শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে পাহাড়ী ঢলে একটি ব্রিজ ধ্বসে পড়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে দুই গ্রামের হাজারো মানুষ।
জানা গেছে, নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী বারমারী বাজারের উত্তর বুরুঙ্গা চেল্লাখালী সেতু সংলগ্ন শান্তীর মোড় চৌরাস্তা থেকে আন্দারুপাড়া গ্রামের পাহাড়ি অংশ ও কোচপল্লী খলচান্দা গ্রামের মানুষের যাতায়াত সুবিধার্থে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন কর্তৃক একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ হয়েছিলো । গত কয়েক বছরে উক্ত ব্রিজটির উপর দিয়ে ব্রিজের ধারণ ক্ষমতার বেশি ওজনের বালুবাহী ট্রাক যাতায়াত করার ফলে ব্রিজটি ডেবে যায়। সম্প্রতি পাহাড়ী ঢলের কারণে ব্রিজটি আর বেশি ডেবে যাওয়ায় ব্রিজটি দিয়ে আর মানুষের চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিপর্যয়ে পড়ে গেছে গ্রামের মানুষগুলো। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং চিকিৎসার জন্য বয়স্ক মানুষদের সময়মতো গন্তব্যে পৌছা যেনো এখন অসম্ভব।
এলাকাবাসী জানান, ব্রিজটি মেরামতের জন্য বারবার বলা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো সাড়া পাচ্ছে না।
গত কয়েক বছরে এই ব্রিজটি ব্যাপক হারে ডেবে যাওয়ায় এবং ঝর্ণায় পানির চাপের কারনে ব্রিজটি যেনো এক মৃত্যুর খাদে পরিনত হয়েছে এবং সেখান দিয়ে যাতায়াত করা যেনো অসম্ভব হয়ে গেছে।
সর্বশেষ ব্রিজটি ধ্বসে পরার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও এলাকার চাষিরা। বিকল্প কোনো যাতায়াতের পথ না থাকায়, এই ব্রিজের উপর দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে পার হচ্ছেন গ্রামবাসীসহ কোমলমতি শিশু-বৃদ্ধরা।
আন্ধারুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জুলফিকার আলী জানান, এ ব্রিজটির ওপর দিয়ে তাদের উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। ব্রিজটি ধসে পড়ায় এখন আর কোনো যানবাহন নিয়ে যাতায়াত করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি যাওয়া সহ নিজেদের ছোট বাচ্চাদের কাঁধে করে এই ব্রিজের অংশটুকু পাড় করে দিতে হচ্ছে।
একই এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ও রফলা সাংমা জানান, এ ব্রিজটিতে মানুষ উঠলেই সবাই আতঙ্কে থাকে এখন। অথচ ব্রিজটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা এগিয়ে আসছে না।
এ এলাকায় প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপাদন হয়ে থাকে। এখানকার চাষিরা ধান বিক্রি করতে চাইলেও শুধুমাত্র ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের কারণে কোনো পরিবহন নিতে না পারায় ধান বিক্রি করতে পারছেনা।
নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, এখানে বক্স কালভার্ট নির্মাণ করলে না টিকে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তাই গত বছর ব্রিজটি ডেবে যাওয়ার পর পাইলসহ একটি গার্ডার ব্রিজের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি অনুমোদন পেয়ে যাবো। আর অনুমোদন পেলেই ওই ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।























