০৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ সুগম করার দাবি

ভারত-চীন সফরেই প্রধানমন্ত্রীকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ সুগম করার দাবি জানান তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের নেতাগণ। যদি তাতে জট থাকে তাহলে নিজস্ব অর্থায়নেই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরের ২ কোটি মানুষের জীবন জীবিকা বাঁচানোর দাবি তাদের। দাবি আদায়ে আগামী ৬ জুলাই তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন পরিষদের নেতারা। ২১ জুন শুক্রবার দুপুরে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের হল রুমে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী, সাধারণ স¤পাদক শফিয়ার রহমানসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত ও চীন যাচ্ছেন, রংপুরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যাপারে অবশ্যই ভূমিকা রাখবেন। মেয়র বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাবো। রংপুরের ২ কোটি মানুষের প্রাণের যে দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। চীন নাকি ভারত সহযোগিতা করবে, কি করবে না, এটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। মাত্র ১০/১২ হাজার কোটি টাকার একটা প্রজেক্ট। এটা বড় প্রজেক্ট না। যমুনা সেতুর ওপরে দ্বিতীয় রেলসেতু করা হচ্ছে, সেটাও ২৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে। আর এটা কয় টাকার প্রজেক্ট। কেন এটা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, চীন যদি ফান্ডিং করে তা ভাল আর যদি ভারত ফান্ডিং কওে তাও ভাল। তা না হলে নিজস্ব অর্থায়নে আমাদের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, আশা করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের মধ্য দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সব জট খুলবে। তবে ধরে নিতে হবে শত প্রতিকূলতার পাহাড় ডিঙ্গিয়েই সৃষ্টি হবে উত্তর জনপদের মানুষের স্বপ্ন যাত্রা। শত বছরের উন্নয়ন ব নার শিকার একটি জনপদকে উন্নয়নের মূল ধারায় স¤পৃক্ত করতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই যথেষ্ঠ। তিনি আরও বলেন, আমরা আর আশাহত হতে চাই না। আশা করেছিলাম চলতি বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বরাদ্দ থাকবে। কিন্তু করা হয়নি। এতে আমরা হতাশ। তবে প্রধানমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া ভাষণে আমরা উজ্জীবিত। ভারত ও চীন সফরের মধ্য দিয়েই এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সকল জট খুলবে। যদি এটা না হয় তাহলে আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ স¤পাদক শাফিয়ার রহমান বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১০/১২ হাজার কোটি টাকা লাগবে। দেশের অন্যান্য অ লে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প হচ্ছে। কিন্তু উত্তরা লে নেই। চীন-ভারত সহযোগিতা না করলেও নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা না হলে উত্তরের লাইফ লাইন তিস্তা অববাহিকার ২ কোটি মানুষের জীবন জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না: আখতার হোসেন

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ সুগম করার দাবি

আপডেট সময় : ০৫:০২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪

ভারত-চীন সফরেই প্রধানমন্ত্রীকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ সুগম করার দাবি জানান তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের নেতাগণ। যদি তাতে জট থাকে তাহলে নিজস্ব অর্থায়নেই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরের ২ কোটি মানুষের জীবন জীবিকা বাঁচানোর দাবি তাদের। দাবি আদায়ে আগামী ৬ জুলাই তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন পরিষদের নেতারা। ২১ জুন শুক্রবার দুপুরে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের হল রুমে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী, সাধারণ স¤পাদক শফিয়ার রহমানসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত ও চীন যাচ্ছেন, রংপুরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যাপারে অবশ্যই ভূমিকা রাখবেন। মেয়র বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাবো। রংপুরের ২ কোটি মানুষের প্রাণের যে দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। চীন নাকি ভারত সহযোগিতা করবে, কি করবে না, এটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। মাত্র ১০/১২ হাজার কোটি টাকার একটা প্রজেক্ট। এটা বড় প্রজেক্ট না। যমুনা সেতুর ওপরে দ্বিতীয় রেলসেতু করা হচ্ছে, সেটাও ২৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে। আর এটা কয় টাকার প্রজেক্ট। কেন এটা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, চীন যদি ফান্ডিং করে তা ভাল আর যদি ভারত ফান্ডিং কওে তাও ভাল। তা না হলে নিজস্ব অর্থায়নে আমাদের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, আশা করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের মধ্য দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সব জট খুলবে। তবে ধরে নিতে হবে শত প্রতিকূলতার পাহাড় ডিঙ্গিয়েই সৃষ্টি হবে উত্তর জনপদের মানুষের স্বপ্ন যাত্রা। শত বছরের উন্নয়ন ব নার শিকার একটি জনপদকে উন্নয়নের মূল ধারায় স¤পৃক্ত করতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই যথেষ্ঠ। তিনি আরও বলেন, আমরা আর আশাহত হতে চাই না। আশা করেছিলাম চলতি বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বরাদ্দ থাকবে। কিন্তু করা হয়নি। এতে আমরা হতাশ। তবে প্রধানমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া ভাষণে আমরা উজ্জীবিত। ভারত ও চীন সফরের মধ্য দিয়েই এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সকল জট খুলবে। যদি এটা না হয় তাহলে আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ স¤পাদক শাফিয়ার রহমান বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১০/১২ হাজার কোটি টাকা লাগবে। দেশের অন্যান্য অ লে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প হচ্ছে। কিন্তু উত্তরা লে নেই। চীন-ভারত সহযোগিতা না করলেও নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা না হলে উত্তরের লাইফ লাইন তিস্তা অববাহিকার ২ কোটি মানুষের জীবন জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।