কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়কে ‘লালকার্ড’ দেখিয়ে প্রত্যাহারের আহ্বান শিক্ষার্থীদের; ৩ দফা দাবি
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মূল্যবোধের স্বার্থে ঢাকায় স্থাপিত জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের অনুমোদন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে মর্মে অন্তর্বর্তী সরকারকে কড়া বার্তা দিয়েছে কক্সবাজার জেলার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
৭জুলাই, বৃহস্পতিবার, সকাল ১১টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীবৃন্দ, কক্সবাজার’ ব্যানারে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়কে প্রত্যাখ্যান করে ‘লালকার্ড সমাবেশ’ ও মানববন্ধন করে। সমাবেশ থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়কে বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা মনে করি, জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আধুনিক ভার্সন। এটি দেশে অবস্থান করলে দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হবে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো আমরাও আজ কক্সবাজারে উপস্থিত হয়েছি জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের সাথে সরকার যে চুক্তি করেছে, লাল কার্ড দেখানোর মাধ্যমে সেটি বাতিলের দাবিতে কর্মসূচি দিয়েছি। আমাদের স্পষ্ট অবস্থান হচ্ছে বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় থাকবে না।
শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকার কারো সাথে আলোচনা না করে বিদেশী পরামর্শে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে দেশের নানান গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে বিদেশীদের হাতে দিয়ে দিতে চাইছে। এখন আবার ‘নন ডিসক্লোজার এ্যাগ্রিমেন্ট’ এর নামে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানী-রপ্তানীসহ দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে আমেরিকার কাছে বিকিয়ে দিতে চাইছে! অথচ এদেশের ছাত্রজনতার জুলাইয়ের রক্তাক্ত আন্দালনটি ছিল ফ্যসিবাদ ও ভারতীয় তথা বৈদেশিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি- সরকার জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে বাদ দিয়ে দেশকে আবারো বৈদেশিক আধিপত্যবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সংস্কারের নামে দেশকে আমেরিকানাইজেশন করা হচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় তারই অংশ!
শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, এই জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপন করতে পারলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং আতঙ্কে থাকবে এই কক্সবাজারে মানুষ। কেননা কক্সবাজার কে নিয়ে পশ্চিমাদের দীর্ঘ পরিকল্পনা রয়েছে।
এটি স্থাপন করতে পারলেই আরাকান আর্মিকে করিডোর, চট্টগ্রামের বন্দর ,রোহিঙ্গাদের স্থায়ী বসবাসের সুবিধা, সেন্টমার্টিনে পশ্চিমাদের ঘাঁটি করতে সহজ হবে।
শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন – “ গাজায় যখন মানুষ মরে, মানবাধিকার কী করে? মা মাটির মোহনা, পশ্চিমাদের দিব না।
শিক্ষার্থীরা লালকার্ড সমাবেশ থেকে ৩ দফা দাবী পেশ করেন –
১. জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের অফিসের অনুমোদন বাতিল করতে হবে।
২. অন্তর্বর্তী সরকার দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মূল্যবোধের পক্ষে অবস্থান করে অর্থাৎ সরকার এলজিবিটিকিউ বা সমকামিতা ও পতিতাবৃত্তিকে সমর্থন করে না- শিক্ষার্থীদেরকে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে।
৩. আমেরিকার সাথে ‘নন ডিসক্লোজার এ্যাগ্রিমেন্ট’ নামক অধিনতামূলক গোপন চুক্তি করা যাবে না।
মানবাধিকার কার্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে শিক্ষার্থীরা দেশবাসীকে সপ্তাহব্যাপী ফেসবুক প্রফাইল পিকচার পরিবর্তন করে ‘লালকার্ড’ প্রফোইল পিকচার ব্যবহার কর্মসূচী পালন করার আহবান জানান।























