কক্সবাজারের মহেশখালীতে চলতি মৌসুমে মিষ্টি পানের বাম্পার ফলন হলেও টানা বৃষ্টিতে বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। উৎপাদন বেড়েছে, কিন্তু বাজারমূল্য কমে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
মহেশখালীর বিভিন্ন গ্রামের পানচাষিরা জানান, মাস দুই আগে প্রতি বিড়া পান ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন সেই পানই বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫০ টাকায়। এমনকি ছোট মানের পান ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পানচাষি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আগে এক বিড়া পান বিক্রি করেছি ৫০০ টাকায়। এখন একই মানের পান যাচ্ছে ১৫০ টাকায়।” আরেক চাষি রহমতুল্লাহ জানান, “টানা বৃষ্টিতে বরজে পানি জমে গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই সময়ের আগেই জোর করে পান তুলে বিক্রি করতে হচ্ছে লোকসানে।”
মুন্সিরডেইল গ্রামের কৃষক আব্দুল গফুর জানান, “১০ শতক জমিতে বরজ করে ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন পানের দাম কম থাকায় পুঁজি উঠে আসবে কিনা সন্দেহ।”

রপ্তানিযোগ্য পানের বাজারেও মন্দাভাব
মহেশখালীর বিখ্যাত মিষ্টি পান শুধু দেশেই নয়, রপ্তানি হয় সৌদি আরব, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। কিন্তু এবার ফলন ভালো হলেও বাজারে চাহিদা ও দাম কমে যাওয়ায় লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মহেশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, “এ বছর ৪ হাজার একর জমিতে প্রায় ১৩ হাজার বরজে চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ২০ টন পান উৎপাদন হয়েছে। বৃষ্টির কারণে অনেক বরজ নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা সাধ্যমতো পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।”
সরকারি সহায়তার দাবি
মহেশখালীর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কাদের বাবুল বলেন, “বর্তমানে কৃষিপণ্যের দাম বাড়লেও পানচাষিরা তাদের উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। বরজ সামলানো আর সংসার চালানো দুইটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।”
চাষিরা সরকারের কাছে সহজ শর্তে ও সুদমুক্ত কৃষিঋণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারেন এবং আগামীতেও এই ঐতিহ্যবাহী পানের চাষ ধরে রাখতে পারেন।
এমআর/সবা























