০৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৮ মাসেও বিচার নয়, আশ্বাসেই ‘জুলাই আন্দোলন’–এর রক্তাক্ত অধ্যায়

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা
সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো
বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় আট মাস অতিক্রম হলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ করে আসলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
এখনও দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন আবু সাঈদ নামের এক শিক্ষার্থী।
ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং তদন্ত প্রতিবেদন থাকা
সত্ত্বেও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে ও অফিস করছে বলে
অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা এ ঘটনাকে ‘বিচারহীনতার লজ্জাজনক উদাহরণ’
হিসেবে দেখছেন।

কে ছিলেন অভিযুক্ত?

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শাখা সভাপতি পমেল বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক শামীম
মাহাফুজসহ প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মীর নাম উঠে এসেছে হামলাকারীদের তালিকায়।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ধনঞ্জয় কুমার টগর, গ্লোরিয়াস (ফজলে রাব্বি),
বাবুল, বিধান, তানভীর, আবদুল্লাহ আল নোমান খান, রিফাত, ফারহাদ হোসেন
এলিট, মোমিনুল, আরিফুজ্জামান ইমন, গাজীউর, শাহিদ হাসান, আরিফ ও মামুন।

এছাড়াও, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক,
কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন
সাবেক উপাচার্যের সহকারী আবুল কালাম আজাদ, রেজিস্ট্রার শাহিন মিয়া (শাহিন
সর্দার), উপ-পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার মোক্তারুল ইসলাম,
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের কম্পিউটার অপারেটর নুরুজ্জামান, ও অন্যান্যরা।

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও হতাশা

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বারবার আশ্বাস পেলেও এখনও কোনো মামলা
হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধুমাত্র কিছু বহিষ্কারের ঘোষণায় সীমাবদ্ধ
থেকেছে। হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে
সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “শুধু শরীর নয়, মনও ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল। মেয়েদের ওপর
যেভাবে চড়াও হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়। প্রশাসনের নিরবতা অনেক
কিছু বলে দেয়।”

সহযোদ্ধাদের বক্তব্য

আবু সাঈদের সহযোদ্ধা রুবায়েদ জাহিন বলেন, “আমি হতাশ। প্রশাসন স্লো কাজ
করেছে। তদন্ত কমিটি গঠন করেও এখনও মামলা হয়নি। সিন্ডিকেটে পাস হলেও
কার্যকর পদক্ষেপের কোনো দেখা নেই।”

আরেক আন্দোলনকারী আহমাদুল হক আলবির বলেন, “জুলাই বিপ্লবের ওপর দাঁড়িয়েও
প্রশাসন যেন সেই বিপ্লবকে ধারণ করছে না। আমরা আশা করেছিলাম নতুন প্রশাসন
শিক্ষার্থীবান্ধব হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তারা মুখে বিপ্লবের কথা
বললেও কার্যক্রমে বিপরীত প্রতিচ্ছবি।”

প্রশাসনের অবস্থান

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, “আমরা
হামলাকারীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করেছি। আহতদের সাক্ষ্যও নেওয়া হয়েছে।
মামলার প্রক্রিয়া চলমান এবং দুই-একদিনের মধ্যে এর ফলাফল পাওয়া যাবে।”

শেষ কথা

আট মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলা হয়নি, বরং বারবার আশ্বাস আর
দীর্ঘসূত্রতায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও
প্রশাসনের নির্লিপ্ততা প্রশ্ন তুলছে—কার স্বার্থে এই দেরি? শহীদ আবু
সাঈদের রক্তে লেখা প্রশ্ন আজও জবাব খুঁজে ফিরছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের মৃত্যু নিয়ে ট্রাম্পের ভবিষ্যদ্বাণী, হতবাক ঘনিষ্ঠরা

৮ মাসেও বিচার নয়, আশ্বাসেই ‘জুলাই আন্দোলন’–এর রক্তাক্ত অধ্যায়

আপডেট সময় : ০২:৫০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা
সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো
বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় আট মাস অতিক্রম হলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ করে আসলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
এখনও দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন আবু সাঈদ নামের এক শিক্ষার্থী।
ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং তদন্ত প্রতিবেদন থাকা
সত্ত্বেও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে ও অফিস করছে বলে
অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা এ ঘটনাকে ‘বিচারহীনতার লজ্জাজনক উদাহরণ’
হিসেবে দেখছেন।

কে ছিলেন অভিযুক্ত?

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শাখা সভাপতি পমেল বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক শামীম
মাহাফুজসহ প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মীর নাম উঠে এসেছে হামলাকারীদের তালিকায়।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ধনঞ্জয় কুমার টগর, গ্লোরিয়াস (ফজলে রাব্বি),
বাবুল, বিধান, তানভীর, আবদুল্লাহ আল নোমান খান, রিফাত, ফারহাদ হোসেন
এলিট, মোমিনুল, আরিফুজ্জামান ইমন, গাজীউর, শাহিদ হাসান, আরিফ ও মামুন।

এছাড়াও, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক,
কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন
সাবেক উপাচার্যের সহকারী আবুল কালাম আজাদ, রেজিস্ট্রার শাহিন মিয়া (শাহিন
সর্দার), উপ-পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার মোক্তারুল ইসলাম,
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের কম্পিউটার অপারেটর নুরুজ্জামান, ও অন্যান্যরা।

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও হতাশা

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বারবার আশ্বাস পেলেও এখনও কোনো মামলা
হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধুমাত্র কিছু বহিষ্কারের ঘোষণায় সীমাবদ্ধ
থেকেছে। হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে
সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “শুধু শরীর নয়, মনও ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল। মেয়েদের ওপর
যেভাবে চড়াও হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়। প্রশাসনের নিরবতা অনেক
কিছু বলে দেয়।”

সহযোদ্ধাদের বক্তব্য

আবু সাঈদের সহযোদ্ধা রুবায়েদ জাহিন বলেন, “আমি হতাশ। প্রশাসন স্লো কাজ
করেছে। তদন্ত কমিটি গঠন করেও এখনও মামলা হয়নি। সিন্ডিকেটে পাস হলেও
কার্যকর পদক্ষেপের কোনো দেখা নেই।”

আরেক আন্দোলনকারী আহমাদুল হক আলবির বলেন, “জুলাই বিপ্লবের ওপর দাঁড়িয়েও
প্রশাসন যেন সেই বিপ্লবকে ধারণ করছে না। আমরা আশা করেছিলাম নতুন প্রশাসন
শিক্ষার্থীবান্ধব হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তারা মুখে বিপ্লবের কথা
বললেও কার্যক্রমে বিপরীত প্রতিচ্ছবি।”

প্রশাসনের অবস্থান

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, “আমরা
হামলাকারীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করেছি। আহতদের সাক্ষ্যও নেওয়া হয়েছে।
মামলার প্রক্রিয়া চলমান এবং দুই-একদিনের মধ্যে এর ফলাফল পাওয়া যাবে।”

শেষ কথা

আট মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলা হয়নি, বরং বারবার আশ্বাস আর
দীর্ঘসূত্রতায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও
প্রশাসনের নির্লিপ্ততা প্রশ্ন তুলছে—কার স্বার্থে এই দেরি? শহীদ আবু
সাঈদের রক্তে লেখা প্রশ্ন আজও জবাব খুঁজে ফিরছে।