০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনার মধ্যেই সাভারে ঘুরে বেড়াচ্ছে সাংবাদিক হত্যা চেষ্টা মামলার আসামিরা 

 ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনার মধ্যেই সাভারে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে  জিটিভির সাংবাদিক শামীম হাসান সীমান্ত (৩০) কে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামীরা।
এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও এখনো কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। যদিও পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, আসামিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে।
এদিকে মামলা তুলে নেবার জন্যে সন্ত্রাসীরা ভূক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।এদিকে সন্ত্রাসী হামলায় সাংবাদিক আহত হবার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদা।
চিহ্নিত সন্ত্রাসী সোহেল রানা ওরফে ইয়াবা সোহেল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়ে তিনি বলেন, এই সোহেল রানার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তার বাবা তাকে ত্যাজ্যপুত্র বলে ঘোষণা দিয়েছেন। নানা অপকর্মের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সোহেল রানা সিপি গ্যাংয়ের আদলে একটি বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
গত বৃহস্পতিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরী গেইটের বিপরীতে জিটিভির আশুলিয়া প্রতিনিধি শামীম হাসান সীমান্তকে প্রকাশ্যে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে দীর্ঘ দুই ঘন্টা একটি টর্চার সেলে আটকে রেখে তাদের ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর নির্যাতন। পরে তাদের উদ্ধার করে নেয়া হয় সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।আহত সাংবাদিক শামীম হাসান সীমান্ত রাজবাড়ী জেলার কালুখালী থানার সিকজান গ্রামের দুলাল মন্ডলের ছেলে।
তিনি জানান, পেশাগত তথ্য সংগ্রহের জন্যে আমি ও সহকর্মি আমিনুল ইসলাম ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর্যায়েই আশুলিয়ার ত্রাস কুখ্যাত সন্ত্রাসী সোহেল রানা ওরফে ইয়াবা রানা (৪২) ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ওপর চড়াও হয়।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোহেল রানা ওরফে ইয়াবা রানার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী সিদ্দিক ওরফে চোরা সিদ্দিক (৪৫), পলাতক সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দুই ডজন ছাত্র হত্যা মামলার আসামী মঞ্জুরুল আলম রাজীবের ঘনিষ্ঠ আল মামুন খান (৪৮), ইতোপূর্বে র‌্যাবের হাতে গ্ৰেপ্তার  ফয়জুল ইসলাম (৪০),ইমদাদুল হক (৪০), ও জাহাঙ্গীর হোসেন সাগর (৪২) আমাদের প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যায় ডেইরী গেইটের বিপরীতে চোরা সিদ্দিকের টর্চার সেলে।
সেখানে প্রায় দুই ঘন্টা আটকে রেখে সবাই মিলে আমাদের ওপর লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। এক পর্যায়ে প্রচন্ড আঘাতে আমাদের আর্ত চিকিৎকার শুনে আশেপাশের দোকানদাররা এগিয়ে আসে। তারা আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
পরদিন হাসপাতালে থেকেই থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ মামলাটি (নং-১৮) গ্রহণ করে। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিক।
তিনি জানান, আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঘটনার সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। সেখানে সাংবাদিক সাংবাদিক শামীম হাসান সীমান্ত ও তার সহকারীর ওপর হামলার বিষয়টি স্পষ্ট।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির একজন সদস্য জানান, সন্ত্রাসী সোহেল রানা ওরফে ইয়াবা রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি। তিনি জানান,পুলিশের চাহিদার আলোকে আমরা ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সরবরাহ করেছি।
পাশাপাশি আহত সাংবাদিকের বর্ননা মতে দেয়া কথিত চোরা সিদ্দিকের টর্চার সেলের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। অপরাধীদের কোন ছাড় নেই।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্টার (এস্টেট) জানান, চোরা সিদ্দিক দোকান ভাড়া নিয়ে সেখানে কথিত টর্চার সেল ও মাদকের আখড়া গড়ে তুলেছেন বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও নিরাপত্তা প্রধান জেফরুল হাসান সজল জানান,ক্যাম্পাসের সামনে একজন সাংবাদিককে তুলে নিয়ে টর্চার সেলে নির্যাতনের বিষয়টি ভাইরাল। ক্যাম্পাস ঘিরে কোন সন্ত্রাসীর নেটওয়ার্ক চলতে দেয়া যাবে না।
আহত সাংবাদিক সাংবাদিক শামীম হাসান সীমান্ত জানান,সন্ত্রাসী সোহেল রানা ওরফে ইয়াবা রানা (৪২) দীর্ঘদিন ধরে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে মাদক বিক্রির নেটওর্য়াক-ও তৈরি করেছেন তিনি। সোহেল রানা ওরফে ইয়াবা রানা আশুলিয়ার পানধোয়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী।
বাবার পরিচয়ের সূত্রেই  ইতোপূর্বে র‌্যাবের হাতে গ্ৰেপ্তার  ফয়জুল ইসলামকে নিয়ে আশুলিয়া ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এলাকায় সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন তিনি। স্থানীয় পানধোয়া গ্ৰামের বাসিন্দা আব্দুল হাই জানান, ছেলের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও মাদকে সংশ্লিষ্টটার কারনে বিব্রত সোহেল রানার পরিবার। তার বাবাও তাকে পরিত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোহেল রানার বাবা আব্দুল মান্নানন। জানান, কৈশোর থেকেই বখাটেদের খাতায় নাম লেখায় সোহেল রানা। অতিষ্ঠ হয়ে আমিও তাকে ত্যাজ্য বলে ঘোষণা দিয়েছি।সোহেল রানার হাতে নির্যাতিত জিটিভির সাংবাদিক শামীম হাসান সীমান্ত জানান,সোহেল রানা ওরফে ইয়াবা রানা সম্প্রতি আশুলিয়ার পলাশবাড়িতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোটি টাকার জায়গা দখল করে সেখানে অবৈধভাবে স্থাপনা গড়ে তুললে আমি সেই অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে নিউজ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সে আমাদের ওপর হামলা চালায়।
এর আগেও বেসরকারি একটি টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন জায়েদ আনসারীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় সে। এ বিষয়েও সাভার মডেল থানায় সাধারণ ডাইরী করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মানিকগঞ্জ ডিভিশনের নয়ারহাট উপ-বিভাগীয় কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা জানান, আশুলিয়ার পলাশবাড়িতে ঢাকা –টাঙাইল মহাসড়কের পলাশবাড়িতে সোহেল রানা ওরফে ইয়াবা রানা কোটি টাকা মূল্যের সওজের জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করছেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

উৎসবমুখর আয়োজনে তিতুমীর কলেজে সরস্বতী পূজা উদযাপন

অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনার মধ্যেই সাভারে ঘুরে বেড়াচ্ছে সাংবাদিক হত্যা চেষ্টা মামলার আসামিরা 

আপডেট সময় : ১০:৩৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
 ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনার মধ্যেই সাভারে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে  জিটিভির সাংবাদিক শামীম হাসান সীমান্ত (৩০) কে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামীরা।
এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও এখনো কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। যদিও পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, আসামিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে।
এদিকে মামলা তুলে নেবার জন্যে সন্ত্রাসীরা ভূক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।এদিকে সন্ত্রাসী হামলায় সাংবাদিক আহত হবার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদা।
চিহ্নিত সন্ত্রাসী সোহেল রানা ওরফে ইয়াবা সোহেল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়ে তিনি বলেন, এই সোহেল রানার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তার বাবা তাকে ত্যাজ্যপুত্র বলে ঘোষণা দিয়েছেন। নানা অপকর্মের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সোহেল রানা সিপি গ্যাংয়ের আদলে একটি বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
গত বৃহস্পতিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরী গেইটের বিপরীতে জিটিভির আশুলিয়া প্রতিনিধি শামীম হাসান সীমান্তকে প্রকাশ্যে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে দীর্ঘ দুই ঘন্টা একটি টর্চার সেলে আটকে রেখে তাদের ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর নির্যাতন। পরে তাদের উদ্ধার করে নেয়া হয় সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।আহত সাংবাদিক শামীম হাসান সীমান্ত রাজবাড়ী জেলার কালুখালী থানার সিকজান গ্রামের দুলাল মন্ডলের ছেলে।
তিনি জানান, পেশাগত তথ্য সংগ্রহের জন্যে আমি ও সহকর্মি আমিনুল ইসলাম ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর্যায়েই আশুলিয়ার ত্রাস কুখ্যাত সন্ত্রাসী সোহেল রানা ওরফে ইয়াবা রানা (৪২) ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ওপর চড়াও হয়।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোহেল রানা ওরফে ইয়াবা রানার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী সিদ্দিক ওরফে চোরা সিদ্দিক (৪৫), পলাতক সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দুই ডজন ছাত্র হত্যা মামলার আসামী মঞ্জুরুল আলম রাজীবের ঘনিষ্ঠ আল মামুন খান (৪৮), ইতোপূর্বে র‌্যাবের হাতে গ্ৰেপ্তার  ফয়জুল ইসলাম (৪০),ইমদাদুল হক (৪০), ও জাহাঙ্গীর হোসেন সাগর (৪২) আমাদের প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যায় ডেইরী গেইটের বিপরীতে চোরা সিদ্দিকের টর্চার সেলে।
সেখানে প্রায় দুই ঘন্টা আটকে রেখে সবাই মিলে আমাদের ওপর লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। এক পর্যায়ে প্রচন্ড আঘাতে আমাদের আর্ত চিকিৎকার শুনে আশেপাশের দোকানদাররা এগিয়ে আসে। তারা আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
পরদিন হাসপাতালে থেকেই থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ মামলাটি (নং-১৮) গ্রহণ করে। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিক।
তিনি জানান, আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঘটনার সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। সেখানে সাংবাদিক সাংবাদিক শামীম হাসান সীমান্ত ও তার সহকারীর ওপর হামলার বিষয়টি স্পষ্ট।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির একজন সদস্য জানান, সন্ত্রাসী সোহেল রানা ওরফে ইয়াবা রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি। তিনি জানান,পুলিশের চাহিদার আলোকে আমরা ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সরবরাহ করেছি।
পাশাপাশি আহত সাংবাদিকের বর্ননা মতে দেয়া কথিত চোরা সিদ্দিকের টর্চার সেলের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। অপরাধীদের কোন ছাড় নেই।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্টার (এস্টেট) জানান, চোরা সিদ্দিক দোকান ভাড়া নিয়ে সেখানে কথিত টর্চার সেল ও মাদকের আখড়া গড়ে তুলেছেন বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও নিরাপত্তা প্রধান জেফরুল হাসান সজল জানান,ক্যাম্পাসের সামনে একজন সাংবাদিককে তুলে নিয়ে টর্চার সেলে নির্যাতনের বিষয়টি ভাইরাল। ক্যাম্পাস ঘিরে কোন সন্ত্রাসীর নেটওয়ার্ক চলতে দেয়া যাবে না।
আহত সাংবাদিক সাংবাদিক শামীম হাসান সীমান্ত জানান,সন্ত্রাসী সোহেল রানা ওরফে ইয়াবা রানা (৪২) দীর্ঘদিন ধরে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে মাদক বিক্রির নেটওর্য়াক-ও তৈরি করেছেন তিনি। সোহেল রানা ওরফে ইয়াবা রানা আশুলিয়ার পানধোয়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী।
বাবার পরিচয়ের সূত্রেই  ইতোপূর্বে র‌্যাবের হাতে গ্ৰেপ্তার  ফয়জুল ইসলামকে নিয়ে আশুলিয়া ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এলাকায় সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন তিনি। স্থানীয় পানধোয়া গ্ৰামের বাসিন্দা আব্দুল হাই জানান, ছেলের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও মাদকে সংশ্লিষ্টটার কারনে বিব্রত সোহেল রানার পরিবার। তার বাবাও তাকে পরিত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোহেল রানার বাবা আব্দুল মান্নানন। জানান, কৈশোর থেকেই বখাটেদের খাতায় নাম লেখায় সোহেল রানা। অতিষ্ঠ হয়ে আমিও তাকে ত্যাজ্য বলে ঘোষণা দিয়েছি।সোহেল রানার হাতে নির্যাতিত জিটিভির সাংবাদিক শামীম হাসান সীমান্ত জানান,সোহেল রানা ওরফে ইয়াবা রানা সম্প্রতি আশুলিয়ার পলাশবাড়িতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোটি টাকার জায়গা দখল করে সেখানে অবৈধভাবে স্থাপনা গড়ে তুললে আমি সেই অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে নিউজ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সে আমাদের ওপর হামলা চালায়।
এর আগেও বেসরকারি একটি টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন জায়েদ আনসারীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় সে। এ বিষয়েও সাভার মডেল থানায় সাধারণ ডাইরী করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মানিকগঞ্জ ডিভিশনের নয়ারহাট উপ-বিভাগীয় কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা জানান, আশুলিয়ার পলাশবাড়িতে ঢাকা –টাঙাইল মহাসড়কের পলাশবাড়িতে সোহেল রানা ওরফে ইয়াবা রানা কোটি টাকা মূল্যের সওজের জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করছেন।