নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে চলতি আমন মৌসুমে ১৪ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ৩০ জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত রোপণ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমিতে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৪০ শতাংশ। এতে কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে নিচু জমির মালিকদের মধ্যে।
অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে বিলম্ব
বদলগাছী উপজেলা কৃষি অফিসার সাবাব ফারহান জানান, “চলতি মৌসুমে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় নিচু জমিতে পানি জমে আছে। এ কারণে অনেক জায়গায় চারা রোপণ সম্ভব হচ্ছে না। তবে উচ্চভূমিতে রোপণ কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলছে।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে রোপণ গতি বাড়বে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে।
কৃষকের কণ্ঠে বাস্তবতা
উপজেলার ঝাড়ঘরিয়া গ্রামের কৃষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “বৃষ্টির পানি জমে আছে, জমিতে নামাই যায় না। চারা তো তৈরি আছে, কিন্তু রোপণ করতে পারছি না। দিন যায়, দুশ্চিন্তা বাড়ে।”
একই গ্রামের শ্রী অনিল চন্দ্র মণ্ডল জানান, “গত বছরের তুলনায় এ বছর পানি অনেক বেশি জমেছে। সময়মতো ধান না লাগাতে পারলে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা থাকে।”
ফসল চক্রে প্রভাব পড়ার শঙ্কা
স্থানীয় কৃষিবিদদের মতে, আমন মৌসুম দীর্ঘ হলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রোপণ না হলে ধানের ফলন কমে যায়। এছাড়া দেরিতে রোপণ হলে রবি ফসলের জন্য জমি প্রস্তুত করতেও বিলম্ব হয়, ফলে পুরো ফসল চক্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একাধিক চাষাবাদ নির্ভর অঞ্চলে এটি অর্থনৈতিকভাবে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি
বদলগাছী অঞ্চলে জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাবও উঠে এসেছে আলোচনায়। অনেক নিচু এলাকা থেকে দ্রুত পানি অপসারণের ব্যবস্থা নেই বলেই প্রতিবছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষি বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
আমন ধান বাংলাদেশের প্রধান মৌসুমি খাদ্যশস্যগুলোর একটি। বদলগাছীর মতো উৎপাদনবান্ধব এলাকায় সময়মতো রোপণ না হলে তা কেবল স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য নয়, গোটা জেলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাকেও বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এখন সময় দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের—না হলে প্রাকৃতিক অনুকূলতা সত্ত্বেও কৃষকের মাঠ খালি থেকে যেতে পারে।
এমআর/সবা





















