জামালপুরের মাদারগঞ্জে সরকারী কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলা করে ইয়াবা কারবারীকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চর পাকেরদহ ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি চর পাকেরদহ ইউনিয়নের চর পাকেরদহ পশ্চিম পাড়া এলাকার আলহাজ নুরুল ইসলামের ছেলে।
মঙ্গলবার(১৯ আগস্ট) সকাল ১০ তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মাদারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল্লাহ সাইফ।
জানা যায়, ১ নং চর পাকেরদহ ইউনিয়নের চর পাকেরদহ গ্রামের কালু মন্ডলের ছেলে ইয়াবা কারবারী নাছির ওরফে চিকু (২৫) দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় অবাধে এলাকায় ইয়াবাসহ মাদকের কারবার করে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩৩ পিচ ইয়াবাসহ গত শনিবার রাত পৌনে ১০ টায় পশ্চিম চর পাকেরদহ গ্রামের বাংলা বাজার এলাকায় আসলে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা করে আসামী ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
হামলায় এএসআই মুজিবুর রহমান, এএসআই নাইমুর রহমান আহত হয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করে। পরে রাতেই এসআই হাসিব আল মাহফুজ থানায় গিয়ে বলপুর্বক সরকারী কাজে বাধা দান ও পুলিশে আঘাত করার অপরাধে ১৮৬০ পেনাল কোডের ১৪৩/৩৪১/৩৫৩/৩৩২ /১৮৬ /৩৪ ধারায় ৮ জন এজাহার নামীয় ও ৬০/৭০ অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পরেই পুলিশ রাতভর অভিযান করে ১ নং চর পাকেরদহ ইউনিয়নের পশ্চিম চর পাকেরদহ গ্রামের দুদু মন্ডলের ছেলে মো. আজিজুল হক@ বাবু (৩২), ইদু মন্ডলের ছেলে মো. রাসেল (৩৪), আসাদ মন্ডলের ছেলে স্বপন (২৮), মরহুম কছর মন্ডলের ছেলে সুজা মন্ডল (৫৫) কে গ্রেপ্তার করে ১৭ আগস্ট আদালতে প্রেরণ করেন।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাদারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল্লাহ সাইফ জানান, পুলিশ তল্লাশী করে ৩৩ পিচ ইয়াবাসহ চিকুকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসার সময় বাংলা বাজার এলাকায় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ পুলিশকে বাধা দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দিতে বলে। পরে থানার পুলিশ সদস্যরা তার কথা রাজি না থাকায় তার নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা করে ধস্তাধস্তি করে আসামী ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
তিনি আরো জানান, আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে দেখে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মুল আসামীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান করতেছি। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকেই মোট ৫ জনকে আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এমআর/সবা

























