◉ জুলাই বিপ্লবের ফলে পরীক্ষা না হওয়ার মূল কারন
◉ ৩০০ নম্বরের বদলে মূল্যায়ন হবে ২০০ নম্বরে
◉ তিন ধাপে পরিশোধ করা যাবে ভর্তি ফি
আগামী ১৭ জানুয়ারি মেডিকেল কলেজসমূহের এমবিবিএদ ভর্তি পরীক্ষা এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতিসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বড় পরবর্তন আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার মূল্যায়নে নম্বর কমানোসহ ফি পরিশোধে শিক্ষার্থীদের সুবিধা দিতে কিস্তি পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসাথে প্রশ্নপত্র প্রণয়নে সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় এতদিন এইচএসসি পরীক্ষার ১২৫, এসএসসি পরীক্ষার ৭৫ নম্বরের সঙ্গে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার নম্বর যোগ করে মোট ৩০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি করা হতো। তবে এবার এই মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এমসিকিউ পরীক্ষার নম্বর ১০০ অপরিবর্তিত থাকলেও এইচএসসি ও এসএসসির জিপিএ ভিত্তিতে নেয়া নম্বরের পরিমান মূলায়নে কমানো হচ্ছে। এইচএসসি পরীক্ষার আগের ১২৫ নম্বর থ্বক্ব কমে এবার ৫০ হচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষার নম্বরও ৭৫ থেকে কমে ৫০ হচ্ছে।
সূত্রে আরো জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের সময় এইচএসসির বেশ কিছু পরীক্ষা নিউতে পারেনি সরকার। এর মধ্যে রসায়ন, বায়োলজির মতো বিষয়গুলোরও পরিক্ষা নেয়া যায়নি। মেডিকেল শিক্ষার ক্ষেত্রে এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। এবার যেহেতু পরীক্ষা হয়নি, তাই এসএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে এইচএসসিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। এজন্য এবার মেডিকেল ভর্তি বপরীক্ষার মূল্যায়নে এইচএওসি পরীক্ষার নম্বরউল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। কমানো হয়েছে এইচসসির ও্যেেজসও। হলে আগে দুই বোর্ড পরীক্ষা মিলিয়ে মূল্যায়নের নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ করা হয়েছে। মোত মূল্যায়নের নম্বর ৩০০ থেকে কমিয়ে ২০০ করা হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, এবারের ভর্তি পরীক্ষায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে নম্বরের ক্ষেত্রে। পরীক্ষার্থীদের আগের মতোই এক ঘণ্টায় ১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এর সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসচি বা সমমানের পরীক্ষা থেকে ৫০ করে আরও ১০০ নম্বর নিয়ে মোত ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধা তালিকা করা হবে। এতদিন এতদিন এইচএসসির ১২৫, এসএসসির ৭৫ নম্বরের সঙ্গে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ– এই ৩০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি করা হতো। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে আরো জানা গেছে, শুধু মূল্যায়ন পদ্ধতিতে নয় শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি পরিশোধের প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগে মেডিকেলে ভর্তির জন্য ডেভেলপমেন্ট ফি এবং অন্যান্য ফিসহ পুরো টাকা একসঙ্গে দিতে হতো। এত পরিমাণ টাকা একসঙ্গে দেওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ত। শিক্ষার্থীদের ওপর যেন অর্থনৈতিক চাপ একবারে না পড়ে, সে জন্য তিন ধাপে কিস্তিতে ফি পরিশোধের ব্যবিস্থা রাখা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীরা তিন ধাপে দিতে পারবেন এই ফি। এর মধ্যে ভর্তির সময় ৬০ শতাংশ, প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষার আগে ২০ শতাংশ, আর বাকি ২০ শতাংশ তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার আগে দিতে পারবে। এই পদ্ধতি শুধু সরকারি মেদিকেল কলেজ নয় বেসরাকারি মেডিকেল কলেজ গুলোতেও কার্যকর হবে।
এবিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রুবিনা ইয়াসমিন বলেন, এবার ইনস্টলমেন্টের মাধ্যমে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ফি দিতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। এটা তাদের জন্য একটা বড় স্বস্তির জায়গা। এইচএসসি পরীক্ষায় কোনো ইমপ্রুভমেন্ট থাকলেও ওরাও ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবে। এটা একটা নতুন পরিবর্তন।
এদিকে ভর্তি পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন ও ফি পরিশোধ প্রক্রিয়ার এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এইচএসসি পরীক্ষা থেকে মূলায়নে নম্বর কমানোয় খুশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও। এতে এইচএসসসি তে বায়োলজি পরীক্ষা না দিতে পারায় শিক্ষার্ত৫হীদের সথিক মূল্যায়ন হবে বলে আশা করছেন তারা। ভর্তি পরিক্ষার ফি পরিশধে কিস্তি পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়েচ্যহেন তারা। তবে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় প্রীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়প্নে বায়োলজি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেও্যার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তা না হলে শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়ন সঠিকভাবে হবে না বলে সতর্কতা তাদের।
রায়হান উল ইসলাম নামের এক মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার্থী বলেন, আমরা তো এইচএসসি অনেক পরীক্ষাই দিতে পারিনি। আমাদের বায়োলজি পরীক্ষাও হয়নি। এসএসসির নম্বর দিয়ে রেজালত হয়েছে। এই জায়গায় আমরা পিছিয়ে ছিলাম। এসএসসিতে ফলাফল যারা খারাপ করেছিল তাদের সেই প্রভাভ এইচিএসসির ফলেও পড়েছে ।এমন সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য সুবিধা হবে। ভর্তি পরীক্ষায় সঠিক মূল্যায়ন হবে বলে আশা করছি।
জাহাংগীর হোসেন নামের এক অভিভাবক বলেন, আগে একসাথে ভর্তি ফি পরিশোধ করতে হতো। এতো টাকা একসাথে পরিশোধ করা অভিভাব্লদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে এক্সেতো। কিস্তি পদ্ধতি চালু করলে সেতা সবার জন্য ভাল হবে।
এবিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সবসময় বায়োলজি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ঠিক সেইভাবে বায়োলজির ওপর গুরুত্ব সমান রেখে, আমরা যে লার্নিং আউটকাম প্রত্যাশা করি সেটার ওপর ভিত্তি করি কাটিংয়ের মাত্র ঠিক রেখে প্রশ্নপত্র অবশ্যই প্রণয়ন করা উচিত। তা না হলে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সঠিক মূল্যায়ন হবেনা।
























