১১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, জনভোগান্তি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ড্রেন নির্মাণকাজে ধীরগতির কারণে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন স্থানে কাঁদামাটিতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীসহ বিভিন্ন পরিবহন যাত্রীরা।
উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় রাস্তা থেকে দুই ফুট উঁচু করে ড্রেন তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না রাখার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
জানা গেছে, এক মাস ধরে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর অজুহাতে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে জনসাধারণের। জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির কারণে রাস্তায় সৃষ্ট গর্তে বিভিন্ন ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা উল্টে যাত্রীরা পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন। এছাড়া ভারী বৃষ্টিপাত হলেই আশপাশের কয়েকটি মার্কেটের দোকানেও পানি ঢুকে যায়।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য ফুটওভারব্রিজ থেকে শুরু করে শহিদ মজনু পার্ক পর্যন্ত ড্রেন ও গুরুত্বপূর্ণ চার স্থানে আরসিসি ঢালাইয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। পরে হাসমত অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় এই কার্যাদেশ পায়। এরইমধ্যে ড্রেন তৈরিতে ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় কার্যাদেশ পাওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নির্মাণকাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। নির্মাণকাজের শুরু থেকেই ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজে বিভিন্ন অনিয়ম করে যাচ্ছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজে ধীরগতি হওয়ার কারণে মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। এমনকি ভারী বৃষ্টিতেও পানি জমে এই এলাকা একাকার হয়ে পড়ে। সড়কে হাঁটু পানি জমে যাওয়ায় এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এছাড়াও কতিপয় ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের দোকান সড়কের পাশে হওয়ায় ভারী বৃষ্টিপাত হলেই দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে যায়। এতে দোকানের মালপত্র নষ্ট হয়ে যায়। জলাবদ্ধতা আর কাদামাটিতেও ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ হলেই ভোগান্তি দূর হবে। তারা আরও জানান, এদিকে ‘জলাবদ্ধতার কারণে ময়লা-আবর্জনা পানিতে মিশে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পানি নামানোর ব্যবস্থা না রাখার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।’
অপরদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হাসমত আলী হাসু জানান, কার্যাদেশ পাওয়ার পর থেকে তারা কাজ করছেন। ড্রেন তৈরির কাজ শেষের দিকে। পল্লী বিদ্যুতের চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি না সরানোর কারণে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। খুঁটিগুলো সরালেই কাজ পূণরায় শুরু হবে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. খোরশেদ আলম বলেন, ‘খুঁটি সরানোর কাজ চলছে। বৃষ্টির কারণে ধীরগতি হচ্ছে। দু-এক দিনের মধ্যেই সরিয়ে নেয়া হবে।’
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জানান, ‘জলাবদ্ধতার বিষয়টি দুঃখজনক। তবে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতে আবেদন করা হয়েছে। খুঁটিগুলো সরিয়ে নিলেই দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।’
এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, জনভোগান্তি

আপডেট সময় : ০৬:৫১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ড্রেন নির্মাণকাজে ধীরগতির কারণে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন স্থানে কাঁদামাটিতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীসহ বিভিন্ন পরিবহন যাত্রীরা।
উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় রাস্তা থেকে দুই ফুট উঁচু করে ড্রেন তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না রাখার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
জানা গেছে, এক মাস ধরে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর অজুহাতে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে জনসাধারণের। জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির কারণে রাস্তায় সৃষ্ট গর্তে বিভিন্ন ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা উল্টে যাত্রীরা পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন। এছাড়া ভারী বৃষ্টিপাত হলেই আশপাশের কয়েকটি মার্কেটের দোকানেও পানি ঢুকে যায়।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য ফুটওভারব্রিজ থেকে শুরু করে শহিদ মজনু পার্ক পর্যন্ত ড্রেন ও গুরুত্বপূর্ণ চার স্থানে আরসিসি ঢালাইয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। পরে হাসমত অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় এই কার্যাদেশ পায়। এরইমধ্যে ড্রেন তৈরিতে ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় কার্যাদেশ পাওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নির্মাণকাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। নির্মাণকাজের শুরু থেকেই ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজে বিভিন্ন অনিয়ম করে যাচ্ছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজে ধীরগতি হওয়ার কারণে মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। এমনকি ভারী বৃষ্টিতেও পানি জমে এই এলাকা একাকার হয়ে পড়ে। সড়কে হাঁটু পানি জমে যাওয়ায় এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এছাড়াও কতিপয় ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের দোকান সড়কের পাশে হওয়ায় ভারী বৃষ্টিপাত হলেই দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে যায়। এতে দোকানের মালপত্র নষ্ট হয়ে যায়। জলাবদ্ধতা আর কাদামাটিতেও ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ হলেই ভোগান্তি দূর হবে। তারা আরও জানান, এদিকে ‘জলাবদ্ধতার কারণে ময়লা-আবর্জনা পানিতে মিশে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পানি নামানোর ব্যবস্থা না রাখার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।’
অপরদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হাসমত আলী হাসু জানান, কার্যাদেশ পাওয়ার পর থেকে তারা কাজ করছেন। ড্রেন তৈরির কাজ শেষের দিকে। পল্লী বিদ্যুতের চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি না সরানোর কারণে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। খুঁটিগুলো সরালেই কাজ পূণরায় শুরু হবে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. খোরশেদ আলম বলেন, ‘খুঁটি সরানোর কাজ চলছে। বৃষ্টির কারণে ধীরগতি হচ্ছে। দু-এক দিনের মধ্যেই সরিয়ে নেয়া হবে।’
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জানান, ‘জলাবদ্ধতার বিষয়টি দুঃখজনক। তবে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতে আবেদন করা হয়েছে। খুঁটিগুলো সরিয়ে নিলেই দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।’
এমআর/সবা