০৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বঞ্চনার কথা জানাতে গেলে মাইক বন্ধ

নীতি আয়োগের বৈঠক বর্জন মমতার

ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটে বঞ্চনার প্রতিবাদে সব বিরোধী মুখ্যমন্ত্রী নীতি আয়োগের (আগের নাম যোজনা কমিশন) বৈঠক বর্জন করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন; কিন্তু বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সেই বৈঠক থেকে মাঝপথে তিনিও বেরিয়ে এলেন। গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকা সেই বৈঠক থেকে ওয়াক আউট করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বলেন, সরকারপক্ষের মুখ্যমন্ত্রীদের ১০ থেকে ২০ মিনিট বলতে দেওয়া হলেও তাকে বরাদ্দ করা হয় মাত্র পাঁচ মিনিট। তাও মাঝপথে মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। একজন মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে এটা অপমানজনক।
এই বৈঠক বর্জন করেছিলেন তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক ও হিমাচল প্রদেশের তিন কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী যথাক্রমে রেবন্ত রেড্ডি, সিদ্দারামাইয়া ও সুখবিন্দর সিং সুখু। গরহাজির ছিলেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক মুখ্যমন্ত্রীরাও। যেমন তামিলনাড়ুর ডিএমকে মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন, ঝাড়খন্ডের জেএমএম মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, পাঞ্জাবের আম আদমি পার্টির মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান ও কেরালার সিপিএম মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল কারাগারে। তার যোগ দেওয়ার প্রশ্ন ছিল না। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তার অভিযোগ, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সবার সঙ্গে আলোচনা না করে কংগ্রেস এককভাবে এই বৈঠক বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ততক্ষণে তিনি বৈঠকে হাজির থাকবেন বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন। তাই যাবেন।
মমতা অবশ্য জানিয়েছিলেন, বৈঠকে তিনি বিরোধীদের প্রতিনিধিত্ব করে জানাবেন, কীভাবে বিরোধী রাজ্যগুলোকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বঞ্চিত করছে। কিন্তু সে কথাও তাকে বলতে দেওয়া হলো না। মাঝপথে মাইক বন্ধ করে দেওয়া হলো।
মমতা আগেই বলেছিলেন, নীতি আয়োগ বন্ধ করে পুরোনো যোজনা কমিশন ফেরত আনা উচিত। বৈঠক থেকে বেরিয়ে মমতা বলেন, আর কোনো দিন তিনি নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দেবেন না।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে মাইক বন্ধ করার আগে বলেছি, কীভাবে বিরোধীশাসিত রাজ্যগুলোকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ন্যায্য দাবি মানা হচ্ছে না। অথচ প্রতিটি রাজ্যের ও আঞ্চলিক দলের নানা আকাক্সক্ষা থাকে। রাজ্য শক্তিশালী হলেই দেশ শক্তিশালী হয়। বিরোধীদের পক্ষে একমাত্র আমিই এখানে উপস্থিত আছি। এসেছি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো মজবুত করার কথা বলতে। অথচ বাজেটে বিরোধী রাজ্যগুলোকে চরম বঞ্চনা করা হলো।
মমতার অভিযোগ অবশ্য নস্যাৎ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) গতকাল ‘এক্স’ মারফত জানায়, নীতি আয়োগের নবম গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাইক বন্ধ করা হয়নি। ঘড়িতে শুধু দেখানো হয়েছিল, তার বলার সময় শেষ হয়ে গেছে। কথাটি ঘন্টি বাজিয়ে তাকে জানানো হয়নি। মমতার অভিযোগ, তাকে মাত্র পাঁচ মিনিট বলতে দেওয়া হলেও অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুকে ২০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। আসাম, গোয়া, ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীরা বলেছেন ১০ থেকে ১২ মিনিট।

নিকোলা মাদুরোকে নিউইয়র্কের আদালতে নেওয়া হচ্ছে

বঞ্চনার কথা জানাতে গেলে মাইক বন্ধ

নীতি আয়োগের বৈঠক বর্জন মমতার

আপডেট সময় : ০৮:১০:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুলাই ২০২৪

ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটে বঞ্চনার প্রতিবাদে সব বিরোধী মুখ্যমন্ত্রী নীতি আয়োগের (আগের নাম যোজনা কমিশন) বৈঠক বর্জন করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন; কিন্তু বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সেই বৈঠক থেকে মাঝপথে তিনিও বেরিয়ে এলেন। গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকা সেই বৈঠক থেকে ওয়াক আউট করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বলেন, সরকারপক্ষের মুখ্যমন্ত্রীদের ১০ থেকে ২০ মিনিট বলতে দেওয়া হলেও তাকে বরাদ্দ করা হয় মাত্র পাঁচ মিনিট। তাও মাঝপথে মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। একজন মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে এটা অপমানজনক।
এই বৈঠক বর্জন করেছিলেন তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক ও হিমাচল প্রদেশের তিন কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী যথাক্রমে রেবন্ত রেড্ডি, সিদ্দারামাইয়া ও সুখবিন্দর সিং সুখু। গরহাজির ছিলেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক মুখ্যমন্ত্রীরাও। যেমন তামিলনাড়ুর ডিএমকে মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন, ঝাড়খন্ডের জেএমএম মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, পাঞ্জাবের আম আদমি পার্টির মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান ও কেরালার সিপিএম মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল কারাগারে। তার যোগ দেওয়ার প্রশ্ন ছিল না। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তার অভিযোগ, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সবার সঙ্গে আলোচনা না করে কংগ্রেস এককভাবে এই বৈঠক বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ততক্ষণে তিনি বৈঠকে হাজির থাকবেন বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন। তাই যাবেন।
মমতা অবশ্য জানিয়েছিলেন, বৈঠকে তিনি বিরোধীদের প্রতিনিধিত্ব করে জানাবেন, কীভাবে বিরোধী রাজ্যগুলোকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বঞ্চিত করছে। কিন্তু সে কথাও তাকে বলতে দেওয়া হলো না। মাঝপথে মাইক বন্ধ করে দেওয়া হলো।
মমতা আগেই বলেছিলেন, নীতি আয়োগ বন্ধ করে পুরোনো যোজনা কমিশন ফেরত আনা উচিত। বৈঠক থেকে বেরিয়ে মমতা বলেন, আর কোনো দিন তিনি নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দেবেন না।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে মাইক বন্ধ করার আগে বলেছি, কীভাবে বিরোধীশাসিত রাজ্যগুলোকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ন্যায্য দাবি মানা হচ্ছে না। অথচ প্রতিটি রাজ্যের ও আঞ্চলিক দলের নানা আকাক্সক্ষা থাকে। রাজ্য শক্তিশালী হলেই দেশ শক্তিশালী হয়। বিরোধীদের পক্ষে একমাত্র আমিই এখানে উপস্থিত আছি। এসেছি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো মজবুত করার কথা বলতে। অথচ বাজেটে বিরোধী রাজ্যগুলোকে চরম বঞ্চনা করা হলো।
মমতার অভিযোগ অবশ্য নস্যাৎ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) গতকাল ‘এক্স’ মারফত জানায়, নীতি আয়োগের নবম গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাইক বন্ধ করা হয়নি। ঘড়িতে শুধু দেখানো হয়েছিল, তার বলার সময় শেষ হয়ে গেছে। কথাটি ঘন্টি বাজিয়ে তাকে জানানো হয়নি। মমতার অভিযোগ, তাকে মাত্র পাঁচ মিনিট বলতে দেওয়া হলেও অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুকে ২০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। আসাম, গোয়া, ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীরা বলেছেন ১০ থেকে ১২ মিনিট।