/৫ লাখ মানুষের পয়ঃবর্জ্য, প্রায় ৫০০ হোটেল-গেস্ট হাউজের পয়ঃবর্জ্য
সরাসরি পৌরসভার নালা-নর্দমায় চলে যায়।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল জোন ও পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ড  ঘুরে দেখা যায় পৌরসভার সমস্ত নালা নর্দমার সংযোগস্থল হচ্ছে বাঁকখালি নদী।
এই বাঁকখালী নদী নাজিরারটেক হয়ে সরাসরি সমুদ্রে মিশেগেছে। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলতে পারি লক্ষ লক্ষ টন পয়ঃবর্জ্য সরাসরি সমুদ্রের পানিতে গিয়ে মিশে যাচ্ছে।
এদিকে দেখা যায় অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্য মারাত্মক রুপ ধারণ করেছে।  সৈকতে হাটতে গেলেই চোখে পড়বে প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন, ছেঁড়া জাল ও প্লাস্টিক বর্জ্য। বিশেষ করে পর্যটকদের ব্যবহৃত  ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের বোতল, চায়ের কাপ, জুস, চিপসের প্যাকেট, শপিং ব্যাগ, সরাসরি সমুদ্রে ভাসতে থাকে। এই সমুদ্র দূষণের কারণেই  প্রতিবছর মারা পড়ছে সামুদ্রিক কাছিম, ডলফিন ও তিমি। তবে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। তলদেশে মিলছে দূষণের ভয়াবহ চিত্র। যার কারণে পানি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির পাশাপাশি বিলুপ্তি ঘটছে সামুদ্রিক প্রাণীর।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্র তলদেশে শুধুমাত্র প্লাস্টিক বর্জ্যরে পরিমাণ ১৫ কোটি টন। ২০৪০ সাল নাগাদ যা দাঁড়াবে ৬০ কোটি টনে। যা সমুদ্রে বিরাজমান সম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি।
বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোহাম্মদ শরীফ বলেন, প্লাস্টিক দূষণ ছাড়াও সমুদ্র আরো অনেক কারণে দূষণ হয়ে থাকে। যেমন বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি থেকে যে বর্জ্যগুলো আসে ওগুলো কিন্তু পরিবেশের জন্য ঝুঁকির কারণ। এগুলো খাদ্য শৃঙ্খলে চলে আসছে বিভিন্নভাবে। আর বৈশ্বিক পরিবর্তনটাও কিন্তু বিভিন্ন দূষণের কারণেই হচ্ছে। আর গ্রীণ হাউজের প্রভাবের কথা বলি এক ধরণের সি এফ সি বা গ্রীণ হাউজ গ্যাসের জন্য হচ্ছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। ঋতুগুলো পর্যন্ত বদলে যাচ্ছে। আগে আমাদের যেই সময় বৃষ্টি হতো বৃষ্টির সময়টাও বদলে গেলো। যেই দীর্ঘ সময়ধরে বর্ষাকাল থাকতো সেটাও পরিবর্তন হয়ে গেলো। শীত কমে গেলো, গরম বেড়ে গেলো। এইসবকিছুই কিন্তু দূষণের ফল। এই যে যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেলা হচ্ছে সেটা বিভিন্নভাবে পরিবেশের সাথে মিশে যাচ্ছে। সেটা সেন্টমার্টিন হোক, কক্সবাজার হোক, নোয়াখালী বা হাতিয়া কিংবা সুন্দরবন হোক। এসব কিন্তু নদী-নালা খাল-বিলের মাধ্যমে সাগরেই যাচ্ছে। কিছু শিল্প-কলকারখানার প্লাস্টিক আছে বিভিন্ন ধরণের একক ব্যবহৃত প্লাস্টিক এগুলোও কিন্তু সাগরেই যাচ্ছে। এগুলো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে দুইভাবে ক্ষতি করে। প্রথমত খাদ্য শৃঙ্খলের মধ্যে চলে যাচ্ছে, দ্বিতীয়ত সাগরের বালির সাথে মিশে সাগরের পরিবেশ নষ্ট করছে। সাগরে স্কুবা ডাইভিং করতে গেলে অনেকসময় দেখা যায় একক ব্যবহৃত প্লাস্টিক, পলিথিন, ক্যান এসব যেই জায়গায় থাকে সেই জায়গারই ক্ষতি করছে। বালি, শৈবাল, মাছ, কচ্ছপ, হাঙর সবকিছুরই ক্ষতি হতেই থাকবে যতক্ষণ প্লাস্টিককে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি।
সচেতন মহল মনে করছেন আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস পালন করে, সভা সেমিনারে সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
 কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও সমুদ্র দূষণ রোধ করতে। দেশীয় আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ টিম গঠন করে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া সময়ের দাবি।