কুমিল্লা মেঘনা উপজেলায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে আহত অন্ততঃ ১০।
বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল থেকেই কোটা সংস্কার আন্দোলনে উপজেলার মানিকারচর বঙ্গবন্ধু কলেজের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকলে,
ছাত্রলীগ কর্মীরা সেখানে বাধা দেয় এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ সহ মারধর করে।
পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বেলা ১১ ঘটিকায় মেঘনা হাইওয়ে কমপ্লেক্স মার্কেটের সামনে জড়ো হয়। হাইওয়ে কমপ্লেক্স মার্কেটে উপস্থিত হন উপজেলা চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তাজ। চেয়ারম্যান আন্দোলনরত ছাত্রদের সাথে কথা বলেন, তার কথা শুনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যাওয়ার প্রাক্কালে চেয়ারম্যানের সামনেই , বিপরীত দিক থেকে ছাত্রলীগের কর্মীরা মেঘনা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মহসিন সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন শাহরিয়ার ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রসহ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিছু শিক্ষার্থীরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে থাকা লাঠি, হকিস্টিক ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের আঘাতে আহত হয় অন্তত ১০ জন।
গুরুতর আহত অবস্থায় ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।
সাজ্জাদ হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের উদ্দেশ্যে মানিকারচর বঙ্গবন্ধু কলেজের জড়ো হই, বিনা উস্কানিতে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা আমাদের উপর হামলা চালায়। আমরা আবারো মেঘনা হাইওয়ে কমপ্লেক্স মার্কেটের সামনে জড়ো হই। এখানেও তাদের হাতে থাকা হকিস্টিক, লাঠি ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের আঘাতে আমাদের অন্ততঃ১০ জন শিক্ষার্থীকে আহত করে। আহতরা হলেন, উপজেলার দক্ষিণ কান্দি গ্রামের মোঃ নাদিমুজ্জামান (২২), চন্দনপুর গ্রামের স্বপন মিয়া( ২০) ও রামনগর ছয়ানী গ্রামের মোহাম্মদ রিপন (১৯) বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি। এ সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান এখানে উপস্থিতও ছিলেন। উপজেলা চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তাজ বলেন, আমি আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগ কর্মীদের বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করি। আমার কথা শুনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা যার যার বাড়িতে চলে যাওয়ার প্রাক্কালে বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ছাত্রলীগ কর্মীরা শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়।
মেঘনা উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মহসিন সোহাগের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মেঘনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ দেলোয়ার হোসেন আমাদের সংবাদদাতা কে বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি, ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। এখনো স্পষ্ট করে বলতে পারছি না কে কার উপর হামলা করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত বলা যাবে।























