কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
মা না থাকলে আাদর ভালোবাসা থাকে না। মাদরাসার মাসিক ছুটিতে সবাই বাড়িতে যায়। কারোর মা এসে নিয়ে যায়। ওরা যখন মার সাথে
বাড়িতে যায় তখন আমি কান্দি, আমার খুব কষ্ট হয়। তবে এখানকার বন্ধুদের অনেক আপন হই। এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন, কালীগঞ্জ উপজেলার আমজাদ আলী এতিমখানার এতিম শিশু নুর মোহাম্মদ। মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে এখানে থাকতে কেমন লাগে এমন প্রশ্নে এভাবেই তার অনুভুতি প্রকাশ করে এতিম শিশু নুর মোহাম্মদ।
নুর মোহাম্মদের মতো কালীগঞ্জ উপজেলার নিবন্ধিত ৯ এতিমখানায় আরো অর্ধশত এতিম লেখাপড়া করছে। তাদেরও মাসিক ছুটি কাটে নুর
মোহাাম্মদের মতো বাবা-মা ও পরিবার ছাড়া। এসব এতিম শিশুরা বেড়ে উঠে পিতা-মাতার আদর ও স্নেহ-ভালবাসা বঞ্চিত
হয়ে মানসিক কষ্টের মধ্যে। তাদের দেখভাল করা, সঠিকভাবে গড়ে তোলার কেউ থাকে না। তাই এতিম শিশুদের জীবনে নেমে আসে আঁধারের কালো ছায়া।
বাধ্য হয় এতিম খানায় রেখে দিতে হয় এমন কোমলমতি শিশুদের। কালীগঞ্জ উপজেলায় নিবন্ধিত এতিখানা রয়েছে ৯টি। প্রতিমাসে তাদের
জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বরাদ্দের টাকা বছরে দুইবার ছাড় করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলায় ৪৬টি এতিম খানা রয়েছে, যা
সবগুলোই মাদরাসার সাথে সংযুক্ত। এরমধ্যে সমাজ সেবা অধিদপ্তর ৯টি এতিম খানার নিবন্ধন দিয়েছে। নিবন্ধনপ্রাপ্ত এতিম খানার ব্যয়ভার সরকারি
ভাবে বহন করা হলেও তা প্রযোজনের তুলনায় পর্য়াপ্ত নয়। এইসব এতিম খানায় ধনী ও হৃদয়বান ব্যক্তিগণের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত হয়ে থাকে।
উপজেলার আড়পাড়া জঙ্গলী শাহ কারীগরি বেসরকারী এতিম খানায় আশ্রয় নেওয়া শিশুদের সঙ্গে কথা হয় এতিমখানায় কিভাবে দিন কাটে তা জানতে
চাইলে শিশুরা বলে, সব বন্ধুরা মিলে খেলা করি পড়ালেখা করি। যেদিন মাছ মাংস দিয়ে খায়, সেদিন খেলা-ধুলা ও হইচই করি ঈদের আনন্দের মতো।
উপজেলার আমজাদ আলী এতিমখানার এতিম বিল্লাল নামের এক শিশুটি জানায়, সে এবার ২২ পারা হেফজ পড়ছে। তার মা থাকলেও বাবা নেই, মা পরের
বাসায় কাজ করতো তাই আমার এতিমখানায় রেখে গেছে। আমার মায়ের বড় অসুখ হয়েছিল অনেক দিন দেখতে আসেনা। মা’র কথা খুব মনে পড়ছে
এবার মাসিক ছুটিতে তো কেউ নিতে আসেনি।
এতিমখানা মাদরাসার পরিচালক হাফেজ হেদাতে উল্লাহ জানান, এসব এতিম শিশুরা অসহায় না থাক পেয়ে যাক নতুন জীবনের আলাদা এক স্বাদ। কুরআনের হাফেজ মাওলানা হয়ে ওদের জীবন হোক সফল ও সমৃদ্ধময় এমনটিই কামনা। সেই সাথে সকলের মহব্বতের দৃুষ্টি যেনে থাকে এতিম শিশুদের প্রতি সেই আহবান রইল।
























