০৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে পশুর হাটে চাহিদার চেয়ে গরু বেশি

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চট্টগ্রামের বৃহত্তম গরুর হাট সাগরিকা বাজারে জমে উঠেছে বেচাকেনা। প্রতিদিনই ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর পশুর হাট। হাটে ওঠেছে প্রচুর গরু, যার মধ্যে দেশি জাতের গরুর আধিপত্য চোখে পড়ার মতো। গরু বাছাই, দর-কষাকষি আর গাড়িতে তোলার সরব সময় পার করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। তবে এবার চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় সাধ্যের মধ্যেই পছন্দের পশু কেনার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন ক্রেতারা।সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হাটে স্থানীয় ব্যাপারির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। হাটজুড়ে দাপট দেখাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যাপারিরা। তারা নিয়ে এসেছেন নানা আকৃতির দেশি গরু। হাটে হাতেগোনা ভারতীয় ও মিয়ানমার থেকে আসা গরু দেখা গেলেও সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে দেশি জাতের গরু। ছোট, মাঝারি ও বড়—সব ধরনের গরুই রয়েছে হাটে। সকালে হাট ঘুরে দেখা যায়, কিছু ক্রেতা গরু দেখতে এলেও কেউ গরু কিনছেন না। অন্যদিকে, অধিকাংশ ব্যাপারীও ক্রেতাদের সঙ্গে তেমন আগ্রহ নিয়ে কথা বলছেন না। কেউ গরুকে খাওয়াচ্ছেন, কেউবা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত। তবে দুপুর গড়াতেই হাটের চিত্র বদলে যেতে শুরু করে। ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। তারা গরুর কাছে গিয়ে দাম যাচাই করছেন, গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন এবং ব্যাপারীদের সঙ্গে দর কষাকষিতে লিপ্ত হচ্ছেন। বেপারিদের দাবি, স্থানীয়ভাবে পালিত অনেক গরুও এবার বাজারে আনা হয়েছে। তবে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে গরু লালন-পালনের খরচ আগের চেয়ে অনেক বেশি। যার প্রভাব পড়েছে গরুর দামেও। তাদের অভিযোগ, লালন-পালনের খরচ বাড়লেও বাজারে গরুর সরবরাহ বেশি থাকায় আশানুরূপ দাম মিলছে না। ফলে অনেক বেপারিই কিছুটা হতাশ। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকৃতির দেশি গরুগুলোর দাম চাওয়া হচ্ছে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার মধ্যে। মাঝারির দাম উঠেছে এক লাখ ২০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত। আর বড় আকৃতির গরুর জন্য হাঁকা হচ্ছে ৩ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা, কিংবা তারও বেশি। বিশেষ করে সুদর্শন ও আকর্ষণীয় গরুগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে বেশি রাখা হচ্ছে। বেপারিদের ভাষায়, ‘শখের জিনিসের দাম একটু বেশি তো হবেই।’ তবে এবারে নগরের সবচেয়ে বড় এই হাটের অন্যতম আকর্ষণ বিশালদেহী এক গরু, যার দাম হাঁকা হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। কুমিল্লা থেকে আগত ব্যাপারী আব্দুল করিম বলেন, ‘এবার হাটে গরুর পরিমাণ অনেক। তবে খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় লালন-পালনের খরচও অনেক বেড়েছে। তাই দাম একটু বেশিই বলতে হচ্ছে। কিন্তু দাম অতিরিক্ত চাইলে তো আর হবে না, ক্রেতাদের সাধ্যের কথাও মাথায় রাখতে হয়।’তবে আনোয়ার হোসেন নামে এক ক্রেতা জানালেন, ‘গতবারের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা কম মনে হচ্ছে। গেল কোরবানিতে যে গরু আমি এক লাখ ২০ হাজারে কিনেছিলাম, এবার সেটা লাখেরও নিচে পাওয়া যাচ্ছে। তারপরও দর-কষাকষি চালিয়ে যাচ্ছি যদি আরেকটু কম দামে পাই।’আরেক ক্রেতা মোহাম্মদ ইরফান বলেন, ‘বাজারে প্রচুর গরু আছে, এটা ভালো দিক। দাম যা-ই থাকুক, দর-কষাকষি করার সুযোগ তো থাকে। আশা করছি, সাধ্যের মধ্যে পছন্দের গরু পেয়ে যাব।’পাবনা থেকে আসা ব্যাপারী জামাল উদ্দিন জানান, সাতটা গরু এনেছি, ইতোমধ্যে দুটো বিক্রি হয়েছে। লাভ মোটামুটি ভালো। আশা করছি বাকিগুলোও ভালো দামে বিক্রি করতে পারব। তবে রাস্তায় যানজট এবং গরুর খাবারের দাম বাড়তি হওয়ায় কিছুটা ব্যয় বেশি হয়েছে।বাজারে গরুর চাহিদা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে ক্রেতারা ছোট গরু বেশি কিনছেন। তবে অনেকেই অংশীদারিত্ব নিয়ে বড় ও মাঝারি আকারের গরু কিনছেন।’সোহেল নামে সাগরিকা বাজার ইজারাদারের এক প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। বাজারে জাল টাকা শনাক্তকরণের মেশিন বসানো হয়েছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক পশু চিকিৎসক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আশা করছি, শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের হাট সম্পন্ন হবে।’
এমআর/সব

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

চট্টগ্রামে পশুর হাটে চাহিদার চেয়ে গরু বেশি

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চট্টগ্রামের বৃহত্তম গরুর হাট সাগরিকা বাজারে জমে উঠেছে বেচাকেনা। প্রতিদিনই ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর পশুর হাট। হাটে ওঠেছে প্রচুর গরু, যার মধ্যে দেশি জাতের গরুর আধিপত্য চোখে পড়ার মতো। গরু বাছাই, দর-কষাকষি আর গাড়িতে তোলার সরব সময় পার করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। তবে এবার চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় সাধ্যের মধ্যেই পছন্দের পশু কেনার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন ক্রেতারা।সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হাটে স্থানীয় ব্যাপারির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। হাটজুড়ে দাপট দেখাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যাপারিরা। তারা নিয়ে এসেছেন নানা আকৃতির দেশি গরু। হাটে হাতেগোনা ভারতীয় ও মিয়ানমার থেকে আসা গরু দেখা গেলেও সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে দেশি জাতের গরু। ছোট, মাঝারি ও বড়—সব ধরনের গরুই রয়েছে হাটে। সকালে হাট ঘুরে দেখা যায়, কিছু ক্রেতা গরু দেখতে এলেও কেউ গরু কিনছেন না। অন্যদিকে, অধিকাংশ ব্যাপারীও ক্রেতাদের সঙ্গে তেমন আগ্রহ নিয়ে কথা বলছেন না। কেউ গরুকে খাওয়াচ্ছেন, কেউবা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত। তবে দুপুর গড়াতেই হাটের চিত্র বদলে যেতে শুরু করে। ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। তারা গরুর কাছে গিয়ে দাম যাচাই করছেন, গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন এবং ব্যাপারীদের সঙ্গে দর কষাকষিতে লিপ্ত হচ্ছেন। বেপারিদের দাবি, স্থানীয়ভাবে পালিত অনেক গরুও এবার বাজারে আনা হয়েছে। তবে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে গরু লালন-পালনের খরচ আগের চেয়ে অনেক বেশি। যার প্রভাব পড়েছে গরুর দামেও। তাদের অভিযোগ, লালন-পালনের খরচ বাড়লেও বাজারে গরুর সরবরাহ বেশি থাকায় আশানুরূপ দাম মিলছে না। ফলে অনেক বেপারিই কিছুটা হতাশ। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকৃতির দেশি গরুগুলোর দাম চাওয়া হচ্ছে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার মধ্যে। মাঝারির দাম উঠেছে এক লাখ ২০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত। আর বড় আকৃতির গরুর জন্য হাঁকা হচ্ছে ৩ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা, কিংবা তারও বেশি। বিশেষ করে সুদর্শন ও আকর্ষণীয় গরুগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে বেশি রাখা হচ্ছে। বেপারিদের ভাষায়, ‘শখের জিনিসের দাম একটু বেশি তো হবেই।’ তবে এবারে নগরের সবচেয়ে বড় এই হাটের অন্যতম আকর্ষণ বিশালদেহী এক গরু, যার দাম হাঁকা হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। কুমিল্লা থেকে আগত ব্যাপারী আব্দুল করিম বলেন, ‘এবার হাটে গরুর পরিমাণ অনেক। তবে খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় লালন-পালনের খরচও অনেক বেড়েছে। তাই দাম একটু বেশিই বলতে হচ্ছে। কিন্তু দাম অতিরিক্ত চাইলে তো আর হবে না, ক্রেতাদের সাধ্যের কথাও মাথায় রাখতে হয়।’তবে আনোয়ার হোসেন নামে এক ক্রেতা জানালেন, ‘গতবারের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা কম মনে হচ্ছে। গেল কোরবানিতে যে গরু আমি এক লাখ ২০ হাজারে কিনেছিলাম, এবার সেটা লাখেরও নিচে পাওয়া যাচ্ছে। তারপরও দর-কষাকষি চালিয়ে যাচ্ছি যদি আরেকটু কম দামে পাই।’আরেক ক্রেতা মোহাম্মদ ইরফান বলেন, ‘বাজারে প্রচুর গরু আছে, এটা ভালো দিক। দাম যা-ই থাকুক, দর-কষাকষি করার সুযোগ তো থাকে। আশা করছি, সাধ্যের মধ্যে পছন্দের গরু পেয়ে যাব।’পাবনা থেকে আসা ব্যাপারী জামাল উদ্দিন জানান, সাতটা গরু এনেছি, ইতোমধ্যে দুটো বিক্রি হয়েছে। লাভ মোটামুটি ভালো। আশা করছি বাকিগুলোও ভালো দামে বিক্রি করতে পারব। তবে রাস্তায় যানজট এবং গরুর খাবারের দাম বাড়তি হওয়ায় কিছুটা ব্যয় বেশি হয়েছে।বাজারে গরুর চাহিদা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে ক্রেতারা ছোট গরু বেশি কিনছেন। তবে অনেকেই অংশীদারিত্ব নিয়ে বড় ও মাঝারি আকারের গরু কিনছেন।’সোহেল নামে সাগরিকা বাজার ইজারাদারের এক প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। বাজারে জাল টাকা শনাক্তকরণের মেশিন বসানো হয়েছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক পশু চিকিৎসক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আশা করছি, শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের হাট সম্পন্ন হবে।’
এমআর/সব