০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সারাদেশে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, প্রশাসনের গাফিলতি এবং অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নারীরা আজ তাদের ঘর থেকে বের হলেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিভাবকরা আতঙ্কে থাকেন, কখন, কোথায়, কাকে শিকার হতে হয় এই নৃশংসতার। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায় ধর্ষণের লোমহর্ষক ঘটনা। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিচার হয় না, অপরাধীরা রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। তারা মনে করেন, ধর্ষকদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না থাকায় এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে। তাই অপরাধীদের দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা ছাড়া এ মহামারি রোধ করা সম্ভব নয়।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১১:৩০ টার দিকে পাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে বলেন, “ধর্ষকদের একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত মৃত্যুদণ্ড। এসময়, ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে কার্যকর করার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনাগুলো উল্লেখ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেন। তারা অভিযোগ করেন, অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাওয়ায় ধর্ষণের হার বেড়ে চলেছে এবং নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

শিক্ষার্থী আরজানা ইয়াসিন কামিনী বলেন, “সারা দেশে ধর্ষণের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকলেও আমাদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে বাসায় নিরাপদে ফিরতে পারব কি না, সেটাও নিশ্চিত নই। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, ধর্ষকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করতে হবে।”

শিক্ষার্থী সাব্বির ইফতেখার শাকিব বলেন, “ফেব্রুয়ারি মাসেই আমরা একাধিক ধর্ষণের ঘটনা সংবাদমাধ্যমে জেনেছি। কখনও বাস ডাকাতির সময় মা-বোনদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, কখনও একুশে ফেব্রুয়ারিতে ফুল কুড়াতে গিয়ে শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, আবার কখনও বেড়াতে গিয়ে বোন ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। চারদিকে শুধু ধর্ষণের খবর, কিন্তু ধর্ষকদের শাস্তির কোনো দৃষ্টান্ত নেই। আমাদের একটাই দাবি ধর্ষকদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।”

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, “দেশ স্বাধীন হলেও আমরা এখনো পূর্ণ স্বাধীনতা পাইনি। আমাদের প্রকৃত স্বাধীনতা তখনই আসবে, যখন আমরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারব। প্রশাসন যদি ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণ কঠোর প্রতিক্রিয়ার দিকে যেতে বাধ্য হবে।”

উল্লেখ্য, চলতি মাসেই খুলনায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী ধর্ষণ, পদ্মার চরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, রাজধানীর লালবাগে তরুণী ধর্ষণ এবং একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনার বিচার দ্রুত সম্পন্ন না হলে ক্ষোভ আরও বাড়বে বলে শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

উৎসবমুখর আয়োজনে তিতুমীর কলেজে সরস্বতী পূজা উদযাপন

সারাদেশে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৪:২৩:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, প্রশাসনের গাফিলতি এবং অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নারীরা আজ তাদের ঘর থেকে বের হলেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিভাবকরা আতঙ্কে থাকেন, কখন, কোথায়, কাকে শিকার হতে হয় এই নৃশংসতার। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায় ধর্ষণের লোমহর্ষক ঘটনা। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিচার হয় না, অপরাধীরা রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। তারা মনে করেন, ধর্ষকদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না থাকায় এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে। তাই অপরাধীদের দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা ছাড়া এ মহামারি রোধ করা সম্ভব নয়।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১১:৩০ টার দিকে পাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে বলেন, “ধর্ষকদের একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত মৃত্যুদণ্ড। এসময়, ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে কার্যকর করার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনাগুলো উল্লেখ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেন। তারা অভিযোগ করেন, অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাওয়ায় ধর্ষণের হার বেড়ে চলেছে এবং নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

শিক্ষার্থী আরজানা ইয়াসিন কামিনী বলেন, “সারা দেশে ধর্ষণের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকলেও আমাদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে বাসায় নিরাপদে ফিরতে পারব কি না, সেটাও নিশ্চিত নই। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, ধর্ষকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করতে হবে।”

শিক্ষার্থী সাব্বির ইফতেখার শাকিব বলেন, “ফেব্রুয়ারি মাসেই আমরা একাধিক ধর্ষণের ঘটনা সংবাদমাধ্যমে জেনেছি। কখনও বাস ডাকাতির সময় মা-বোনদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, কখনও একুশে ফেব্রুয়ারিতে ফুল কুড়াতে গিয়ে শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, আবার কখনও বেড়াতে গিয়ে বোন ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। চারদিকে শুধু ধর্ষণের খবর, কিন্তু ধর্ষকদের শাস্তির কোনো দৃষ্টান্ত নেই। আমাদের একটাই দাবি ধর্ষকদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।”

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, “দেশ স্বাধীন হলেও আমরা এখনো পূর্ণ স্বাধীনতা পাইনি। আমাদের প্রকৃত স্বাধীনতা তখনই আসবে, যখন আমরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারব। প্রশাসন যদি ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণ কঠোর প্রতিক্রিয়ার দিকে যেতে বাধ্য হবে।”

উল্লেখ্য, চলতি মাসেই খুলনায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী ধর্ষণ, পদ্মার চরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, রাজধানীর লালবাগে তরুণী ধর্ষণ এবং একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনার বিচার দ্রুত সম্পন্ন না হলে ক্ষোভ আরও বাড়বে বলে শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।