দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মৃদু তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী ৪/৫দিন এমন অবস্থা বিরাজ করবে। প্রচন্ড গরম আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। প্রচন্ড গরমে সাধারণ ও কর্মজীবী মানুষেরা অস্বস্তিতে পড়েছেন। তাপমাত্রা জনিত কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। প্রখর রোদে ঘাম ঝরানো তাপমাত্রার কারণে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষজন চরম বিপাকে। বিশেষ করে তীব্র রোদের তাপের কারণে দিন মজুর, রিকশাচালক, ঠেলা ও ভ্যানচালকরা কাজে করতে পারছেন না।
ফলে তাপদাহে অনেকে অলস সময়ও পার করতে দেখা গেছে। আবার অনেকেই জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রচন্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে কাজে করছেন। তীব্র ভ্যাপসা গরমে বয়স্ক ও শিশুরা পড়েছে বেশি ভোগান্তিতে । একটু স্বস্তি পেতে ঠান্ডা শরবত,পানি, আইসক্রীম খেয়ে তৃষ্ণা মেটানোর চেষ্টা সাধারণ মানুষের। গেল এক সপ্তাহ ধরে এই জেলায় তাপমাত্রা গড়ে ৩৪/৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। আগামী ৪/৫ দিন এমন তাপমাত্রা বিরাজ করার পরে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত কমে আসায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জীব-বৈচিত্রের উপরও।
একটু শীতলতার জন্য শিশু-কিশোর সকলেই পুকুর-নদী,বিলে কিংবা গাছের ছায়ায় অবস্থান করছে।
অনেকে আবার ঘন ঘন ঠান্ডা পানিতে গোসল করছে। অসহনীয় প্রচন্ড ভ্যাপসা গরমে গ্রামাঞ্চল কিংবা শহরে শিশু,বয়স্কদের জ্বর-সর্দি ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। তাপের কারণে নানা বয়সিদের দেখা দিয়েছে চর্ম রোগও।
ভ্যান চালক বাবুল চন্দ্র বর্মন জানান , গত এক সপ্তাহে গরম কারণে ঠিকমতো কাজে যেতে পাচ্ছি না।একদিকে কারফিউ অন্য দিকে গরমে আয় কমে গেছে। জিনিস পাতির যে দাম তাতে করে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
বুলবুলি আখতার বলেন, প্রচন্ড গরম পড়েছে। বাচ্চা নিয়ে খুবই সমস্যায় আছি। ঘরের মধ্যে থাকায় যায় না। গা জ্বলে। ফাঁকা স্থানেও কোন বাতাস নেই। দিন ও রাতের গরম সমান ভাবে বয়ে যাচ্ছে। এতে ছোট বড় মানুষ জ্বর-সর্দি ও কাশিতে ভুকছে। জানি না কবে বৃষ্টির দেখা মিলবে।
কৃষক সামাদ মিয়া বলেন,শ্রাবণ মাসেও তেমন বৃষ্টির দেখা নেই। প্রচন্ড রোদের তাপে জমির মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে। পানির অভাবে বীজতলা গুলো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এমন তাপমাত্রার কারণে আবাদে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যেবক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, গেল এক সপ্তাহ ধরে কুড়িগ্রামে মৃদু তাপমাত্রা এবং ভ্যাপসা গরম অনুভত হচ্ছে। যা আগামী ৪/৫দিন বিরাজ করবে। এবং এরপর বৃষ্টির দেখা পাওয়া যাবে। এতে করে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে।























