১২:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাড়ি ভাঙিল ভাঙিল ফসলি জমিগুলাও ভাঙি গেল

কয়েক দিন থাকি সরকারি লোকক খরব দিয়া পাঠাইচোল একনা কায়ও ভুল করিয়াও ভুলকি মারিবার আসিল না বাহে। ৮ দিন থাকি মরণের তিস্তার ভাঙন শুরু হইছে। কেনো মেম্বার বা চেয়ারম্যান যদি আসি দেখিল হায়। বাড়ি ভাঙি বাঁধের ধারত ফ্যালে থুছি সরকারের কেনো একটা জনপ্রাণিও আসিল না দেখিবার, দ্যাশত থাকি কি সরকারি লোকজন চলি গেইছে? এভাবেই এসবকথা বলেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চর ইচলি গ্রামের দুদু মিয়া। তিস্তর ভাঙন হুমকিতে ঘর-বাড়ি সাড়িয়ে নিয়ে রাস্তার ধাওে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। গঙ্গাচড়ায় আবারও তিস্তা নদীতে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। তিস্তার পানি কম থাকলেও গত ৮দিনে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে ৭/৮টি পরিবারের ঘর-বাড়ি ও কয়েক শত একর ফসলি জমি। চলতি বর্ষা মৌসুমে তিস্তা এগিয়ে এসেছে লালমনিরহাটের কাকিনা-রংপুর সড়কের হাফ কিলোমিটার কাছে। এলাকাবাসী বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলেই তিস্তা নদী আঘাত হানতে পাওে কাকিনা-রংপুর সড়কটিতে। এতে তিন গ্রামের দেড় হাজার পরিবারসহ ক্ষতি হতে পারে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত গঙ্গাচড়ার মহিপুর শেখ হাসিনা সেতুটিরও। গঙ্গাচড়া মহিপুর শেখ হাসিনা সেতুর পশ্চিম পাশের সেতু রক্ষা বাঁধের মোকা থেকে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের পূর্ব ইচলিগ্রাম পর্যন্ত তিস্তার তীরবর্তী প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিদিনেই তিস্তার গর্ভে বিলীন হচ্ছে মানুষের শত শত একর ফসলি জমি। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মোন্নাফ মিয়া বলেন, আমরা প্রায় ১০-১২ দিন থেকে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করে জানানো হচ্ছে। তিনি লোক পাঠাতে চেয়েও কেনো লোক পাঠাননি। কয়েক দিনে আগেও তিস্তা নদীর ভাঙন আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ছিল, এই কয়েক দিনেই ভাঙতে ভাঙতে আমাদের বাড়ির কাছাকাছি চলে এসেছে। এখন কাকিনা-রংপুর সড়ক থেকে মাত্র হাফ কিলোমিটার কাছেই চলে এসেছে তিস্তা নদী। উজানে বৃষ্টি হলেই তিস্তা চলে এসে আঘাত হানবে মেইন সড়কে। একই গ্রামের আলিমুদ্দিন বলেন, কয়েক দিনের ভাঙনে হামার ভিটামাটি তিস্তা নদীতে বিলীন হয়া গেল বাহে। বাড়ি ভাঙিল ভাঙিল ফসলি জমিগুলাও ভাঙি গেল। সরকারি কেনো লোকজনের দেখা না পেয়া নিজে নিজেই হামরাগুলা গাছ, বাঁশ কাটি ফ্যালে দিয়া ভাঙন আটকানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু কেনো কাজ হয় চোল না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ তামান্নাবলেন, আমি বিষয়টি জেনে ইঞ্জিনিয়ারকে পাঠিয়েছিলাম। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়ি ভাঙিল ভাঙিল ফসলি জমিগুলাও ভাঙি গেল

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪

কয়েক দিন থাকি সরকারি লোকক খরব দিয়া পাঠাইচোল একনা কায়ও ভুল করিয়াও ভুলকি মারিবার আসিল না বাহে। ৮ দিন থাকি মরণের তিস্তার ভাঙন শুরু হইছে। কেনো মেম্বার বা চেয়ারম্যান যদি আসি দেখিল হায়। বাড়ি ভাঙি বাঁধের ধারত ফ্যালে থুছি সরকারের কেনো একটা জনপ্রাণিও আসিল না দেখিবার, দ্যাশত থাকি কি সরকারি লোকজন চলি গেইছে? এভাবেই এসবকথা বলেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চর ইচলি গ্রামের দুদু মিয়া। তিস্তর ভাঙন হুমকিতে ঘর-বাড়ি সাড়িয়ে নিয়ে রাস্তার ধাওে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। গঙ্গাচড়ায় আবারও তিস্তা নদীতে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। তিস্তার পানি কম থাকলেও গত ৮দিনে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে ৭/৮টি পরিবারের ঘর-বাড়ি ও কয়েক শত একর ফসলি জমি। চলতি বর্ষা মৌসুমে তিস্তা এগিয়ে এসেছে লালমনিরহাটের কাকিনা-রংপুর সড়কের হাফ কিলোমিটার কাছে। এলাকাবাসী বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলেই তিস্তা নদী আঘাত হানতে পাওে কাকিনা-রংপুর সড়কটিতে। এতে তিন গ্রামের দেড় হাজার পরিবারসহ ক্ষতি হতে পারে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত গঙ্গাচড়ার মহিপুর শেখ হাসিনা সেতুটিরও। গঙ্গাচড়া মহিপুর শেখ হাসিনা সেতুর পশ্চিম পাশের সেতু রক্ষা বাঁধের মোকা থেকে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের পূর্ব ইচলিগ্রাম পর্যন্ত তিস্তার তীরবর্তী প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিদিনেই তিস্তার গর্ভে বিলীন হচ্ছে মানুষের শত শত একর ফসলি জমি। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মোন্নাফ মিয়া বলেন, আমরা প্রায় ১০-১২ দিন থেকে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করে জানানো হচ্ছে। তিনি লোক পাঠাতে চেয়েও কেনো লোক পাঠাননি। কয়েক দিনে আগেও তিস্তা নদীর ভাঙন আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ছিল, এই কয়েক দিনেই ভাঙতে ভাঙতে আমাদের বাড়ির কাছাকাছি চলে এসেছে। এখন কাকিনা-রংপুর সড়ক থেকে মাত্র হাফ কিলোমিটার কাছেই চলে এসেছে তিস্তা নদী। উজানে বৃষ্টি হলেই তিস্তা চলে এসে আঘাত হানবে মেইন সড়কে। একই গ্রামের আলিমুদ্দিন বলেন, কয়েক দিনের ভাঙনে হামার ভিটামাটি তিস্তা নদীতে বিলীন হয়া গেল বাহে। বাড়ি ভাঙিল ভাঙিল ফসলি জমিগুলাও ভাঙি গেল। সরকারি কেনো লোকজনের দেখা না পেয়া নিজে নিজেই হামরাগুলা গাছ, বাঁশ কাটি ফ্যালে দিয়া ভাঙন আটকানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু কেনো কাজ হয় চোল না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ তামান্নাবলেন, আমি বিষয়টি জেনে ইঞ্জিনিয়ারকে পাঠিয়েছিলাম। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।