০১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ত্রিশালে আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে অভিমানে শিশুর আত্মহত্যা

ময়মনসিংহের ত্রিশালে আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে মায়ের সাথে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে মালয়েশিয়া প্রবাসীর ছেলে রিফাত হাসান (১১)। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের আনিস ভবনের পঞ্চম তলার ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ত্রিশাল থানা পুলিশ।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিফাত স্থানীয় ইসলামি একাডেমি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সেদিন সন্ধ্যায় কোচিং থেকে ফেরার পর ফ্রিজে রাখা তিনটি আইসক্রিম বের করে একটি মায়ের, একটি বড় ভাইয়ের এবং আরেকটি নিজের জন্য নেয়। তবে তার আইসক্রিমটি ভাঙা থাকায় বিষয়টি নিয়ে মায়ের সাথে মনোমালিন্য হয়। এসময় তার মা তাকে বারান্দার বেলকনিতে আটকে রাখেন। কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে সিটকিরি আটকে গলায় হিজাবের ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে রিফাত।
দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে অবশেষে বেলকনিতে ঝুলন্ত অবস্থায় রিফাতকে দেখতে পান। পরে পুলিশে খবর দিলে তারা এসে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
সহপাঠীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে কোচিং ক্লাসে রিফাত স্বাভাবিক ও হাসিখুশি ছিল। তার এমন মৃত্যুতে তারা হতবাক হয়ে যায়। প্রবাসী বাবা আকরাম হোসেন প্রায় সাত বছর ধরে মালয়েশিয়ায় আছেন। মা দুই ছেলে নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে ওই বাসায় বসবাস করছেন। রিফাতের বড় ভাই রিয়াদ ইসলামি একাডেমির দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

হঠাৎ এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, রিফাত পড়াশোনায় মনোযোগী ও শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল।

এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদ পারভেজ বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যা জানা গেছে, আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে মায়ের সাথে অভিমানের জেরে রিফাত আত্মহত্যা করেছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

এসএস/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রিশালে আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে অভিমানে শিশুর আত্মহত্যা

আপডেট সময় : ০৭:০৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

ময়মনসিংহের ত্রিশালে আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে মায়ের সাথে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে মালয়েশিয়া প্রবাসীর ছেলে রিফাত হাসান (১১)। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের আনিস ভবনের পঞ্চম তলার ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ত্রিশাল থানা পুলিশ।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিফাত স্থানীয় ইসলামি একাডেমি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সেদিন সন্ধ্যায় কোচিং থেকে ফেরার পর ফ্রিজে রাখা তিনটি আইসক্রিম বের করে একটি মায়ের, একটি বড় ভাইয়ের এবং আরেকটি নিজের জন্য নেয়। তবে তার আইসক্রিমটি ভাঙা থাকায় বিষয়টি নিয়ে মায়ের সাথে মনোমালিন্য হয়। এসময় তার মা তাকে বারান্দার বেলকনিতে আটকে রাখেন। কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে সিটকিরি আটকে গলায় হিজাবের ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে রিফাত।
দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে অবশেষে বেলকনিতে ঝুলন্ত অবস্থায় রিফাতকে দেখতে পান। পরে পুলিশে খবর দিলে তারা এসে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
সহপাঠীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে কোচিং ক্লাসে রিফাত স্বাভাবিক ও হাসিখুশি ছিল। তার এমন মৃত্যুতে তারা হতবাক হয়ে যায়। প্রবাসী বাবা আকরাম হোসেন প্রায় সাত বছর ধরে মালয়েশিয়ায় আছেন। মা দুই ছেলে নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে ওই বাসায় বসবাস করছেন। রিফাতের বড় ভাই রিয়াদ ইসলামি একাডেমির দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

হঠাৎ এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, রিফাত পড়াশোনায় মনোযোগী ও শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল।

এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদ পারভেজ বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যা জানা গেছে, আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে মায়ের সাথে অভিমানের জেরে রিফাত আত্মহত্যা করেছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

এসএস/সবা