১২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশজুড়ে মাদকের ভয়াল থাবা

  • সীমান্তের ৫০টি স্পট দিয়ে দেশে ঢুকছে মাদকের চালান
  • ঢাকাসহ গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সক্রিয় মাদক কারবারিরা
  • দেশে ৩২ ধরনের মাদকের চাহিদা বেশি, ৮০ ভাগই মাদকাসক্ত
  • মাদকের কারণে দেশ থেকে বছরে পাচার হচ্ছে ৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা
  • দৌলতপুর সীমান্তে ১০ কোটি টাকার মাদক-অস্ত্রসহ আটক ২

দেশজুড়ে ভয়ঙ্কর থাবা বিস্তার করেছে ইয়াবা-আইসসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। শুধু ঢাকা শহর নয় গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও অবাধে চলছে মাদক ব্যবসা। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে সব ধরনের মাদক। মোবাইল ফোন এমনকি অনলাইন অ্যাপ ব্যাহার করলেই বাসায় চলে আসছে এসব মরণ নেশা। মাদকদ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে বেড়েছে অপরাধও। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের অন্তত ৫০টি স্পট দিয়ে অবাধে দেশে ঢুকছে মাদকদ্রব্য। সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, দেশে মরন নেশা ইয়াবা, হেরোইন, আইসসহ মাদকসেবীদের কাছে ৩২ ধরনের মাদকের চাহিদা রয়েছে। দেশের ৮০ শতাংশের শিশু-কিশোর ও তরুণদের বেশিই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। এসব মাদক বেচাকেনার ক্ষেত্রে প্রতিবছর দেশ থেকে পাচার হচ্ছে ৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। বিজিবি বলছে, কুষ্টির দৌলতপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ১০ কোটি টাকার অস্ত্র-মাদকের চালান জব্দসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়াবার স্বর্গরাজ্য খ্যাত কক্সবাজারের উখিয়ার কাটাখাল সীমান্ত থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বিজিবি। এছাড়া কক্সবাজারে রেকর্ড ১ হাজার ৩২২ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি গত জুলাই মাসে দেশের সীমান্তসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েক কোটি টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে বিজিবি। অপরাধ বিশ্লেষক জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) সাবেক রেজিস্ট্রার, সৈয়দ ফারুক হোসেনের মতে, মাদক সেবনে এক শ্রেণির তরুণ চুরি, ছিনতাইসহ নানারকম অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। যার কারণে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবকসহ আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। তবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, শুধু মাদকের বাহকদের ধরে লাভ নেই। মাদক নির্মূলে সবার আগে গডফাদারদের ধরতে হবে। কোনো ধরনের মাদক যেন বাহির থেকে দেশে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে নতুনভাবে মাঠে ফিরে আসা বিএনপি-জামায়াতসহ নতুন নতুন রাজনৈতিক দলের নানা কর্মসূচি আর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবিতে চলমান আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে বেশি তৎপর রয়েছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা। আর এ সুযোগে মাদক কারবারিরা ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে মোবাইল ও অনলাইনভিত্তিক অ্যাপের মাধ্যমে মাদক বাণিজ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চক্রের একটি গ্রুপ প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকার অন্তত ৫০টি হটস্পটে মাদকদ্রব্য উৎপাদনের কারখানা তৈরি করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্য অর্থ সংগ্রহ করে জল ও স্থলপথে নানা কৌশলে প্রতিদিনই মরণ নেশা ইয়াবা, হেরোইন, আইসসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্যের বড় বড় চালান এ দেশে পাঠাচ্ছে। এরপর হাতবদল হয়ে যাত্রী ও পণ্যবাহী বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
জানা যায়, নিষিদ্ধ জগতে অস্ত্রের পর মাদকই এখন সবচেয়ে লাভবান ব্যবসা। বিশেষ করে ফেনসিডিল ও ইয়াবা সহজলভ্য এবং বহনযোগ্য বলে এর বিস্তার দেশজুড়ে। দেশের এমন কোনো এলাকা খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে মাদকের ভয়াল থাবা নেই। দেশজুড়ে এক বিশাল জাল বিস্তার করে আছে এই মরণ নেশার ভয়াবহ সিন্ডিকেট। আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র মাফিয়াদের সঙ্গে রয়েছে এদের শক্ত ও গভীর যোগাযোগ। সম্প্রতি ইয়াবার যেসব চালান ধরা পড়েছে সেখানেও দেখা যায় মিয়ানমারের নাগরিকরা জড়িত। টেকনাফ হয়ে মিয়ানমার থেকে বেশিরভাগ মাদক এ দেশে আসছে। এছাড়াও রয়েছে মাদকের বিভিন্ন রুট। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর, সীমান্ত এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি। এর কিছু ধরা পড়ে। বাকিটা চলে যায় মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের কাছে।
বাংলাদেশে মাদকের ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড এন্ড ডেভেলপমেন্ট আস্কটাড প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদকের কারণে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর পাচার হয়ে যাচ্ছে ৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। আর মাদক কেনাবেচা করে অর্থ পাচারের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ৫ম। এশিয়ার দেশগুলোতে মাদকের মাধ্যমে টাকা পাচারের ঘটনায় বাংলাদেশ একেবারে শীর্ষে রয়েছে। আঙ্কটাডের প্রতিবেদন অনুযায়ী মাদকের অবৈধ অর্থ প্রবাহের দিক থেকে বিশ্ব প্রথম স্থানে রয়েছে মেক্সিকো। এরপর যথাক্রমে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু ও বাংলাদেশ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৮০ লাখেরও বেশি। যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশই শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণী। বিশাল সংখ্যক মাদকাসক্তের মধ্যে আবার ৫৯ দশমিক ২৭ শতাংশ শিশু-কিশোর সঙ্গদোষ ও বন্ধুবান্ধবদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে, ৩৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ কৌতূহলবশত মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। দেশে এখন পর্যন্ত ২৪ ধরনের মাদক উদ্ধার হয়েছে।
তবে, দেশে ৩২ ধরণের মাদক সেবন হয় বলে একটি বেসরকারি সংস্থা মানস’র গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৮০ শতাংশেরও বেশি কিশোর অপরাধী মাদকাসক্ত এবং তাদের বেশির ভাগই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। উপরন্তু, ৮৫ শতাংশ কিশোর অপরাধী মাদক কেনার কথা স্বীকার করেছে এবং ৫৫ শতাংশ স্বীকার করেছে যে, তারা মাদক বিক্রি করেছে। এদের অধিকাংশ স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থেকেই পরিচয় ঘটছে মাদকের সঙ্গে।
গবেষণায় বলা হয়, দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বেশিরভাগ মাদক। মাদকের প্রবেশ পথ হিসেবে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ৩২টি জেলাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে।
মাদকদ্রব্য ও নেশাবিরোধ সংস্থা- মানস এর হিসাব মতে, দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। এদের অধিকাংশই বয়সে শিশু-কিশোর ও তরুণ। ভয়ংকর তথ্য হচ্ছে, ইয়াবা সেবনকারী শতকরা ৮৫ ভাগই তরুণ যুবসমাজ। আইস সেবনকারীদেরও ৮০ ভাগ তরুণ। যেভাবে বাংলাদেশে মাদকাসক্তের বাড়ছে ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।
মানসের তথ্যানুযায়ী, মাদকাসক্তদের মধ্যে আবার শতকরা ৯৮ ভাগই ধূমপায়ী এবং তাদের মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ বিভিন্ন অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। ধূমপানে অভ্যস্ততার মধ্য দিয়ে তরুণরা মাদকদ্রব্য সেবন শুরু করে থাকে। পরবর্তীকালে ইয়াবা, ফেনসিডিল, সিসা, হেরোইন, কোকেন, আফিস, কোডিন, মরফিন, এলএসডি, আইসসহ বিভিন্ন মরণনেশায় আসক্ত হয়। ক্রমান্বয়ে মাদকাসক্তরা কিডনি, লিভার, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজকর্ম নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে মাদকসেবীর সংখ্যা প্রায় ৮৩ লাখ। অথচ মাত্র সাত বছর আগেও ২০১৮ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক সমীক্ষায় দেশে মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৩৫ লাখের কিছু বেশি। বিজিবি গত জুন মাসের ১২ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত মাত্র ছয়টি অভিযানে কক্সবাজার-টেকনাফ-উখিয়া অঞ্চল থেকে মোট ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে। এতেই সারা দেশে মাদকের ভয়াবহ রূপ প্রতীয়মান হয়। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি দিনে গড়ে ১০০ টাকা মাদকের জন্য ব্যয় করে। বাংলাদেশে দিনে মাদকদ্রব্য কেনায় খরচের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭০ কোটি টাকা। মাসিক তা দাঁড়ায় ২১০০ কোটি টাকা এবং বছরে গিয়ে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। মাদকের থাবায় নাস্তানাবুদ তরুণ প্রজন্ম। সব থেকে বেশি ব্যবহার হচ্ছে ইয়াবা। ১৫ বছরে দেশে ৩৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯৩ হাজার ৬৪৪ ইয়াবা উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবা হেরোইনের চেয়েও ক্ষতিকর। এটা এক ধরনের মনোউত্তেজক মাদক। ইয়াবা সেবনের ফলে সাময়িক শারীরিক উদ্দীপনা বাড়লেও কমতে থাকে জীবনীশক্তি। কিন্তু সমাজ, দেশ ও জাতিকে সুস্থ রাখতে হলে সর্বনাশা এ কারবার জরুরিভিত্তিতে বন্ধ করা প্রয়োজন। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে মাদকদ্রব্যের প্রাপ্তি যাতে সহজলভ্য না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। যে কোনো মূল্যে ঠেকাতে হবে মাদকের অনুপ্রবেশ। দেশেও যাতে মাদকদ্রব্য উৎপাদন হতে না পারে সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিকে, কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, গতকাল শনিবার সকালে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের মুন্সিগঞ্জ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ টাকার মাদক ও অস্ত্রের চালান জব্দসহ সিনবাদ আলী ও মিন্টু হোসেন নামের দুইজনকে আটক করেছে বিজিবি। এর আগে, গত ১৩ আগস্ট সকালে কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের আওতাধীন ব্যাটালিয়নসমূহ কর্তৃক দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে জব্দকৃত রেকর্ড প্রায় ১ হাজার ৩২২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বিজিবি। এছাড়াও গত জুলাই মাসে বিজিবি কর্তৃক বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১৩ জনকে আটক করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদকের বিস্তার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) সাবেক রেজিস্ট্রার, সৈয়দ ফারুক হোসেন বলেন, মাদকের টাকার জোগাতে এক শ্রেণির তরুণ চুরি, ছিনতাইসহ নানারকম অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। যার কারণে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। স্কুল-কলেজে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহ কুফল সম্পর্কে শিক্ষাদান ও বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অভিভাবকসহ সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে।
এদিকে, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, শুধু মাদকের বাহকদের ধরে লাভ নেই। মাদক নির্মূলে সবার আগে গডফাদারদের ধরতে হবে। কোনো ধরনের মাদক যেন বাহির থেকে দেশে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশজুড়ে এলপি গ্যাসের হাহাকার

দেশজুড়ে মাদকের ভয়াল থাবা

আপডেট সময় : ০৭:৪০:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫
  • সীমান্তের ৫০টি স্পট দিয়ে দেশে ঢুকছে মাদকের চালান
  • ঢাকাসহ গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সক্রিয় মাদক কারবারিরা
  • দেশে ৩২ ধরনের মাদকের চাহিদা বেশি, ৮০ ভাগই মাদকাসক্ত
  • মাদকের কারণে দেশ থেকে বছরে পাচার হচ্ছে ৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা
  • দৌলতপুর সীমান্তে ১০ কোটি টাকার মাদক-অস্ত্রসহ আটক ২

দেশজুড়ে ভয়ঙ্কর থাবা বিস্তার করেছে ইয়াবা-আইসসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। শুধু ঢাকা শহর নয় গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও অবাধে চলছে মাদক ব্যবসা। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে সব ধরনের মাদক। মোবাইল ফোন এমনকি অনলাইন অ্যাপ ব্যাহার করলেই বাসায় চলে আসছে এসব মরণ নেশা। মাদকদ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে বেড়েছে অপরাধও। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের অন্তত ৫০টি স্পট দিয়ে অবাধে দেশে ঢুকছে মাদকদ্রব্য। সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, দেশে মরন নেশা ইয়াবা, হেরোইন, আইসসহ মাদকসেবীদের কাছে ৩২ ধরনের মাদকের চাহিদা রয়েছে। দেশের ৮০ শতাংশের শিশু-কিশোর ও তরুণদের বেশিই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। এসব মাদক বেচাকেনার ক্ষেত্রে প্রতিবছর দেশ থেকে পাচার হচ্ছে ৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। বিজিবি বলছে, কুষ্টির দৌলতপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ১০ কোটি টাকার অস্ত্র-মাদকের চালান জব্দসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়াবার স্বর্গরাজ্য খ্যাত কক্সবাজারের উখিয়ার কাটাখাল সীমান্ত থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বিজিবি। এছাড়া কক্সবাজারে রেকর্ড ১ হাজার ৩২২ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি গত জুলাই মাসে দেশের সীমান্তসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েক কোটি টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে বিজিবি। অপরাধ বিশ্লেষক জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) সাবেক রেজিস্ট্রার, সৈয়দ ফারুক হোসেনের মতে, মাদক সেবনে এক শ্রেণির তরুণ চুরি, ছিনতাইসহ নানারকম অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। যার কারণে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবকসহ আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। তবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, শুধু মাদকের বাহকদের ধরে লাভ নেই। মাদক নির্মূলে সবার আগে গডফাদারদের ধরতে হবে। কোনো ধরনের মাদক যেন বাহির থেকে দেশে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে নতুনভাবে মাঠে ফিরে আসা বিএনপি-জামায়াতসহ নতুন নতুন রাজনৈতিক দলের নানা কর্মসূচি আর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবিতে চলমান আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে বেশি তৎপর রয়েছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা। আর এ সুযোগে মাদক কারবারিরা ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে মোবাইল ও অনলাইনভিত্তিক অ্যাপের মাধ্যমে মাদক বাণিজ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চক্রের একটি গ্রুপ প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকার অন্তত ৫০টি হটস্পটে মাদকদ্রব্য উৎপাদনের কারখানা তৈরি করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্য অর্থ সংগ্রহ করে জল ও স্থলপথে নানা কৌশলে প্রতিদিনই মরণ নেশা ইয়াবা, হেরোইন, আইসসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্যের বড় বড় চালান এ দেশে পাঠাচ্ছে। এরপর হাতবদল হয়ে যাত্রী ও পণ্যবাহী বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
জানা যায়, নিষিদ্ধ জগতে অস্ত্রের পর মাদকই এখন সবচেয়ে লাভবান ব্যবসা। বিশেষ করে ফেনসিডিল ও ইয়াবা সহজলভ্য এবং বহনযোগ্য বলে এর বিস্তার দেশজুড়ে। দেশের এমন কোনো এলাকা খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে মাদকের ভয়াল থাবা নেই। দেশজুড়ে এক বিশাল জাল বিস্তার করে আছে এই মরণ নেশার ভয়াবহ সিন্ডিকেট। আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র মাফিয়াদের সঙ্গে রয়েছে এদের শক্ত ও গভীর যোগাযোগ। সম্প্রতি ইয়াবার যেসব চালান ধরা পড়েছে সেখানেও দেখা যায় মিয়ানমারের নাগরিকরা জড়িত। টেকনাফ হয়ে মিয়ানমার থেকে বেশিরভাগ মাদক এ দেশে আসছে। এছাড়াও রয়েছে মাদকের বিভিন্ন রুট। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর, সীমান্ত এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি। এর কিছু ধরা পড়ে। বাকিটা চলে যায় মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের কাছে।
বাংলাদেশে মাদকের ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড এন্ড ডেভেলপমেন্ট আস্কটাড প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদকের কারণে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর পাচার হয়ে যাচ্ছে ৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। আর মাদক কেনাবেচা করে অর্থ পাচারের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ৫ম। এশিয়ার দেশগুলোতে মাদকের মাধ্যমে টাকা পাচারের ঘটনায় বাংলাদেশ একেবারে শীর্ষে রয়েছে। আঙ্কটাডের প্রতিবেদন অনুযায়ী মাদকের অবৈধ অর্থ প্রবাহের দিক থেকে বিশ্ব প্রথম স্থানে রয়েছে মেক্সিকো। এরপর যথাক্রমে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু ও বাংলাদেশ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৮০ লাখেরও বেশি। যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশই শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণী। বিশাল সংখ্যক মাদকাসক্তের মধ্যে আবার ৫৯ দশমিক ২৭ শতাংশ শিশু-কিশোর সঙ্গদোষ ও বন্ধুবান্ধবদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে, ৩৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ কৌতূহলবশত মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। দেশে এখন পর্যন্ত ২৪ ধরনের মাদক উদ্ধার হয়েছে।
তবে, দেশে ৩২ ধরণের মাদক সেবন হয় বলে একটি বেসরকারি সংস্থা মানস’র গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৮০ শতাংশেরও বেশি কিশোর অপরাধী মাদকাসক্ত এবং তাদের বেশির ভাগই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। উপরন্তু, ৮৫ শতাংশ কিশোর অপরাধী মাদক কেনার কথা স্বীকার করেছে এবং ৫৫ শতাংশ স্বীকার করেছে যে, তারা মাদক বিক্রি করেছে। এদের অধিকাংশ স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থেকেই পরিচয় ঘটছে মাদকের সঙ্গে।
গবেষণায় বলা হয়, দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বেশিরভাগ মাদক। মাদকের প্রবেশ পথ হিসেবে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ৩২টি জেলাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে।
মাদকদ্রব্য ও নেশাবিরোধ সংস্থা- মানস এর হিসাব মতে, দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। এদের অধিকাংশই বয়সে শিশু-কিশোর ও তরুণ। ভয়ংকর তথ্য হচ্ছে, ইয়াবা সেবনকারী শতকরা ৮৫ ভাগই তরুণ যুবসমাজ। আইস সেবনকারীদেরও ৮০ ভাগ তরুণ। যেভাবে বাংলাদেশে মাদকাসক্তের বাড়ছে ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।
মানসের তথ্যানুযায়ী, মাদকাসক্তদের মধ্যে আবার শতকরা ৯৮ ভাগই ধূমপায়ী এবং তাদের মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ বিভিন্ন অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। ধূমপানে অভ্যস্ততার মধ্য দিয়ে তরুণরা মাদকদ্রব্য সেবন শুরু করে থাকে। পরবর্তীকালে ইয়াবা, ফেনসিডিল, সিসা, হেরোইন, কোকেন, আফিস, কোডিন, মরফিন, এলএসডি, আইসসহ বিভিন্ন মরণনেশায় আসক্ত হয়। ক্রমান্বয়ে মাদকাসক্তরা কিডনি, লিভার, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজকর্ম নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে মাদকসেবীর সংখ্যা প্রায় ৮৩ লাখ। অথচ মাত্র সাত বছর আগেও ২০১৮ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক সমীক্ষায় দেশে মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৩৫ লাখের কিছু বেশি। বিজিবি গত জুন মাসের ১২ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত মাত্র ছয়টি অভিযানে কক্সবাজার-টেকনাফ-উখিয়া অঞ্চল থেকে মোট ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে। এতেই সারা দেশে মাদকের ভয়াবহ রূপ প্রতীয়মান হয়। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি দিনে গড়ে ১০০ টাকা মাদকের জন্য ব্যয় করে। বাংলাদেশে দিনে মাদকদ্রব্য কেনায় খরচের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭০ কোটি টাকা। মাসিক তা দাঁড়ায় ২১০০ কোটি টাকা এবং বছরে গিয়ে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। মাদকের থাবায় নাস্তানাবুদ তরুণ প্রজন্ম। সব থেকে বেশি ব্যবহার হচ্ছে ইয়াবা। ১৫ বছরে দেশে ৩৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯৩ হাজার ৬৪৪ ইয়াবা উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবা হেরোইনের চেয়েও ক্ষতিকর। এটা এক ধরনের মনোউত্তেজক মাদক। ইয়াবা সেবনের ফলে সাময়িক শারীরিক উদ্দীপনা বাড়লেও কমতে থাকে জীবনীশক্তি। কিন্তু সমাজ, দেশ ও জাতিকে সুস্থ রাখতে হলে সর্বনাশা এ কারবার জরুরিভিত্তিতে বন্ধ করা প্রয়োজন। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে মাদকদ্রব্যের প্রাপ্তি যাতে সহজলভ্য না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। যে কোনো মূল্যে ঠেকাতে হবে মাদকের অনুপ্রবেশ। দেশেও যাতে মাদকদ্রব্য উৎপাদন হতে না পারে সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিকে, কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, গতকাল শনিবার সকালে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের মুন্সিগঞ্জ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ টাকার মাদক ও অস্ত্রের চালান জব্দসহ সিনবাদ আলী ও মিন্টু হোসেন নামের দুইজনকে আটক করেছে বিজিবি। এর আগে, গত ১৩ আগস্ট সকালে কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের আওতাধীন ব্যাটালিয়নসমূহ কর্তৃক দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে জব্দকৃত রেকর্ড প্রায় ১ হাজার ৩২২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বিজিবি। এছাড়াও গত জুলাই মাসে বিজিবি কর্তৃক বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১৩ জনকে আটক করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদকের বিস্তার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) সাবেক রেজিস্ট্রার, সৈয়দ ফারুক হোসেন বলেন, মাদকের টাকার জোগাতে এক শ্রেণির তরুণ চুরি, ছিনতাইসহ নানারকম অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। যার কারণে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। স্কুল-কলেজে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহ কুফল সম্পর্কে শিক্ষাদান ও বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অভিভাবকসহ সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে।
এদিকে, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, শুধু মাদকের বাহকদের ধরে লাভ নেই। মাদক নির্মূলে সবার আগে গডফাদারদের ধরতে হবে। কোনো ধরনের মাদক যেন বাহির থেকে দেশে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে।