কেশবপুরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা কেশবপুর পৌর ভবন, উপজেলা পরিষদ, আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়সহ সরকারি স্থাপনা ও পাঁচ শতাধিক মোটর সাইকেল আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। এসময় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের অফিসাররা অফিস বন্ধ করে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে আশ্রয় নেন।
স্থানীয়রা জানান, কেশবপুরে রোববার বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ত্রিমোহিনী মোড়ে শহিদ দৌলত বিশ্বাস চত্বরে এসে অবস্থান নেয়। পরে শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান করে যশোর-চুকনগর অবরোধ করে রাখে। ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লেকার্ড হাতে হাজারো শিক্ষার্থী মিছিল ও সমাবেশকালে বিভিন্ন স্লোগান দেয়ার পাশাপাশি সারাদেশে নিরীহ ছাত্রছাত্রীর উপর অতর্কিত হামলা এবং হত্যার প্রতিবাদ জানায়। এসময় এমপি আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে পৌর কাউন্সিলর জিএম কবির হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক জি এম হোসেন, খন্দকার শরিফুল ইসলাম প্রথমে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা করলে তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এসময় ৪ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। বিক্ষোভকারীরা শহরে পৌরসভার পক্ষ হতে দেয়া প্রায় ৪ হাজার ডাস্টবিন ভেঙ্গে সড়কের উপরে অগ্নি সংযোগ করে। পরে তারা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করে এবং অফিসের সামনে রাখা ১৫ টির মতো মোটর সাইকেল আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে তারা পৌরভবন, গ্যারেজে রাখা গাড়ি, স্কোভেটার, মোটর সাইকেলসহ অন্যান্য গাড়িতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এরপর আন্দোলনকারীরা উপজেলা পরিষদের ভবনে ভাঙচুর, অর্ধশতাধিক মোটর সাইকেল, চারশতাধিক বাইসাইকেল আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা কেশবপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর করে অগ্নি সংযোগ করে। শহরে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। এসময় কেশবপুর থানার পুলিশ থানার ভিতরে অবস্থান নেয়। হামলাকারীদের হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮ জন। আন্দোলনকারীদের সাথে জামায়াত বিএনপির কর্মীরা মিশে তান্ডব চালায়। তারা কেশবপুর প্রেসক্লাব ভবন, পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসে হামলা করে ভাঙচুর করে অগ্নি সংযোগ করে।























