১১:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রায়গঞ্জে অসহায় হতদরিদ্র দম্পতি তোজাম্মেলের মানবেতর জীবনযাপন

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অসহায় হতদরিদ্র দম্পতি তোজাম্মেল (৫০) ও জহুরা বেগম। যাদের নিজেদের থাকার মত একটি ভাল ঘর নেই। স্ত্রী, সন্তান নিয়ে জরাজীর্ণ একটি টিনের ছাপড়ায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের। সংসারের নানা বোঝা টানতে টানতে সময়ের পরিক্রমায় হয়ে পড়েন অক্ষম। এখন শক্তিহীন ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত মোজাম্মেল হক। এক সময় অন্য আট দশজনের ন্যায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করলেও গত ৪ বছর পূর্বে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে প্যারালাইসিস হয়ে ঘর বন্দি জীবন পার করছেন।
সংসার জীবনে ছোট্ট ছেলে ও তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে অন্যের জায়গায় ভাঙা একটি টিনের ছাপড়ায় মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।
অসহায় তোজাম্মেলের বাড়ি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে।বর্তমানে দেড়াগাঁতী রুদ্রপুর উচ্চ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই তাদের বসবাস।
এই দম্পতিদের বড় ছেলে তেমন একটা খোঁজ খবর রাখছেন না । তবে ১৩ বছর বয়সী আরেক ছেলে লেখাপড়া ছেড়ে স্থানীয় করাত কলে কাজ করে দিনে ২শ টাকা আয় করেই হাল ধরেছেন সংসারের।
শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় অসহায় এই দম্পতির সাথে। জহুরা বেগম জানান, দীর্ঘ ৪ আগে স্বামীর প্যারালাইসিস হওয়ার পর থেকে তাদের মানবেতর জীবন পার করতে হচ্ছে। সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে কোন কোন দিন তাদের একেবারে না খেয়েও থাকতে হয়। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও সরকারিভাবে কোন সহযোগিতা পান নাই তিনি। অশ্রুশিক্ত চোখে এই দম্পতি বলেন, ভোটের সময় ভোট চাইতে আসে মেম্বার চেয়ারম্যানরা। ভোট হয়ে গেলে কেউ আর আসে না। একটি ঘরের জন্য অনেক দৌড়াদৌড়ি করেছি কোন গুরুত্ব দেয়নি কেউ। সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে তিনি তার স্বামীর জন্য একটি হুইল চেয়ার, খাদ্যসামগ্রী আর একটি কর্মসংস্থানের জন্য আবেদন জানান।
স্থানীয় শিক্ষার্থী আবু জাফর, সৌরভ তালুকদার, রাসেল জানায়, অসহায় ওই দম্পতির ভাল একটি ঘর নেই। থাকেন টিনের ছাপরায়। একটি ঘর, হুইল চেয়ার, খাদ্য সামগ্রী আর একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিলে হয়তোবা এই পরিবারটি স্বাভাবিক জীবনে চলতে পারতো। অসহায় এই পরিবারের পাশে সরকারের পক্ষ থেকে কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। তারা জীবনের সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে চলেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হাসান শেখ জানান, অসহায় মোজাম্মেল হকের বিষয়ে আমি অবগত আছি। খুব দ্রুতই তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়া হবে। এ ছাড়াও তিনি আবেদন করলে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এ সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর সমাজের বিত্তবানরা যদি একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে একটি পরিবার অন্তত খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকতে পারবে। তাই সমাজের সামর্থবানদের কাছে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত মোজাম্মেল হকের আবেদন যে যা পারেন তাকে যেন সাধ্যমত সহযোগিতা করার জন্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

রায়গঞ্জে অসহায় হতদরিদ্র দম্পতি তোজাম্মেলের মানবেতর জীবনযাপন

আপডেট সময় : ০৬:৫২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অসহায় হতদরিদ্র দম্পতি তোজাম্মেল (৫০) ও জহুরা বেগম। যাদের নিজেদের থাকার মত একটি ভাল ঘর নেই। স্ত্রী, সন্তান নিয়ে জরাজীর্ণ একটি টিনের ছাপড়ায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের। সংসারের নানা বোঝা টানতে টানতে সময়ের পরিক্রমায় হয়ে পড়েন অক্ষম। এখন শক্তিহীন ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত মোজাম্মেল হক। এক সময় অন্য আট দশজনের ন্যায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করলেও গত ৪ বছর পূর্বে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে প্যারালাইসিস হয়ে ঘর বন্দি জীবন পার করছেন।
সংসার জীবনে ছোট্ট ছেলে ও তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে অন্যের জায়গায় ভাঙা একটি টিনের ছাপড়ায় মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।
অসহায় তোজাম্মেলের বাড়ি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে।বর্তমানে দেড়াগাঁতী রুদ্রপুর উচ্চ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই তাদের বসবাস।
এই দম্পতিদের বড় ছেলে তেমন একটা খোঁজ খবর রাখছেন না । তবে ১৩ বছর বয়সী আরেক ছেলে লেখাপড়া ছেড়ে স্থানীয় করাত কলে কাজ করে দিনে ২শ টাকা আয় করেই হাল ধরেছেন সংসারের।
শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় অসহায় এই দম্পতির সাথে। জহুরা বেগম জানান, দীর্ঘ ৪ আগে স্বামীর প্যারালাইসিস হওয়ার পর থেকে তাদের মানবেতর জীবন পার করতে হচ্ছে। সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে কোন কোন দিন তাদের একেবারে না খেয়েও থাকতে হয়। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও সরকারিভাবে কোন সহযোগিতা পান নাই তিনি। অশ্রুশিক্ত চোখে এই দম্পতি বলেন, ভোটের সময় ভোট চাইতে আসে মেম্বার চেয়ারম্যানরা। ভোট হয়ে গেলে কেউ আর আসে না। একটি ঘরের জন্য অনেক দৌড়াদৌড়ি করেছি কোন গুরুত্ব দেয়নি কেউ। সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে তিনি তার স্বামীর জন্য একটি হুইল চেয়ার, খাদ্যসামগ্রী আর একটি কর্মসংস্থানের জন্য আবেদন জানান।
স্থানীয় শিক্ষার্থী আবু জাফর, সৌরভ তালুকদার, রাসেল জানায়, অসহায় ওই দম্পতির ভাল একটি ঘর নেই। থাকেন টিনের ছাপরায়। একটি ঘর, হুইল চেয়ার, খাদ্য সামগ্রী আর একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিলে হয়তোবা এই পরিবারটি স্বাভাবিক জীবনে চলতে পারতো। অসহায় এই পরিবারের পাশে সরকারের পক্ষ থেকে কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। তারা জীবনের সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে চলেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হাসান শেখ জানান, অসহায় মোজাম্মেল হকের বিষয়ে আমি অবগত আছি। খুব দ্রুতই তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়া হবে। এ ছাড়াও তিনি আবেদন করলে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এ সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর সমাজের বিত্তবানরা যদি একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে একটি পরিবার অন্তত খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকতে পারবে। তাই সমাজের সামর্থবানদের কাছে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত মোজাম্মেল হকের আবেদন যে যা পারেন তাকে যেন সাধ্যমত সহযোগিতা করার জন্য।