০৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঐতিহাসিক নিদর্শন মুন্সীবাড়ি সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের মুখে

  • সবুজ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩
  • 47

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 

কুড়িগ্রামের উলিপুরের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন #৩৯, মুন্সীবাড়ি নামের রাজবাড়িটি। অপরুপ কারুকার্জ ও স্থাপত্য শৈলীর এক অনন্য নিদর্শন এটি। এটি ১৮৮০ সালে ব্রজেন্দ্রলাল মুন্সী নামের একজন জমিদার নির্মাণ করেন। বর্তমানে উলিপুর মুন্সিবাড়ী বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের
তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে নিবন্ধিত আছে। মুন্সীবাড়ি উলিপুর উপজেলা শহর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে ধরণীবাড়ি
ইউনিয়নে অবস্থিত। প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে থাকে এখানে। ব্রিটিশ শাসনামলে মুঘল স্থাপত্যে নির্মিত মুন্সীবাড়ি ৩৯ একর জায়গার উপর অবস্থিত। বিশাল দ্বিতল অট্টালিকা আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।মনের মাধুরী মিশিয়ে শিল্প নৈপুণ্য ফুটিয়ে তুলেছেন এর কারিগররা। মূল ভবনে আছে শয়ন কক্ষ, ডাইনিং রুম, রান্নাঘর, অঙ্কন কক্ষ, বিশ্রাম ঘর এবং অতিথিশালা। মূল বাড়ীর পিছনের দিকে শিব মন্দির, উন্মুক্ত দোল মঞ্চ, তুলসি
বেদী, নাট মন্দির, দূর্গা মন্দির ও কূপসহ স্নানাগার। এছাড়া মূল ফটকের পাশে আছে কাঁঠালি চাপা ফুলের গাছ এবং শান বাঁধানো পুকুর ঘাট।বাড়িটিতে থাকা একটি শিলালিপি থেকে পাওয়া যায় এর নির্মাণকাল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। মুন্সীবাড়ি নিয়ে প্রচলিত রয়েছে নানা ইতিকথা। ইতিহাস অনুসন্ধানে জানা যায়,
কাশিমবাজার রাজ্যের মহারাণী স্বর্ণময়ীর রাজ্যের এই অংশের জমিদার বিনোদী লাল মুন্সী এখানে বসবাস শুরু করেন। তবে বসবাসের জন্য এই স্থানটি বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে প্রচলিত একটি গল্প। তিনি নাকি এখানে একটি ব্যঙকে সাপ ধরে খেতে দেখেছেন, যা প্রকৃতির নিয়মের উল্টো। এখানে বসতভিটা করলে ধনী হওয়া যাবে এই বিশ্বাসে তিনি বসবাস শুরু করেন।
তারপর তার পুত্র বিজেন্দ্র লাল মুন্সী এখানে এই রাজবাড়িটি নির্মাণ করেন। তার কোন ছেলে সন্তান ছিলো না, জীবিত একমাত্র মেয়ে টিটু মুন্সীর বিয়ে দেন কলকাতায়। ১৯৬০ সালে বিজেন্দ্র লালের মৃত্যু হয়। তার স্ধসঢ়;ত্রী আশালতা মুন্সীর মৃত্যুর পর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার পরিবার কলকাতায় চলে গেলে মালিকহীন হয় রাজবাড়িটি। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে মুন্সীবাড়িতে।
বর্তমানে মুন্সীবাড়ি রয়েছে বেহাল দশায়।বাড়ির মালিকানা নিয়ে চলে নানা নাটকীয়তা। মামলা মোকদ্দমা করে রাজবাড়ির দখল নিতে তৎপর কয়েকটি পক্ষ। ৩৯ একর জমিতে মুন্সীবাড়ি নির্মাণ হলেও নানাভাবে বেদখল হয়েছে অধিকাংশ জায়গা। অবহেলা আর অযত্ন ও মালিকানা দ্বন্দে এবং বেদখলের কারণে ধ্বংসের মুখে নানা ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী মুন্সীবাড়ি।কারুকার্যখচিত দেওয়াল আজ সংস্কারের অভাবে চাঁপা পরছে শেওলার নিচে, কোথাও ভরে গেছে আগাছা আর জঙ্গলে। যেন দেখার নেই কেউই।বৃষ্টি হলেই ছাঁদ চুয়ে চুয়ে কক্ষ ও বারান্দা বৃষ্টির পানি দিয়ে ভরে যায়।এ ছাড়াও বারান্দায় পাট কাঠির বোঝা, গোবরের লাকড়ি ও গাছের শুকনো পাতার স্তুপ রাখতে দেখা গেছে।

স্থানীয় সুধীজনদের দাবি মুন্সীবাড়ি সংস্কার করে একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে রুপান্তর করা হলে এলাকাটি ফিরে পাবে তার হারানো ঐতিহ্য। দেশের নানা প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীদের আগমনে এখানকার পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে। বাড়িটিকে সংস্কার করে ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে সংরক্ষণ করে এক দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলার দাবি স্থানীয়দের।

চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সংঘর্ষে ২ জন নিহত

ঐতিহাসিক নিদর্শন মুন্সীবাড়ি সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের মুখে

আপডেট সময় : ০৪:৫৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 

কুড়িগ্রামের উলিপুরের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন #৩৯, মুন্সীবাড়ি নামের রাজবাড়িটি। অপরুপ কারুকার্জ ও স্থাপত্য শৈলীর এক অনন্য নিদর্শন এটি। এটি ১৮৮০ সালে ব্রজেন্দ্রলাল মুন্সী নামের একজন জমিদার নির্মাণ করেন। বর্তমানে উলিপুর মুন্সিবাড়ী বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের
তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে নিবন্ধিত আছে। মুন্সীবাড়ি উলিপুর উপজেলা শহর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে ধরণীবাড়ি
ইউনিয়নে অবস্থিত। প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে থাকে এখানে। ব্রিটিশ শাসনামলে মুঘল স্থাপত্যে নির্মিত মুন্সীবাড়ি ৩৯ একর জায়গার উপর অবস্থিত। বিশাল দ্বিতল অট্টালিকা আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।মনের মাধুরী মিশিয়ে শিল্প নৈপুণ্য ফুটিয়ে তুলেছেন এর কারিগররা। মূল ভবনে আছে শয়ন কক্ষ, ডাইনিং রুম, রান্নাঘর, অঙ্কন কক্ষ, বিশ্রাম ঘর এবং অতিথিশালা। মূল বাড়ীর পিছনের দিকে শিব মন্দির, উন্মুক্ত দোল মঞ্চ, তুলসি
বেদী, নাট মন্দির, দূর্গা মন্দির ও কূপসহ স্নানাগার। এছাড়া মূল ফটকের পাশে আছে কাঁঠালি চাপা ফুলের গাছ এবং শান বাঁধানো পুকুর ঘাট।বাড়িটিতে থাকা একটি শিলালিপি থেকে পাওয়া যায় এর নির্মাণকাল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। মুন্সীবাড়ি নিয়ে প্রচলিত রয়েছে নানা ইতিকথা। ইতিহাস অনুসন্ধানে জানা যায়,
কাশিমবাজার রাজ্যের মহারাণী স্বর্ণময়ীর রাজ্যের এই অংশের জমিদার বিনোদী লাল মুন্সী এখানে বসবাস শুরু করেন। তবে বসবাসের জন্য এই স্থানটি বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে প্রচলিত একটি গল্প। তিনি নাকি এখানে একটি ব্যঙকে সাপ ধরে খেতে দেখেছেন, যা প্রকৃতির নিয়মের উল্টো। এখানে বসতভিটা করলে ধনী হওয়া যাবে এই বিশ্বাসে তিনি বসবাস শুরু করেন।
তারপর তার পুত্র বিজেন্দ্র লাল মুন্সী এখানে এই রাজবাড়িটি নির্মাণ করেন। তার কোন ছেলে সন্তান ছিলো না, জীবিত একমাত্র মেয়ে টিটু মুন্সীর বিয়ে দেন কলকাতায়। ১৯৬০ সালে বিজেন্দ্র লালের মৃত্যু হয়। তার স্ধসঢ়;ত্রী আশালতা মুন্সীর মৃত্যুর পর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার পরিবার কলকাতায় চলে গেলে মালিকহীন হয় রাজবাড়িটি। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে মুন্সীবাড়িতে।
বর্তমানে মুন্সীবাড়ি রয়েছে বেহাল দশায়।বাড়ির মালিকানা নিয়ে চলে নানা নাটকীয়তা। মামলা মোকদ্দমা করে রাজবাড়ির দখল নিতে তৎপর কয়েকটি পক্ষ। ৩৯ একর জমিতে মুন্সীবাড়ি নির্মাণ হলেও নানাভাবে বেদখল হয়েছে অধিকাংশ জায়গা। অবহেলা আর অযত্ন ও মালিকানা দ্বন্দে এবং বেদখলের কারণে ধ্বংসের মুখে নানা ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী মুন্সীবাড়ি।কারুকার্যখচিত দেওয়াল আজ সংস্কারের অভাবে চাঁপা পরছে শেওলার নিচে, কোথাও ভরে গেছে আগাছা আর জঙ্গলে। যেন দেখার নেই কেউই।বৃষ্টি হলেই ছাঁদ চুয়ে চুয়ে কক্ষ ও বারান্দা বৃষ্টির পানি দিয়ে ভরে যায়।এ ছাড়াও বারান্দায় পাট কাঠির বোঝা, গোবরের লাকড়ি ও গাছের শুকনো পাতার স্তুপ রাখতে দেখা গেছে।

স্থানীয় সুধীজনদের দাবি মুন্সীবাড়ি সংস্কার করে একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে রুপান্তর করা হলে এলাকাটি ফিরে পাবে তার হারানো ঐতিহ্য। দেশের নানা প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীদের আগমনে এখানকার পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে। বাড়িটিকে সংস্কার করে ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে সংরক্ষণ করে এক দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলার দাবি স্থানীয়দের।