০৪:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের ট্রানজিট, স্টাসিয়া শান্তে শুধু বাহক

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে কোকেনসহ ধরা পড়া বাহামা নাগরিক স্টাসিয়া শান্তে রোলি শুধু বাহকই। তবে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদেও তার গন্তব্য ও উদ্দেশ্য উদঘাটন হয়নি।

ধারণা করা হচ্ছে, স্টাসিয়া আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী চক্রে জড়িত হয়ে কোকেন বাহক হিসেবে বাংলাদেশের রুট ব্যবহার করেছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘স্টাসিয়া জানিয়েছেন তিনি বাহামার একটি স্টোরে বিক্রয়কর্মী। তিনি অবিবাহিত। তার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে বাংলাদেশে এসেছেন। এর বাইরে তার কাছ থেকে অন্য কোনো তথ্য জানা যায়নি। তবে আমরা ধারণা করছি, কোকেন চোরাচালানকারী চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা করছিলেন। এখানে এই মাদকের ব্যবহার না থাকায় আমরা আপত দৃষ্টিতে বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি ধারণা করছি।’

তার পাসপোর্টে কোন কোন দেশের ভিসা আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তিনি ব্রাজিলে গিয়ে এই চক্রের সাথে জড়িত হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। তার পাসপোর্টে দুবাইয়ের ভিসা আছে। তিনি দুবাই থেকে বাংলাদেশে এসেছেন অন-এরাইভাল ভিসা নিয়ে। এরপরে তার গন্তব্য কোথায় সেটা জানার জন্য তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে একজন আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) নির্বাচন করে তদন্ত করা হবে। তদন্তে এই চক্রের সাথে কারা জড়িত সেটাও জানার চেষ্টা করা হবে।’

তিনি বলেন,’গোয়েন্দা তথ্যের সূত্রে যৌথভাবে গত ১২ জুলাই থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে কোকেন বাহক স্টাসিয়া শান্তে রোলি এর জন্য যৌথভাবে অপেক্ষা করতে থাকেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশের একটি দল। ১৩ জুলাই সকাল ৮টায় স্টাসিয়া শান্তে রোলি ফ্লাই দুবাইয়ের একটি (FZ0563) ফ্লাইটে করে দুবাই থেকে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে অবতরণ করেন। ওই সময় তার কাছে কোনো ব্যাগেজ ছিল না। তিনি স্বাভাবিক নিয়মে বিমানবন্দর ত্যাগ করে আগ্রাবাদ হোটেলে অবস্থান করেন। ১৫ জুলাই তিনি তাঁর ব্যাগেজ নিতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আসলে ব্যাগ তল্লাশি করে একটি কার্টুনের ভেতর প্রায় ৫শ-৬শ গ্রাম ওজনের ৭ টি পলি প্যাকেট থেকে মোট ৩ কেজি ৯শ গ্রাম কোকেন আটক করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর আইনের আওতায় নগরের পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া স্টাসিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জের ধরে কোকেনের বাংলাদেশে অবস্থান গ্রাহকদের নজরদারিতে রেখে সংশ্লিষ্ট আরও ২ জন নাইজেরিয়ানকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের এই মামলায় গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হবে।’

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক সংস্থার গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রোপলিটন উত্তর বিভাগের একটি টিম বাংলাদেশের মধ্যে বৃহৎ চালান ৮ কেজি ৩শ গ্রাম কোকেনসহ বিদেশি ৬ জন নাগরিক ও ২ জন দেশী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের ট্রানজিট, স্টাসিয়া শান্তে শুধু বাহক

আপডেট সময় : ০৬:১৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে কোকেনসহ ধরা পড়া বাহামা নাগরিক স্টাসিয়া শান্তে রোলি শুধু বাহকই। তবে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদেও তার গন্তব্য ও উদ্দেশ্য উদঘাটন হয়নি।

ধারণা করা হচ্ছে, স্টাসিয়া আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী চক্রে জড়িত হয়ে কোকেন বাহক হিসেবে বাংলাদেশের রুট ব্যবহার করেছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘স্টাসিয়া জানিয়েছেন তিনি বাহামার একটি স্টোরে বিক্রয়কর্মী। তিনি অবিবাহিত। তার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে বাংলাদেশে এসেছেন। এর বাইরে তার কাছ থেকে অন্য কোনো তথ্য জানা যায়নি। তবে আমরা ধারণা করছি, কোকেন চোরাচালানকারী চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা করছিলেন। এখানে এই মাদকের ব্যবহার না থাকায় আমরা আপত দৃষ্টিতে বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি ধারণা করছি।’

তার পাসপোর্টে কোন কোন দেশের ভিসা আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তিনি ব্রাজিলে গিয়ে এই চক্রের সাথে জড়িত হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। তার পাসপোর্টে দুবাইয়ের ভিসা আছে। তিনি দুবাই থেকে বাংলাদেশে এসেছেন অন-এরাইভাল ভিসা নিয়ে। এরপরে তার গন্তব্য কোথায় সেটা জানার জন্য তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে একজন আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) নির্বাচন করে তদন্ত করা হবে। তদন্তে এই চক্রের সাথে কারা জড়িত সেটাও জানার চেষ্টা করা হবে।’

তিনি বলেন,’গোয়েন্দা তথ্যের সূত্রে যৌথভাবে গত ১২ জুলাই থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে কোকেন বাহক স্টাসিয়া শান্তে রোলি এর জন্য যৌথভাবে অপেক্ষা করতে থাকেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশের একটি দল। ১৩ জুলাই সকাল ৮টায় স্টাসিয়া শান্তে রোলি ফ্লাই দুবাইয়ের একটি (FZ0563) ফ্লাইটে করে দুবাই থেকে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে অবতরণ করেন। ওই সময় তার কাছে কোনো ব্যাগেজ ছিল না। তিনি স্বাভাবিক নিয়মে বিমানবন্দর ত্যাগ করে আগ্রাবাদ হোটেলে অবস্থান করেন। ১৫ জুলাই তিনি তাঁর ব্যাগেজ নিতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আসলে ব্যাগ তল্লাশি করে একটি কার্টুনের ভেতর প্রায় ৫শ-৬শ গ্রাম ওজনের ৭ টি পলি প্যাকেট থেকে মোট ৩ কেজি ৯শ গ্রাম কোকেন আটক করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর আইনের আওতায় নগরের পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া স্টাসিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জের ধরে কোকেনের বাংলাদেশে অবস্থান গ্রাহকদের নজরদারিতে রেখে সংশ্লিষ্ট আরও ২ জন নাইজেরিয়ানকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের এই মামলায় গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হবে।’

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক সংস্থার গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রোপলিটন উত্তর বিভাগের একটি টিম বাংলাদেশের মধ্যে বৃহৎ চালান ৮ কেজি ৩শ গ্রাম কোকেনসহ বিদেশি ৬ জন নাগরিক ও ২ জন দেশী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন।