০৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেপরোয়া শিকারিরা, অস্তিত্ব সংকটে হরিণ

  • জেলে সেজে বনের ভেতর তৈরি করে ফাঁদ
  • অসাধু কর্মী ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় চলে শিকার
  • ফোনে অর্ডার করলেই মেলে মাংস কেজি প্রতি বিক্রি হয় ১২০০-১৮০০ টাকা

মাংসের চাহিদা বন্ধ না হলে সুন্দরবনের হরিণ শিকার বন্ধ হবে না , শেখ ফরিদুল ইসলাম, চেয়ারম্যান, সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশন

মৎস্য ও বন্য প্রাণীর প্রজনন, বংশ বৃদ্ধি ও বিচরণ কার্যক্রমের সুরক্ষার জন্য টানা তিন মাস বনজীবীদের সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চলছে। কিন্তু এই সময়ে থেমে নেই হরিণশিকারিরা। তাঁরা নানা কৌশলে বন থেকে হরিণ শিকার করে লোকালয়ে এনে মাংস বিক্রি করছেন চড়া দামে। চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্যে হুমকির মুখে সুন্দরবনের হরিণ।
জানা গেছে, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বাগেরহাটের শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, মোংলা ও রামপাল, খুলনার দাকোপ এবং বরগুনার পাথরঘাটায় অনেকগুলো শিকারি চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শিকারিরা বনরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিতে জেলে সেজে খণ্ড খণ্ডভাবে সরঞ্জাম বনের ভেতর নিয়ে পরে একত্র করে ফাঁদ তৈরি করে। বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মী ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় চলে এই শিকার।
শরণখোলা, মোংলা ও মোরেলগঞ্জের বাসিন্দারা জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে তাঁরা প্রকাশ্যে হরিণ শিকার করতেন। পরে বন বিভাগের নানা নিষেধাজ্ঞা ও মামলা দেওয়ায় এসব এলাকার সাধারণ মানুষ শিকার বন্ধ করলেও চোরা শিকারি এবং অতি মুনাফালোভীরা শিকার অব্যাহত রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে বরগুনার চরদোয়ানি, জ্ঞানপাড়া ও খুলনার কয়রা এলাকার মানুষ বেশি জড়াচ্ছে এই অপরাধে। তাদের শিকার করা হরিণের মাংস বিক্রি হয় খুলনা, পিরোজপুর ও বাগেরহাট শহরের টাকাওয়ালা মানুষের কাছে।
শরণখোলার বৃদ্ধ শামসুর রহমান বলেন, ‘একটা সময় মাসে দু-চারটা হরিণ আমাদের গ্রামে চলে আসত। অনেকে ধরে জবাই করে খেত। কিন্তু অন্তত ১০ বছর হলো, আমাদের এলাকার মানুষ হরিণ শিকারের কথা চিন্তাও করে না। কারণ, একবার মামলা হলে ছাড়াতে অনেক টাকা লাগে। তবে বর্তমানে বরগুনা ও কয়রার লোকজন হরিণ শিকার করে নিয়ে যায়। ওরা নদীপথে এসে নদীপথেই নিয়ে যায়। বনরক্ষীদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে।’
সুন্দরবনের পাশের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, বিশেষ অনুষ্ঠান, আপ্যায়ন, উপঢৌকন ও ঘুষ হিসেবে হরিণের মাংস ব্যবহৃত হয়। বিশেষ ব্যক্তির মাধ্যমে ফোনে অর্ডার করলেই মেলে মাংস। প্রতি কেজি বিক্রি হয় ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। বিভিন্ন পক্ষকে হাত করে চলে এই ব্যবসা। অনেক ক্ষেত্রে চামড়াসহ মাংস কেটে গ্রাহকের কাছে পাঠানো হয় প্রমাণ হিসেবে। হরিণের মাংস বিক্রির জন্য গড়ে উঠেছে অবৈধ নেটওয়ার্ক। অপরিচিত বা সন্দেহজনক কারও কাছে স্বীকার না করলেও সিন্ডিকেট সদস্যদের মাধ্যমে সহজে মেলে এটি।
এ নিয়ে কথা হলে সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মাংসের চাহিদা বন্ধ না হলে সুন্দরবনের হরিণ শিকার বন্ধ হবে না। তিনি জানান, সুন্দরবনের বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণ। সুন্দরবন টিকিয়ে রাখতে হলে হরিণ রক্ষা খুবই জরুরি। তাই হরিণ শিকার বন্ধে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভোক্তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
হরিণ শিকারের জন্য মালা, ছিটকা ও হাঁটা নামের তিন ধরনের ফাঁদ ব্যবহার করে শিকারিরা। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় মালা। এই ফাঁদ বনের মধ্যে গাছের সঙ্গে নির্দিষ্ট উচ্চতায় মালার মতো করে পাতা থাকে। হরিণ হেঁটে যাওয়ার সময় ফাঁদে মাথা প্রবেশ করালেই আটকে পড়ে। আর ছিটকা হচ্ছে লম্বা ও চিকন গাছের মাথা নিচু করে বেঁধে রাখা একটি ফাঁদ। যখন হরিণ ওই গাছের পাতা খাওয়া শুরু করে এবং নাড়া লাগে, তখন ফাঁদ সক্রিয় হয়ে হরিণের গলায় ফাঁস পড়ে যায়। হাঁটা ফাঁদ এমনভাবে পাতা থাকে যে হরিণ হেঁটে গেলেই আটকে পড়ে যায়। ফাঁদ তৈরিতে আগে শুধু নাইলনের রশি ব্যবহার করলেও বর্তমানে সিলভারের তৈরি চিকন তার ব্যবহার করা হয়; যাতে সহজে হরিণ বা বনরক্ষীদের চোখে না পড়ে। এ ছাড়া বনের মধ্যে ছোট ছোট গর্তে জমে থাকা পানিতে বিষ দিয়ে রাখেন শিকারিরা। ওই পানি খেলে কিছুক্ষণের মধ্যে হরিণের শরীর অবশ হয়ে যায়, তখন সেগুলোকে ধরে জবাই করে শিকারিরা।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মে-জুন মাসে চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৮৬টি অভিযান পরিচালনা করেন বনকর্মীরা। এসব অভিযান থেকে সাড়ে ৩ হাজার ফাঁদ জব্দ করা হয়। সেই সঙ্গে শিকারের কাজে ব্যবহৃত ৫৩টি ট্রলার ও নৌকা জব্দ হয়। এই সময়ে ৩৪ জনকে আটক এবং ৭৯ জনকে আসামি করে ৫৪টি মামলা করা হয়। পাশাপাশি ৮৪ কেজি হরিণের মাংস, ছয়টি হরিণের মাথা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বন বিভাগ। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ হরিণ শিকারের সঙ্গে জড়িত ১৫০ জনের তালিকা তৈরি করেছে। তালিকায় নাম আসা ব্যক্তিদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে বন বিভাগ। সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে সুন্দরবনে চোরা শিকারিরা হরিণ শিকার করে আসছে। সম্প্রতি আমরা প্যারালাল লাইন সার্চিং পদ্ধতিতে টহল জোরদার করায় শিকারিদের দৌরাত্ম্য কিছুটা কমেছে। দীর্ঘদিনের পেতে রাখা ফাঁদও পেয়েছি। বনের মধ্যে টহল বাড়ানো হচ্ছে। অপরাধমুক্ত সুন্দরবন গড়তে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। যারা হরিণের মাংস খায়, তাদেরও মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। তাদের সামাজিকভাবে বর্জন করা দরকার।’

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা

বেপরোয়া শিকারিরা, অস্তিত্ব সংকটে হরিণ

আপডেট সময় : ০৭:১৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
  • জেলে সেজে বনের ভেতর তৈরি করে ফাঁদ
  • অসাধু কর্মী ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় চলে শিকার
  • ফোনে অর্ডার করলেই মেলে মাংস কেজি প্রতি বিক্রি হয় ১২০০-১৮০০ টাকা

মাংসের চাহিদা বন্ধ না হলে সুন্দরবনের হরিণ শিকার বন্ধ হবে না , শেখ ফরিদুল ইসলাম, চেয়ারম্যান, সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশন

মৎস্য ও বন্য প্রাণীর প্রজনন, বংশ বৃদ্ধি ও বিচরণ কার্যক্রমের সুরক্ষার জন্য টানা তিন মাস বনজীবীদের সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চলছে। কিন্তু এই সময়ে থেমে নেই হরিণশিকারিরা। তাঁরা নানা কৌশলে বন থেকে হরিণ শিকার করে লোকালয়ে এনে মাংস বিক্রি করছেন চড়া দামে। চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্যে হুমকির মুখে সুন্দরবনের হরিণ।
জানা গেছে, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বাগেরহাটের শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, মোংলা ও রামপাল, খুলনার দাকোপ এবং বরগুনার পাথরঘাটায় অনেকগুলো শিকারি চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শিকারিরা বনরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিতে জেলে সেজে খণ্ড খণ্ডভাবে সরঞ্জাম বনের ভেতর নিয়ে পরে একত্র করে ফাঁদ তৈরি করে। বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মী ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় চলে এই শিকার।
শরণখোলা, মোংলা ও মোরেলগঞ্জের বাসিন্দারা জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে তাঁরা প্রকাশ্যে হরিণ শিকার করতেন। পরে বন বিভাগের নানা নিষেধাজ্ঞা ও মামলা দেওয়ায় এসব এলাকার সাধারণ মানুষ শিকার বন্ধ করলেও চোরা শিকারি এবং অতি মুনাফালোভীরা শিকার অব্যাহত রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে বরগুনার চরদোয়ানি, জ্ঞানপাড়া ও খুলনার কয়রা এলাকার মানুষ বেশি জড়াচ্ছে এই অপরাধে। তাদের শিকার করা হরিণের মাংস বিক্রি হয় খুলনা, পিরোজপুর ও বাগেরহাট শহরের টাকাওয়ালা মানুষের কাছে।
শরণখোলার বৃদ্ধ শামসুর রহমান বলেন, ‘একটা সময় মাসে দু-চারটা হরিণ আমাদের গ্রামে চলে আসত। অনেকে ধরে জবাই করে খেত। কিন্তু অন্তত ১০ বছর হলো, আমাদের এলাকার মানুষ হরিণ শিকারের কথা চিন্তাও করে না। কারণ, একবার মামলা হলে ছাড়াতে অনেক টাকা লাগে। তবে বর্তমানে বরগুনা ও কয়রার লোকজন হরিণ শিকার করে নিয়ে যায়। ওরা নদীপথে এসে নদীপথেই নিয়ে যায়। বনরক্ষীদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে।’
সুন্দরবনের পাশের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, বিশেষ অনুষ্ঠান, আপ্যায়ন, উপঢৌকন ও ঘুষ হিসেবে হরিণের মাংস ব্যবহৃত হয়। বিশেষ ব্যক্তির মাধ্যমে ফোনে অর্ডার করলেই মেলে মাংস। প্রতি কেজি বিক্রি হয় ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। বিভিন্ন পক্ষকে হাত করে চলে এই ব্যবসা। অনেক ক্ষেত্রে চামড়াসহ মাংস কেটে গ্রাহকের কাছে পাঠানো হয় প্রমাণ হিসেবে। হরিণের মাংস বিক্রির জন্য গড়ে উঠেছে অবৈধ নেটওয়ার্ক। অপরিচিত বা সন্দেহজনক কারও কাছে স্বীকার না করলেও সিন্ডিকেট সদস্যদের মাধ্যমে সহজে মেলে এটি।
এ নিয়ে কথা হলে সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মাংসের চাহিদা বন্ধ না হলে সুন্দরবনের হরিণ শিকার বন্ধ হবে না। তিনি জানান, সুন্দরবনের বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণ। সুন্দরবন টিকিয়ে রাখতে হলে হরিণ রক্ষা খুবই জরুরি। তাই হরিণ শিকার বন্ধে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভোক্তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
হরিণ শিকারের জন্য মালা, ছিটকা ও হাঁটা নামের তিন ধরনের ফাঁদ ব্যবহার করে শিকারিরা। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় মালা। এই ফাঁদ বনের মধ্যে গাছের সঙ্গে নির্দিষ্ট উচ্চতায় মালার মতো করে পাতা থাকে। হরিণ হেঁটে যাওয়ার সময় ফাঁদে মাথা প্রবেশ করালেই আটকে পড়ে। আর ছিটকা হচ্ছে লম্বা ও চিকন গাছের মাথা নিচু করে বেঁধে রাখা একটি ফাঁদ। যখন হরিণ ওই গাছের পাতা খাওয়া শুরু করে এবং নাড়া লাগে, তখন ফাঁদ সক্রিয় হয়ে হরিণের গলায় ফাঁস পড়ে যায়। হাঁটা ফাঁদ এমনভাবে পাতা থাকে যে হরিণ হেঁটে গেলেই আটকে পড়ে যায়। ফাঁদ তৈরিতে আগে শুধু নাইলনের রশি ব্যবহার করলেও বর্তমানে সিলভারের তৈরি চিকন তার ব্যবহার করা হয়; যাতে সহজে হরিণ বা বনরক্ষীদের চোখে না পড়ে। এ ছাড়া বনের মধ্যে ছোট ছোট গর্তে জমে থাকা পানিতে বিষ দিয়ে রাখেন শিকারিরা। ওই পানি খেলে কিছুক্ষণের মধ্যে হরিণের শরীর অবশ হয়ে যায়, তখন সেগুলোকে ধরে জবাই করে শিকারিরা।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মে-জুন মাসে চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৮৬টি অভিযান পরিচালনা করেন বনকর্মীরা। এসব অভিযান থেকে সাড়ে ৩ হাজার ফাঁদ জব্দ করা হয়। সেই সঙ্গে শিকারের কাজে ব্যবহৃত ৫৩টি ট্রলার ও নৌকা জব্দ হয়। এই সময়ে ৩৪ জনকে আটক এবং ৭৯ জনকে আসামি করে ৫৪টি মামলা করা হয়। পাশাপাশি ৮৪ কেজি হরিণের মাংস, ছয়টি হরিণের মাথা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বন বিভাগ। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ হরিণ শিকারের সঙ্গে জড়িত ১৫০ জনের তালিকা তৈরি করেছে। তালিকায় নাম আসা ব্যক্তিদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে বন বিভাগ। সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে সুন্দরবনে চোরা শিকারিরা হরিণ শিকার করে আসছে। সম্প্রতি আমরা প্যারালাল লাইন সার্চিং পদ্ধতিতে টহল জোরদার করায় শিকারিদের দৌরাত্ম্য কিছুটা কমেছে। দীর্ঘদিনের পেতে রাখা ফাঁদও পেয়েছি। বনের মধ্যে টহল বাড়ানো হচ্ছে। অপরাধমুক্ত সুন্দরবন গড়তে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। যারা হরিণের মাংস খায়, তাদেরও মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। তাদের সামাজিকভাবে বর্জন করা দরকার।’