কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের লোহার দানবাক্স খুললেই পাওয়া যায় বস্তা বস্তা টাকা। এবার ১৩টি দানবাক্স থেকে ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টায় মসজিদ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান, পুলিশ সুপার মো. হাছান চৌধুরীর উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এরপর বস্তাগুলো মসজিদের দোতলায় নিয়ে গণনা শুরু করা হয়। দিনভর গণনা শেষে মিলেছে ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। প্রতিবারের মতো এবারও টাকার সঙ্গে পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণ-রূপার অলঙ্কার।
এ ছাড়া চলতি বছরের ৪ জুলাই থেকে দূর দূরান্তের মানুষদের দানের সুবিধার্থে চালু করা হয় ডোনেশন ওয়েবসাইট। পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান সাংবাদিকদের জানান, ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও শুক্রবার (২৯ আগস্ট) পর্যন্ত পাওয়া গেছে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

জেলা শহরের হারুয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ। মসজিদের লোহার সিন্দুকগুলো প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর খোলা হয়। দিন দিন পাগলা মসজিদের দানের টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ, রুপা, হীরা সরকারি কোষাগারে জমা রাখা হয়। নতুনভাবে পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের সময় এই বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সবকিছু পত্রিকায় দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিলামে বিক্রি করা হবে। এছাড়াও পাগলা মসজিদে প্রতিদিন গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, কবুতরসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র প্রকাশ্যে নিলাম ডেকে বিক্রি করা হয়। সেই টাকাগুলোও ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল ১১টি দানবাক্সের ২৮ বস্তা টাকা গণনা করে পাওয়া গিয়েছিল সর্বোচ্চ ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা পাওয়া গিয়েছিল বেশকিছু বিদেশি মুদ্রা ও সোনা-রূপার অলঙ্কার। এছাড়াও ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খুলে রেকর্ড ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৪ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা, সোনার গয়না ও হীরা পাওয়া গিয়েছিল।

আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানাসহ দুটি মাদ্রাসার প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী, ব্যাংকের ৭০ জন কর্মী এবং মসজিদ কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ মিলে প্রায় ৪০০ লোক টাকা গণনার কাজে সহায়তা করেছেন। মুসলমান ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এই পাগলা মসজিদে দান করে। মানুষের বিশ্বাস এই মসজিদে দান করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। সেই বিশ্বাস থেকে মানুষ প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে নামাজ পড়তে ও দান করতে আসেন।
মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা যায়, ছয়তলাবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য একটি মেগা প্রজেক্ট করা হবে। এতে প্রাথমিক খরচ ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। শীঘ্রই ইসলামিক কমপ্লেক্স তৈরির কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মসজিদ কমিটি।
জেলা প্রশাসক ও মসজিদ কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান বলেন, পাগলা মসজিদ ও ইসলামি কমপ্লেক্সের খরচ চালিয়ে দানের বাকি টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। চলতি বছরের ১২ এপ্রিল ১১টি দানবাক্সের ২৮ বস্তা টাকা গণনা করে পাওয়া গিয়েছিল সর্বোচ্চ ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। সে টাকাসহ এ পর্যন্ত মোট ৯০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা মসজিদের হিসাবে জমা হয়েছে। এবার রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা পাওয়া গেছে।
জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায় আড়াইশ বছর আগে খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর মধ্যস্থলে পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক পুরুষ মাদুর পেতে ভেসে এসে নরসুন্দা নদীর তীরে থেকে যান। তার সমাধির পাশে পরবর্তীতে গড়ে ওঠে এই মসজিদ। কালক্রমে এটি পরিচিতি পায় পাগলা মসজিদ নামে।
এমআর/সবা

























