১১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চবিতে নিয়োগ বিতর্ক: প্রশাসনের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না ছাত্রদল, করলেন সভা বর্জন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে বসেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বৈঠক বর্জন করে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

রোববার (১৮ জানুয়ারী) বেলা সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত উপাচার্যের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে নিয়োগসংক্রান্ত ‘অনিয়মের’ অভিযোগ তুলে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয় ছাত্রদল। সময়সীমা শেষ হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক সাড়া না পাওয়ায় বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলে সংগঠনটি।

বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ অগাস্ট পরবর্তী যে অস্বচ্ছ নিয়োগ ও অনিয়ম হয়েছে, সেটি নিয়ে উপাচার্যের সাথে বসেছিলাম। ওনাকে প্রশ্ন করলে উনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। উনি স্বজনপ্রীতির কথা বলে যাচ্ছিলেন।

“আমরা সর্বশেষ প্রশ্ন করেছিলাম, স্যার নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে আপনি স্বচ্ছভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া করবেন কি না? সেটির উত্তর তিনি দিতে পারেননি। যার কারণে আমরা বৈঠক বর্জন করে চলে এসেছি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তীতে আরও কঠোর পদক্ষেপে যাবো।”

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের সামনে ছয় ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদল। সেদিনই নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

রোববার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর অনুষ্ঠিত বৈঠকে নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়ম ছাড়াও দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, আবাসন সংকট, গুপ্ত হামলা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ একাধিক বিষয় উত্থাপন করেন ছাত্রদল নেতারা।

আলোচনার এক পর্যায়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক কামাল উদ্দিন বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় স্টেকহোল্ডার। আমরা নানা রকম সুযোগ সুবিধা দিতে পারি নাই। তাদের দাবির মধ্যে অনেক যৌক্তিক দাবি আছে। এগুলোর বিক্ষিপ্তভাবে উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। আপনারা সকল দাবি লিখে নিয়ে আসুন। আমরা এগুলো নিয়ে কাজ করবো।”

এ সময় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান উপাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানতে চান, অস্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হওয়া নিয়োগগুলো বাতিল করা হবে কি না। এর জবাবে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, “নিয়োগের ব্যাপারে আমার জানামতে কোন ব্যত্যয় হয়নি। যা কিছু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুয়ায়ী হয়েছে।”

উপাচার্যের এ বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, “নিয়োগের বিষয়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে আজকে আমরা ছাত্রদল প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চাইতে গিয়েছিলাম। আমাদের আবাসন, যাতায়াত ব্যবস্থা, মবের শিকার শিক্ষার্থী, নারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেনস্থা এসকল বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।”

তিনি আরও বলেন, “আজকে উপাচার্য অন্যায়, অনিয়মের বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। আমাদের আহ্বান ছিল, উনি যদি জবাব দিতে না পারেন, তাহলে নৈতিকভাবে পদত্যাগ করা উচিত।”

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

চবিতে নিয়োগ বিতর্ক: প্রশাসনের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না ছাত্রদল, করলেন সভা বর্জন

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে বসেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বৈঠক বর্জন করে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

রোববার (১৮ জানুয়ারী) বেলা সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত উপাচার্যের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে নিয়োগসংক্রান্ত ‘অনিয়মের’ অভিযোগ তুলে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয় ছাত্রদল। সময়সীমা শেষ হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক সাড়া না পাওয়ায় বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলে সংগঠনটি।

বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ অগাস্ট পরবর্তী যে অস্বচ্ছ নিয়োগ ও অনিয়ম হয়েছে, সেটি নিয়ে উপাচার্যের সাথে বসেছিলাম। ওনাকে প্রশ্ন করলে উনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। উনি স্বজনপ্রীতির কথা বলে যাচ্ছিলেন।

“আমরা সর্বশেষ প্রশ্ন করেছিলাম, স্যার নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে আপনি স্বচ্ছভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া করবেন কি না? সেটির উত্তর তিনি দিতে পারেননি। যার কারণে আমরা বৈঠক বর্জন করে চলে এসেছি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তীতে আরও কঠোর পদক্ষেপে যাবো।”

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের সামনে ছয় ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদল। সেদিনই নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

রোববার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর অনুষ্ঠিত বৈঠকে নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়ম ছাড়াও দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, আবাসন সংকট, গুপ্ত হামলা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ একাধিক বিষয় উত্থাপন করেন ছাত্রদল নেতারা।

আলোচনার এক পর্যায়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক কামাল উদ্দিন বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় স্টেকহোল্ডার। আমরা নানা রকম সুযোগ সুবিধা দিতে পারি নাই। তাদের দাবির মধ্যে অনেক যৌক্তিক দাবি আছে। এগুলোর বিক্ষিপ্তভাবে উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। আপনারা সকল দাবি লিখে নিয়ে আসুন। আমরা এগুলো নিয়ে কাজ করবো।”

এ সময় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান উপাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানতে চান, অস্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হওয়া নিয়োগগুলো বাতিল করা হবে কি না। এর জবাবে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, “নিয়োগের ব্যাপারে আমার জানামতে কোন ব্যত্যয় হয়নি। যা কিছু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুয়ায়ী হয়েছে।”

উপাচার্যের এ বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, “নিয়োগের বিষয়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে আজকে আমরা ছাত্রদল প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চাইতে গিয়েছিলাম। আমাদের আবাসন, যাতায়াত ব্যবস্থা, মবের শিকার শিক্ষার্থী, নারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেনস্থা এসকল বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।”

তিনি আরও বলেন, “আজকে উপাচার্য অন্যায়, অনিয়মের বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। আমাদের আহ্বান ছিল, উনি যদি জবাব দিতে না পারেন, তাহলে নৈতিকভাবে পদত্যাগ করা উচিত।”

এমআর/সবা