০৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গবেষণা জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত, তবু রিসার্চ মেথডোলজি পড়াবেন রাবি শিক্ষক

গবেষণা প্রবন্ধে গুরুতর চৌর্যবৃত্তির (প্লেজিয়ারিজম) অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাহাল উদ্দিনকে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ‘রিসার্চ মেথডোলজি’ পড়ানোর জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাবির শিক্ষক মহলে অসন্তোষ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

অধ্যাপক সাহাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রকাশনা জালিয়াতির অভিযোগ আনেন তারই সহকর্মী আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোরশেদুল ইসলাম। তিনি জানান, ২০১২ ও ২০১৮ সালে সহযোগী ও পূর্ণ অধ্যাপক হওয়ার জন্য যে সব প্রবন্ধ জমা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর একাধিকটিতে প্লেজিয়ারিজমের হার ৬৪ থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত। তার অভিযোগ, এইসব গবেষণার বেশিরভাগই অন্য গবেষকের লেখা থেকে চুরি করা হয়েছে।

২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে অভিযোগ তোলেন ড. মোরশেদুল। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন জমা হয়নি।

এদিকে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত চলাকালে কোনো অভিযুক্ত শিক্ষককে ক্লাস বা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অধ্যাপক সাহাল উদ্দিনকে তা দেওয়া হয়নি। উল্টো পুলিশ একাডেমির মতো জায়গায় গবেষণা পদ্ধতি পড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

আইন বিভাগের একাধিক শিক্ষক বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজনের বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ থাকা অবস্থায় তাকে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ক্লাস করানো মানে শিক্ষা ও গবেষণাকে অসম্মান করা।

তবে অধ্যাপক সাহাল উদ্দিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের চিঠি আমি পাইনি। যে অভিযোগ করছে সে নিজেই ঠিকমতো ক্লাস নেয় না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেবে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদুরোর বিচার করা হবে

গবেষণা জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত, তবু রিসার্চ মেথডোলজি পড়াবেন রাবি শিক্ষক

আপডেট সময় : ০৬:১৫:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫

গবেষণা প্রবন্ধে গুরুতর চৌর্যবৃত্তির (প্লেজিয়ারিজম) অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাহাল উদ্দিনকে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ‘রিসার্চ মেথডোলজি’ পড়ানোর জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাবির শিক্ষক মহলে অসন্তোষ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

অধ্যাপক সাহাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রকাশনা জালিয়াতির অভিযোগ আনেন তারই সহকর্মী আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোরশেদুল ইসলাম। তিনি জানান, ২০১২ ও ২০১৮ সালে সহযোগী ও পূর্ণ অধ্যাপক হওয়ার জন্য যে সব প্রবন্ধ জমা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর একাধিকটিতে প্লেজিয়ারিজমের হার ৬৪ থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত। তার অভিযোগ, এইসব গবেষণার বেশিরভাগই অন্য গবেষকের লেখা থেকে চুরি করা হয়েছে।

২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে অভিযোগ তোলেন ড. মোরশেদুল। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন জমা হয়নি।

এদিকে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত চলাকালে কোনো অভিযুক্ত শিক্ষককে ক্লাস বা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অধ্যাপক সাহাল উদ্দিনকে তা দেওয়া হয়নি। উল্টো পুলিশ একাডেমির মতো জায়গায় গবেষণা পদ্ধতি পড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

আইন বিভাগের একাধিক শিক্ষক বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজনের বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ থাকা অবস্থায় তাকে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ক্লাস করানো মানে শিক্ষা ও গবেষণাকে অসম্মান করা।

তবে অধ্যাপক সাহাল উদ্দিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের চিঠি আমি পাইনি। যে অভিযোগ করছে সে নিজেই ঠিকমতো ক্লাস নেয় না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেবে।

এমআর/সবা