দেশে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ মানুষ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া পোল্ট্রি খামারের জন্য এন্টিবায়োটিক কিনছেন। এটি মোট খামারির ৬৮ শতাংশ। দেশের চারটি বিভাগের সাতটি জেলার ১০০টি ফার্মের ওপর করা এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শাহবাগে নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) এই গবেষণা উপস্থাপন করে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিএফএসএ চেয়ারম্যান জাকারিয়া। প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসিন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গুলজারুল আজীজ এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পিএসও ড. তাসরিন রাবিয়া চৌধুরী।
গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রয়লার, সোনালী ও লেয়ার মুরগির খাদ্য, পানি, ডিম ও মাংসে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ছোট ও মাঝারি খামারে এ ব্যবহার বেশি হয়। বিশেষ করে বগুড়া ও জয়পুরহাটে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার তুলনামূলক বেশি। সোনালী মুরগির পালনকাল ৯০ দিন হওয়ায় সেখানে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের মাত্রাও বেশি।
গবেষক মোহাম্মদ এ সামাদ জানান, ৮৪ শতাংশ খামারি এন্টিবায়োটিক সম্পর্কে জানেন, তবে ৮০ শতাংশ আইনগত দিক সম্পর্কে অজ্ঞ। ৬৫ শতাংশ খামারি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মেনে চলতে আগ্রহী নন। প্রায় ৫০ শতাংশ খামারি মুরগিকে দ্রুত মোটাতাজা করতে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন।
তিনি আরও বলেন, গত ৫০ বছরে প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ ৬০ শতাংশ বেড়েছে। মানুষের সঙ্গে প্রাণীর ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় রোগবালাইও বেশি হচ্ছে, ফলে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারও বাড়ছে।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গুলজারুল আজীজ বলেন, দ্রুত সময়ে মুরগি বড় করার প্রতিযোগিতা অসুস্থ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। আর ড. তাসরিন রাবিয়া চৌধুরী সতর্ক করে বলেন, শিশুদের রক্তে সিসা পাওয়া যাচ্ছে, মাছেও সিসার উপস্থিতি ধরা পড়ছে। এতে পরিবারের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সেমিনারে ফল পাকানো নিয়েও গবেষণা উপস্থাপন করা হয়। বারির বিজ্ঞানী ড. এম জি ফেরদৌস চৌধুরী জানান, আন্তর্জাতিকভাবে ফল পাকানোর নিয়ম হচ্ছে ইথিলিন গ্যাস ব্যবহার। বৈজ্ঞানিকভাবে ৫০-১০০ পিপিএম ইথিলিন গ্যাস দিয়ে চেম্বারে ১২ ঘণ্টা রাখলে তিন দিনের মধ্যে ফল পাকানো যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। তবে বর্তমানে দেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিয়ম না মেনে স্প্রে করে ফল পাকানো হচ্ছে।
বিএফএসএ চেয়ারম্যান জাকারিয়া জানান, দেশে সাড়ে তিন কোটি শিশু সিসায় আক্রান্ত। এটি প্রতিরোধে ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “এন্টিবায়োটিকের মাত্রা সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি থাকলেও হেভিমেটাল তুলনামূলক বেশি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে মনিটরিং করতে হবে।”
এমআর/সবা

























