গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুরঘাট এলাকায় তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত ‘তিস্তা পিসি গার্ডার সেতু’ আগামী আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২ আগস্ট সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হতে পারে।
১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি গাইবান্ধার সঙ্গে কুড়িগ্রামের চিলমারী ঘাটকে যুক্ত করেছে। সেতুটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় চীনের চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন লিমিটেড। ২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর এই প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।
সেতুটি চালু হলে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার দূরত্ব ১৩৫ কিলোমিটার কমে আসবে, এতে সময় সাশ্রয় হবে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। পাশাপাশি উন্নয়ন ঘটবে গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার। কৃষিপণ্য, কাঁচামাল ও শিল্পজাত পণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে।
সেতুটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে এক ধরনের বিনোদনকেন্দ্র। প্রতিদিন শত শত মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে সেতুটি দেখতে আসছেন। কেউ হাঁটছেন, ছবি তুলছেন, কেউবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করছেন। শিশুদের জন্য বসানো হয়েছে নাগরদোলা, রয়েছে অস্থায়ী খাবার ও খেলনার দোকান।
স্থানীয়দের আশা, সেতুটি চালু হলে বদলে যাবে এলাকার চিত্র
চিলমারীর ব্যবসায়ী আইনুল হক বলেন, “এখন আর ঘুরে যেতে হবে না। চরের কৃষকরা তাদের পণ্যের সঠিক দাম পাবেন।”
চরের কৃষক তারা মিয়া বলেন, “আগে যোগাযোগ না থাকায় আমাদের কাঁচামালের দাম পাই না। এখন পাইকাররা নিজেরাই আসবে।”
সুন্দরগঞ্জের রেজাউল করিম বলেন, “এটা দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল। যোগাযোগের দ্বার খুলে যাবে।”
ফুলবাড়ীর চাকরিজীবী রাইসুল কামাল জানান, “বর্ষায় নদী পার হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন আর সে ঝুঁকি থাকবে না।”
গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, “এটি এলজিইডির দেশের সবচেয়ে বড় সেতু প্রকল্প। মূল সেতুর কাজ শেষ। কিছু সংযোগ সড়ক ও বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ বাকি রয়েছে। সেতুটি চালু হলে কৃষক, ব্যবসায়ীসহ দুই জেলার মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।”
গাইবান্ধা জেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মাকসুদার রহমান বলেন, “তিস্তা সেতু চালু হলে গাইবান্ধা হয়ে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের মানুষ ঢাকায় সহজে যাতায়াত করতে পারবে। এতে গাইবান্ধার বাণিজ্যিক প্রসার ঘটবে।”
উল্লেখ্য, ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে পিছিয়ে থাকা গাইবান্ধা জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে তিস্তা পিসি গার্ডার সেতুর মাধ্যমে। যোগাযোগ, অর্থনীতি ও পর্যটনের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে এই সেতু।
এমআর/সবা























