০৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খানসামায় দুই প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে অসহায় এক দম্পতির মানবেতর জীবন

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের দুবলিয়া হঠাৎপাড়া গ্রামে শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষম দুই প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন বৃদ্ধ মোঃ আশরাফ আলী ও তাঁর স্ত্রী মোছাঃ আলেয়া বেগম। অভাব-অনটন, বয়সের ভার এবং সন্তানদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও সেবায় ক্লান্ত এই পরিবারটি এখন টিকে আছে শুধু সমাজের সহানুভূতির আশায়।

৩৫ বছর বয়সী মোঃ আনোয়ার হোসেন ও ৩২ বছর বয়সী মোঃ আক্কাস আলী—দু’জনেই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। সারাক্ষণ তারা বিছানায় পড়ে থাকেন, নিজে থেকে চলাফেরা তো দূরের কথা, এমনকি নিজের অসুস্থতার কথাও ঠিকভাবে জানাতে পারেন না। বারবার নানা রোগে আক্রান্ত হন তাঁরা। ফলে সার্বক্ষণিক পরিচর্যা, চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থাও করতে হয় পরিবার থেকেই।

বৃদ্ধ বাবা আশরাফ আলীর বয়স ৭৬ বছর। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও, এখনো তিনি দিনমজুরের কাজ করে যা আয় করেন, তা দিয়েই কোনো রকমে দু’মুঠো ভাত জোগাড় করেন। স্ত্রী আলেয়া বেগমও ৬০ বছর বয়সে অন্যের বাড়িতে কাজ করে স্বামীকে সহায়তা করেন। তবু, এই যৎসামান্য আয়ে দুই সন্তান ও নিজেদের চিকিৎসা চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

চার সন্তানের মধ্যে একজন মারা গেছেন, বড় ছেলে আলম আলী স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আলাদা থাকেন। ফলে দুই প্রতিবন্ধী ছেলের দায়িত্ব আজ পুরোপুরি বাবা-মায়ের কাঁধে।

পরিবারটি মানুষের দানকৃত জমিতে তৈরি একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে বসবাস করছে। প্রতিদিনের জীবন যেখানে নিজেকে চালানোই কঠিন, সেখানে প্রতিবন্ধী সন্তানদের চিকিৎসা ও সেবার বিষয়টি যেন পাহাড়সম ভার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মোঃ আশরাফ আলী বলেন, “আমার স্ত্রী আর দুই প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে কীভাবে যে বাঁচি, তা আল্লাহই জানেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা পাই, তা দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব হয় না। মাঝেমধ্যে মানুষজনের কাছে সাহায্য চাইতে হয়। যদি বড় ধরনের কোনো সহায়তা পেতাম, তাহলে ছেলেদের একটু ভালোভাবে রাখার চেষ্টা করতে পারতাম।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন জানায়, পরিবারটি কিছু সরকারি ভাতা পেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। সমাজসেবা বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এই অসহায় দম্পতির পাশে দাঁড়ানো এখন মানবিক দায়িত্ব। সমাজের বিত্তবান, সহানুভূতিশীল ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ—একটু সহানুভূতি, একটু সাহায্য হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে একটি পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। বাবা-মায়ের চোখে নতুন করে জ্বলে উঠতে পারে আশার আলো, যদি আমরা এগিয়ে আসি।

আসুন আমরা সবাই মানবতার সেবাই এগিয়ে আসি। মানবিকতাই হোক আমাদের পরিচয়।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচিত সরকার এলেই সাংবাদিকেরা সব পেয়ে যাবেন, এমন ভাবার কারণ নেই: মতিউর রহমান

খানসামায় দুই প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে অসহায় এক দম্পতির মানবেতর জীবন

আপডেট সময় : ০৬:০১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের দুবলিয়া হঠাৎপাড়া গ্রামে শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষম দুই প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন বৃদ্ধ মোঃ আশরাফ আলী ও তাঁর স্ত্রী মোছাঃ আলেয়া বেগম। অভাব-অনটন, বয়সের ভার এবং সন্তানদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও সেবায় ক্লান্ত এই পরিবারটি এখন টিকে আছে শুধু সমাজের সহানুভূতির আশায়।

৩৫ বছর বয়সী মোঃ আনোয়ার হোসেন ও ৩২ বছর বয়সী মোঃ আক্কাস আলী—দু’জনেই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। সারাক্ষণ তারা বিছানায় পড়ে থাকেন, নিজে থেকে চলাফেরা তো দূরের কথা, এমনকি নিজের অসুস্থতার কথাও ঠিকভাবে জানাতে পারেন না। বারবার নানা রোগে আক্রান্ত হন তাঁরা। ফলে সার্বক্ষণিক পরিচর্যা, চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থাও করতে হয় পরিবার থেকেই।

বৃদ্ধ বাবা আশরাফ আলীর বয়স ৭৬ বছর। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও, এখনো তিনি দিনমজুরের কাজ করে যা আয় করেন, তা দিয়েই কোনো রকমে দু’মুঠো ভাত জোগাড় করেন। স্ত্রী আলেয়া বেগমও ৬০ বছর বয়সে অন্যের বাড়িতে কাজ করে স্বামীকে সহায়তা করেন। তবু, এই যৎসামান্য আয়ে দুই সন্তান ও নিজেদের চিকিৎসা চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

চার সন্তানের মধ্যে একজন মারা গেছেন, বড় ছেলে আলম আলী স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আলাদা থাকেন। ফলে দুই প্রতিবন্ধী ছেলের দায়িত্ব আজ পুরোপুরি বাবা-মায়ের কাঁধে।

পরিবারটি মানুষের দানকৃত জমিতে তৈরি একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে বসবাস করছে। প্রতিদিনের জীবন যেখানে নিজেকে চালানোই কঠিন, সেখানে প্রতিবন্ধী সন্তানদের চিকিৎসা ও সেবার বিষয়টি যেন পাহাড়সম ভার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মোঃ আশরাফ আলী বলেন, “আমার স্ত্রী আর দুই প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে কীভাবে যে বাঁচি, তা আল্লাহই জানেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা পাই, তা দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব হয় না। মাঝেমধ্যে মানুষজনের কাছে সাহায্য চাইতে হয়। যদি বড় ধরনের কোনো সহায়তা পেতাম, তাহলে ছেলেদের একটু ভালোভাবে রাখার চেষ্টা করতে পারতাম।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন জানায়, পরিবারটি কিছু সরকারি ভাতা পেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। সমাজসেবা বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এই অসহায় দম্পতির পাশে দাঁড়ানো এখন মানবিক দায়িত্ব। সমাজের বিত্তবান, সহানুভূতিশীল ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ—একটু সহানুভূতি, একটু সাহায্য হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে একটি পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। বাবা-মায়ের চোখে নতুন করে জ্বলে উঠতে পারে আশার আলো, যদি আমরা এগিয়ে আসি।

আসুন আমরা সবাই মানবতার সেবাই এগিয়ে আসি। মানবিকতাই হোক আমাদের পরিচয়।

এমআর/সবা