রাজধানীর বাজারে সবজির দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামে কিছুটা কমে এলেও সবজির বাজারে দাউদাউ করে জ্বলছে মূল্যবৃদ্ধির আগুন। ১০০ টাকার নিচে মিলছে হাতে গোনা কয়েকটি সবজি। অন্যদিকে, কাঁচা মরিচের দাম এখনো ২০০ টাকার ওপরে। চাল ও পেঁয়াজের দামও রয়েছে আগের উচ্চতায়ে।

এদিকে, কথা হয় উলন বাজারে ব্যবসায়ী মোদী দোকানদার মো. স্বপন মিয়া সঙ্গে তিনি জানান, তার দোকানে গত এক বছর আগেও যেখানে প্রতিদিন বিক্রি হতে ১০/১২ হাজার টাকা এখন তা নেমে এসেছে ৩/৪ হাজারে। তিনি জানান, সকাল ৯টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দোকান খোলা রেখেও বিক্রি তেমন হয় না। তার কথায় মানুষের হাতে তেমন টাকা কড়ি নেই যেকারণে এমন অবস্থা। তিনি আরো যোগ করেন ২০০৮ সালে যখন তিনি ব্যবসা শুরু করেন তখন এলাকায় গার্মেন্টস সেক্টর থাকায় প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকাও বেশি বিক্রি হয়েছে। তার মতে ঢাকা শহরের ভেতরে থাকা অধিকাংশ গার্মেন্টস কারখানা ঢাকার আশপাশে যেমন “সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর” ইত্যাদি উপশহরগুলোতে স্থানান্ত হওয়ায় ব্যবসায় মন্দাভাব শুরু হয়েছে। সে যে শুরু এখন তা প্রকট আকার ধারণ করেছে। তবে বর্তমান যে বেচা-বিক্রির বেহাল অবস্থা তা তার ব্যবসার জীবনে পড়তে হয়নি। তিনি আপেক্ষপ করে বলেন, এখন বয়স হয়ে গেছে নতুন করে কি আর করব তাই বাধ্য হয়েই এ ব্যবসা ধরে রেখেছি।

এদিকে, উলন বাজার ঘুরে কাঁচা তরকারী, মাছ এমন কী মাংসের দোকানে তেমন ভীড় লক্ষ্য করা গেল না। মাংসের দোকানদার আক্কাসের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, শুক্রবার দোকানে ক্রেতার ভীড় এতো বেশি থাকত যা সামাল দেয়া বেশ কষ্টসাধ্য হতো এখন তেমন নেই, সাধারণ মানুষ মনে হয় গরুর মাংস কেলা ভুলে গেছে। এখন যাদের ঘরে মেহমান আসে হয়তো তারা তার দোকানে মাংস কিনতে আসে। তবে আগে যেমন একজন ক্রেতা ৪/৫ কেজি করে মাংস কিনতো এখন তেমনটা কিনে না।
সবজির বাজারেও হাহাকার: উলন, রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর, কাপ্তানবাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দাম ১০০ টাকা বা তার ওপরে।

বর্তমান দাম (কেজি প্রতি)-বেগুন: ১৪০–১৬০ টাকা, গাজর: ১২০ টাকা, টমেটো (পাকা): ১৬০ টাকা, করলা, কাঁকরোল, কচুর লতি, বরবটি: ১০০–১২০ টাকা, নতুন শিম: ২৪০–২৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ: ২০০–২২০ টাকা।
এদিকে, ১০০ টাকার নিচে যেসব সবজি এখনও পাওয়া যাচ্ছে- ঢ্যাঁড়স: ৯০ টাকা, শসা: ৭০ টাকা, কচুর মুখী: ৫০–৬০ টাকা, মুলা: ৮০ টাকা, পেঁপে: ৩০–৩৫ টাকা, মিষ্টিকুমড়া, চাল কুমড়া: ৬০–৭০ টাকা, পুঁইশাক: প্রতি আঁটি ৫০ টাকা, লাউ: ৮০–১০০ টাকা, ফুলকপি, বাঁধাকপি: ৮০–১২০ টাকা। রামপুরা কাঁচা বাজারের বিক্রেতা রুবেল মিয়া জানান, “গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে। বর্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এমন দাম থাকতে পারে।”
পেঁয়াজেও স্থিতি, তবে স্বস্তি নেই : দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫–৮০ টাকা কেজি দরে। পাইকারি বাজারে এখনও বিক্রেতাদের কেনা পড়ছে ৭১ টাকা কেজি।
উলন বাজারের মুদী দোকানী হাসান জানান, “আমদানি অনুমতি বন্ধ থাকায় এখন পুরোপুরি দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।” তাই বাজারে এতো দাম বেশি। হাসান আরো জানান, বাঙালীর স্বভাবত তো বেশি ভালো না কোন পণ্যের দাম বাড়লে সেটি আরো বেশি করে কিনে। এতেই যত সংকট তৈরি হয়। তবে এখন একটু পেঁয়াজ কম কিনছে যে কারণে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি: আগস্ট-অক্টোবর মাসে প্রতি বছরই দেশি পেঁয়াজের মজুত কমে আসে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ উঠলে দাম কমার সম্ভাবনা থাকে।
পরিবর্তন নেই চালের বাজারে কোনো: সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৫ লাখ টন চাল আমদানি হচ্ছে বেসরকারিভাবে, তবে খুচরা বাজারে তার প্রভাব এখনো পড়েনি।
বর্তমান বাজারদর (কেজি প্রতি): সরু চাল: ৭৮–৮৫ টাকা, মাঝারি মান: ৬৫–৭৫ টাকা, মোটা চাল: ৫৮–৬৩ টাকা।
তবে ডিম-মুরগিতে কিছুটা স্বস্তি গত সপ্তাহের তুলনায় ডিম ও ফার্মের মুরগির দাম ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমান দর (প্রতি ডজন/কেজি): ডিম ব্যবসায়ী জনি জানান, ফার্মের লাল ডিম: ১৪০ টাকা (আগে ১৫০), সাদা ডিম: ৫ টাকা কম, ব্রয়লার মুরগি: ১৭০–১৮০ টাকা (আগে ১৮০–১৯০), সোনালি মুরগি: ৩১০ টাকা (আগে ৩০০) ডিম বিক্রেতা জনি বলেন, “বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়েছিল, এখন কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।” তবে দাম আরো কমতে পারে। তিনি বলেন, এক মাসে আগেও টিমের দাম ১২০ টাকায় স্থির ছিল।
এদিকে, বাজারে আসা অনেক ক্রেতাই ক্ষোভ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সবকিছুর দাম এত বেড়েছে যে বেতন একই থাকলেও খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। মাস চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।” এ বিষয়ে সরকারের মনিটরিং জোরদার করা দরকার বলেও তারা জানান।
এমআর/সবা













