ছাত্র-জনতার জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে প্রথমবারের মতো নওগাঁয় অনুষ্ঠিত হলো প্রতীকী ম্যারথন। ম্যারাথনে সকল বয়সের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিলো। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার শত শত মানুষরা ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করেন। শিশু, বয়স্ক ও মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিলো চোখে পড়ার মতো। শুধু দিবসেই নয় এমন আয়োজনের ধারাবাহিকতা চায় নওগাঁবাসী। ২৪-এর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ উপহার পেয়েছে বাঙ্গালীজাতি। সেই জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথমবর্ষ উপলক্ষে সরকারী ভাবে সারা দেশে নানা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় নওগাঁ জেলা ক্রীড়া অফিস ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন ভিন্নধর্মী এই প্রতীকী ম্যারাথনের আয়োজন করে। ১৮ জুলাই (শুক্রবার) সকাল সাড়ে সাতটায় ম্যারাথনটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের নওযোয়ান মাঠে গিয়ে শেষ হয়। ম্যারাথনের প্রথমেই ছিলেন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদ হওয়া পরিবারদের স্বজন ও আহত যোদ্ধারা। প্রতীকী ম্যারাথনে শুধু বয়স্ক মানুষরাই নয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষরা অংশগ্রহণ করে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অংশগ্রহণ করেন ম্যারাথনে। ম্যারাথন শেষে নওযোয়ান মাঠে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা শেষে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করা নওগাঁর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মো: ফজলে রাব্বী জানান জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে স্মরনীয় করে রাখতে এমন ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমরা উচ্ছ্বসিত। এমন ম্যারাথন আয়োজনের ধারাবাহিকতা চায় নওগাঁবাসী। আমরা সব সময়ই জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহিদ হওয়া শহিদদের স্মরণে রাখতে চাই। এই প্রতীকী ম্যারাথনের মাধ্যমে দেশের সরকারের কাছে সংস্কার শেষে সুন্দর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচর কামনা করছি। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ঢাকায় শহিদ হওয়া বিপ্লব মন্ডলের বাবা ষাটোর্ধ্ব লুৎফর মন্ডল জানান এমন আয়োজন সত্যিই অসাধারণ। এমন আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শহিদ হওয়া শহিদদের সম্মানে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে। এভাবেই যেন জুলাই-আন্দোলনের সকল শহিদদের প্রতি বছরই স্মরণ করা হয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইবনুল আবেদীন জানান জুলাই-আগস্ট আন্দোলন আমাদের জীবনের বড় একটি অংশে পরিণত হয়েছে। বহুদিন পর এমন ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করা। এই ম্যারাথন যুব সমাজ ও আগামী প্রজন্মদের মাদক থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি সকল বয়সের মানুষের শরীরকে সুস্থ্য রাখার পাথেয় হিসেবে ভথমিকা রাখবে। যদিও বা হঠাৎ করে এমন ম্যারাথনে দৌড় দিয়ে শরীরে ব্যথা অনুভূত হচ্ছে তবুও আয়োজনটি খুবই ভালো ছিলো। শুধু সরকার নয় দেশের অন্যান্য সংগঠনগুলো যদি এমন আয়োজনের ব্যবস্থা করে তাহলে প্রায়ই সারা বছরই এমন ম্যারাথন দৌড়ে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন আগ্রহীরা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল জানান জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে বুকের তাজা রক্ত দেওয়া শহিদদেও সব সময় স্মরণে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করার প্রত্যয়কে বুকে ধারণ করার জন্যই এমনই ব্যতিক্রমী প্রতীকী ম্যারাথনের আয়োজন করা। এমন আয়োজনের মাধ্যমে নওগাঁসহ দেশবাসী জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে পারবেন। আগামীর বৈষম্য বিহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাদের অবদান রয়েছে সেই মানুষ সম্পর্কে নওগাঁর সর্বস্তরের মানুষরা জানতে পারবেন। আমরা এভাবেই জুলাই-আন্দোলনে শহিদ হওয়া শহিদদের অবদানকে সামনে নিয়ে আগামীর শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধশালী একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যেতে চাই। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকে স্মরণ করতে আগামীতে আরো এই ধরণের ভিন্নধর্মী আয়োজন অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন এই কর্মকর্তা।























