১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে : দুর্ঘটনার ঝুঁকির মধ্যে র‌্যাম্পের নির্মাণকাজ

নগরীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ব্যবহার বাড়াতে নগরীর জিইসি এলাকায় একটি র‌্যাম্প নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ও চীনা প্রতিষ্ঠান র‌্যাঙ্কিন যৌথভাবে এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ করছে। তবে কোনপ্রকার নিরাপত্তাব্যবস্থা না রেখেই জিইসি থেকে ওয়াসা মোড় পর্যন্ত চলছে র‌্যাম্প নির্মাণের কাজ।নগরীর এমন ব্যস্ততম সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে নির্মাণকাজ করায় সিডিএ’র উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন নগরবাসী। যেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা না রেখে নির্মাণকাজ করলে সিডিএ জরিমানা করে, সেখানে নিজেরাই এমন কাজ কীভাবে করছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পথচারীরা।গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, লালখানবাজার সংলগ্ন এলাকার বাওয়া স্কুলের পাশে র‌্যাম্পের উপর কাজ করছেন ছয়-সাতজন শ্রমিক। উপরে নির্মাণকাজ চললেও র‌্যাম্পের নিচে নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা নেই। শুধুমাত্র বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের (বাওয়া) সামনের কিছু অংশে নিরাপত্তাবেষ্টনী দেয়া হয়েছে। বাকি পুরো র‌্যাম্পের নিচে খোলা। যেখানে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীসহ শতশত পথচারী রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। এছাড়াও প্রতিনিয়ত যানবাহন চলাচল করছে। এমন ব্যস্ততম সড়কে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া নির্মাণকাজে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।নগরীর যান চলাচলে গতি আনতে লালখানবাজার থেকে পতেঙ্গা টানেল রোড পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ফ্লাইওভারের ব্যবহার বাড়াতে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে র‌্যাম্প নির্মাণের কাজ চলছে। শহরের যেকোন প্রান্ত থেকে মানুষ যাতে ২০ থেকে ২৫ মিনিটে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারে সেজন্য এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ।বাওয়া স্কুলের একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, সিডিএ প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে র‌্যাম্পের কাজ করছে। প্রায়সময় দেখা যায়, ওয়েল্ডিং করার সময় উপর থেকে ওয়েল্ডিংয়ের আগুনের ফুলকি নিচে পড়ে। এছাড়া উপর থেকে কোন নির্মাণসামগ্রী নিচে পড়লে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া এভাবে কাজ চলতে পারে না।এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, এমন হওয়ার কথা না। সিডিএ সবসময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই নির্মাণকাজ করে থাকে। তারপরও এ বিষয়ে আমি খোঁজ নিচ্ছি। র‌্যাম্পের কাজে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১১ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। পরবর্তীতে প্রকল্পের ব্যায় বেড়ে হয় ৪ হাজার ২৯৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। খরচ বাড়ে ১ হাজার ৪৮ কোটি টাকা।২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সংশোধিত প্রকল্প একনেকের সভায় অনুমোদিত হয়। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালের জুনে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু কাজই শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পরে দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

এসএস/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডাকাতি মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে : দুর্ঘটনার ঝুঁকির মধ্যে র‌্যাম্পের নির্মাণকাজ

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

নগরীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ব্যবহার বাড়াতে নগরীর জিইসি এলাকায় একটি র‌্যাম্প নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ও চীনা প্রতিষ্ঠান র‌্যাঙ্কিন যৌথভাবে এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ করছে। তবে কোনপ্রকার নিরাপত্তাব্যবস্থা না রেখেই জিইসি থেকে ওয়াসা মোড় পর্যন্ত চলছে র‌্যাম্প নির্মাণের কাজ।নগরীর এমন ব্যস্ততম সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে নির্মাণকাজ করায় সিডিএ’র উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন নগরবাসী। যেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা না রেখে নির্মাণকাজ করলে সিডিএ জরিমানা করে, সেখানে নিজেরাই এমন কাজ কীভাবে করছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পথচারীরা।গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, লালখানবাজার সংলগ্ন এলাকার বাওয়া স্কুলের পাশে র‌্যাম্পের উপর কাজ করছেন ছয়-সাতজন শ্রমিক। উপরে নির্মাণকাজ চললেও র‌্যাম্পের নিচে নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা নেই। শুধুমাত্র বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের (বাওয়া) সামনের কিছু অংশে নিরাপত্তাবেষ্টনী দেয়া হয়েছে। বাকি পুরো র‌্যাম্পের নিচে খোলা। যেখানে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীসহ শতশত পথচারী রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। এছাড়াও প্রতিনিয়ত যানবাহন চলাচল করছে। এমন ব্যস্ততম সড়কে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া নির্মাণকাজে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।নগরীর যান চলাচলে গতি আনতে লালখানবাজার থেকে পতেঙ্গা টানেল রোড পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ফ্লাইওভারের ব্যবহার বাড়াতে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে র‌্যাম্প নির্মাণের কাজ চলছে। শহরের যেকোন প্রান্ত থেকে মানুষ যাতে ২০ থেকে ২৫ মিনিটে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারে সেজন্য এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ।বাওয়া স্কুলের একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, সিডিএ প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে র‌্যাম্পের কাজ করছে। প্রায়সময় দেখা যায়, ওয়েল্ডিং করার সময় উপর থেকে ওয়েল্ডিংয়ের আগুনের ফুলকি নিচে পড়ে। এছাড়া উপর থেকে কোন নির্মাণসামগ্রী নিচে পড়লে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া এভাবে কাজ চলতে পারে না।এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, এমন হওয়ার কথা না। সিডিএ সবসময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই নির্মাণকাজ করে থাকে। তারপরও এ বিষয়ে আমি খোঁজ নিচ্ছি। র‌্যাম্পের কাজে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১১ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। পরবর্তীতে প্রকল্পের ব্যায় বেড়ে হয় ৪ হাজার ২৯৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। খরচ বাড়ে ১ হাজার ৪৮ কোটি টাকা।২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সংশোধিত প্রকল্প একনেকের সভায় অনুমোদিত হয়। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালের জুনে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু কাজই শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পরে দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

এসএস/সবা