রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ রবিবার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্রনেতা নাজমুস সাকিব (রাবি), আব্দুল বারি (রাবি) ও মেহেদী হাসান বিজয় (এনবিইউ) রামেবিতে জাল সনদে কর্মরত লিয়াজো ও প্রটোকল অফিসার ইসমাঈল হোসেন, উচ্চ আদালতের রায় উপেক্ষা করে বিধি বহির্ভূত ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত জামাল উদ্দিন মন্ডল এবং নথি জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত সহকারী রেজিস্ট্রার রাসেদুল ইসলামের অপসারণের দাবীতে রামেবির উপাচার্যের নিকট অভিযোগপত্র জমা দেন। এসময় তারা রামেবিতে স্বৈরাচার সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা না নেয়ায় হতাশা প্রকাশ করে দ্রুততার সাথে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানায়। রামেবির উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ জাওয়াদুল হক বলেন এখন পর্যন্ত তার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি বিধায় এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তাদের অভিযোগ গুলো অবশ্যই যাচায় করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোপূর্বে একাধিক অভিযোগ করা হলেও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির জাল সনদে চাকুরি নেয়া ইসমাইল হোসেন কে বাচাতে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল সনদ সরিয়ে টাইমস ইউনিভার্সিটির নথি সংযোজন করা হয়। অথচ তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল সনদ ব্যবহার করে এমবিএ কোর্স এ ভর্তি হয়েছিলেন। এছাড়াও ইসমাইল হোসেন এর বিরুদ্ধে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট ও জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তিনি এসএসসি এইচএসসি এর পুলিশ ভেরিফিকেশন করিয়ে অনার্স পাশের তথ্য জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সেই রিপোর্ট এ সংযুক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেন। রামেবির সিন্ডিকেট এই বিষয়ে তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে। সেই তদন্ত কমিটি জাল সনদে চাকুরী গ্রহণ এবং তা অস্বীকারের দায়ে অভিযুক্ত করে প্রচলিত বিধি মোতাবেক শাস্তি প্রদানের সুপারিশ করে। অথচ রামেবির প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক মোস্তাক হোসেন সেই তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে ইসমাইল হোসেন কে সনদ জালিয়াতির শাস্তিস্বরূপ ২ বছরের জন্য নিম্নতর বেতনস্কেলে অবনমিত করেন যা সচেতন মহলে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সেকশন অফিসার জামাল উদ্দিন মন্ডল ৩৯ বছর বয়সে এডহকে রামেবিতে ২০১৮ সালে নিয়োগ পান। ২০১৯ সালে স্থায়ী নিয়োগের সময় তিনি আবেদন করেন সহকারী কলেজ পরিদর্শক পদে। অথচ তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল বিএসএস পাশ কোর্স (০২ বছর মেয়াদি)এবং অনুমোদনহীন একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১ বছর মেয়াদি মাস্টার্স কোর্স। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এই শিক্ষাগত যোগ্যতা সেকশন অফিসার এবং সহকারী কলেজ পরিদর্শক উভয় পদে নিয়োগের জন্য যথেষ্ট ছিলনা। আশ্চর্যজনক ভাবে তিনি সহকারী কলেজ পরিদর্শক পদে আবেদন করলেও তিনি সেকশন অফিসার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন। রামেবির প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক মাসুম হাবিব বিষয়টি সঠিক হচ্ছেনা মনে করে সিন্ডিকেটে পুনঃরায় উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নিলে জামাল উদ্দিন মন্ডল মামলা দায়ের করে বিধায় আর সিন্ডিকেটে আলোচিত হয়নি। সেই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রায় আসে এবং সেকশন অফিসার এবং সহকারী কলেজ পরিদর্শক উভয় পদের জন্য জামাল উদ্দিন কে অযোগ্য ঘোষণা করে তাকে নিয়োগ প্রদান হতে রামেবি’কে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করে আদালত। পরবর্তীতে এই জামাল উদ্দিন মন্ডল এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং মামলাটি চলমান ছিল। রামেবির সাবেক উপাচার্য মোস্তাক হোসেন আশ্চর্যজনক ভাবে জামাল উদ্দিন কে তার মামলা প্রত্যাহারের শর্তে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা কে তাকে নিয়োগ প্রদান করে। ইসমাইল হোসেন এর সনদ জালিয়াতি, একটি জাল সনদ অপর একটি জাল সনদ দ্বারা বদলে দেয়া, দুইবার পুলিশ ভেরিফিকেশন জালিয়াতি, এবং জামাল উদ্দিন কে তার নিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সিন্ডিকেটে উত্থাপনের গোপনীয় সিদ্ধান্ত জানিয়ে মামলা করতে প্ররোচিত করার বিষয়ে সরাসরি জড়িত রামেবির সেকশন অফিসার রাসেদুল ইসলাম। কারণ সেসময় তিনিই এসকল গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও নিয়োগ বানিজ্যের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। একাধিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হতে ঘুষ গ্রহণের তথ্য রয়েছে। রামেবির এই সহকারী রেজিস্ট্রার রাসেদুল ইসলামের নেতৃত্বেই জাল-জালিয়াতি ও দুর্নীতির ভয়াবহ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে।
শিরোনাম
জালিয়াতির ও দুর্নীতির ভয়ংকর সিন্ডিকেট রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
-
রাজশাহী প্রতিনিধি - আপডেট সময় : ১১:১৯:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫
- ।
- 686
জনপ্রিয় সংবাদ






















