০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেনীর ফুলগাজীতে অনুমোদনবিহীন চলছে ২৩ করাতকল

ফেনীর সীমান্তবর্তী উপজেলা ফুলগাজীতে ২৫টি করাতকলের মধ্যে বৈধ লাইসেন্স রয়েছে মাত্র দুটির। মামলা নিষ্পত্তি ও লাইসেন্স আবেদনের অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ করাতকলগুলো চালু থাকায় প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। করাতকল (লাইসেন্স) বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, কোনো করাতকল আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে স্থাপন করা যাবে না। অথচ ফুলগাজীর অধিকাংশ করাতকলই সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। সামাজিক বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লাইসেন্সধারী করাতকল দুটি হলো— মুন্সীরহাটের হাবুর টেক এলাকার আবু স মিল এবং ফুলগাজী পল্লী বিদ্যুৎ সংলগ্ন নবি স মিল।

আবেদনকৃত প্রতিষ্ঠানঃ
লাইসেন্স পেতে এখন পর্যন্ত ১৫ জন মালিক আবেদন করেছেন। এগুলো হলো— আনন্দপুরের ওবায়দুল হক স মিল, ইয়াসিন স মিল, মুন্সীরহাটের ইউছুফ স মিল, কবির স মিল, সাইফুল স মিল, আমজাদহাটের আবু স মিল, আনোয়ার স মিল, বেলাল স মিল, ফুলগাজী উপজেলা গেইট সংলগ্ন হালিম স মিল, মীরু স মিল, ফুলগাজী বাজারের তাহের স মিল, কাদের স মিল, জলিল স মিল, ভুট্টো স মিল ও শহীদ স মিল। আবেদনকৃত স মিলগুলোও বর্তমানে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রয়েছে।
মামলাভুক্ত করাতকলঃ
অন্যদিকে, নজরুল স মিল, রাজ্জাক স মিল, হারুন স মিল, বকসি বাজারের কবির স মিল, আনোয়ার স মিল, জিএমহাটের হাসেম স মিল, ইসমাইল স মিল এবং আমজাদহাটের কিল্লার দীঘির জামাল স মিলের বিরুদ্ধে পরিবেশ ও বন বিভাগের আইন অমান্যের অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
রাস্তা দখল ও জনদুর্ভোগঃ
সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ করাতকল স্থাপন করা হয়েছে ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়ক, জিএমহাটগামী কেবি হায়দার সড়ক এবং ছাগলনাইয়া-পরশুরাম ও ও ফুলগাজীর দৌলতপুর সড়কের পাশে। করাতকল মালিকরা রাস্তার পাশে গাছের স্তূপ ফেলে রাখায় পথচারী ও যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, এমনকি রাস্তার ক্ষতিও হচ্ছে।
প্রভাবশালীদের ছত্রছায়াঃ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, কিছু করাতকল মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় বছরের পর বছর অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় স্বার্থে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
মালিকদের যুক্তিঃ
করাতকল মালিকদের দাবি, এ শিল্পের সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িত। মীরু স মিলের মালিক মীর হোসেন জানান, একটি স মিলে গড়ে অন্তত ৫ জন কর্মী কাজ করেন। একজন মিস্ত্রির মাসিক বেতন প্রায় ৪০ হাজার টাকা এবং সহকারী মিস্ত্রির বেতন ৩০ হাজার টাকা। বিদ্যুৎ বিলসহ মাসিক ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ টাকা। পুরো উপজেলায় দুই শতাধিক মানুষ করাতকল নির্ভর জীবিকা নির্বাহ করছেন।
বিদ্যুৎ সংযোগ প্রসঙ্গঃ
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ফুলগাজী জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আগে সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে এত নিয়মকানুন ছিল না। ট্রেড লাইসেন্স ও জমির কাগজ থাকলেই সংযোগ দেওয়া হতো। বর্তমানে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। অতীতে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে এসব করাতকলে সংযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।
বন কর্মকর্তা (পরশুরাম-ফুলগাজী রেঞ্জ) আবু নাসের জিয়াউর রহমান বলেন, মামলা ও লাইসেন্স আবেদনের কারণে অনেক স মিল বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (উপ-বন সংরক্ষক) মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, সীমান্ত থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন আইনত অবৈধ। ফুলগাজীর ১৬টি করাতকলের মালিক উচ্চ আদালতে রিট করেছেন। মামলাগুলো নিষ্পত্তি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় কার্যকর পদক্ষেপ বিলম্বিত হচ্ছে।
ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহরিয়া ইসলাম বলেন, বন বিভাগ থেকে করাতকলের তালিকা নেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনিকভাবে কাজ চলমান রয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্থানীয়দের সচেতন করতে কাজ করছে।
এসএস/সবা

কমিশনার সংকটে বেরোবির প্রথম ব্রাকসু নির্বাচনে অনিশ্চয়তা

ফেনীর ফুলগাজীতে অনুমোদনবিহীন চলছে ২৩ করাতকল

আপডেট সময় : ০৮:৩৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফেনীর সীমান্তবর্তী উপজেলা ফুলগাজীতে ২৫টি করাতকলের মধ্যে বৈধ লাইসেন্স রয়েছে মাত্র দুটির। মামলা নিষ্পত্তি ও লাইসেন্স আবেদনের অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ করাতকলগুলো চালু থাকায় প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। করাতকল (লাইসেন্স) বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, কোনো করাতকল আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে স্থাপন করা যাবে না। অথচ ফুলগাজীর অধিকাংশ করাতকলই সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। সামাজিক বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লাইসেন্সধারী করাতকল দুটি হলো— মুন্সীরহাটের হাবুর টেক এলাকার আবু স মিল এবং ফুলগাজী পল্লী বিদ্যুৎ সংলগ্ন নবি স মিল।

আবেদনকৃত প্রতিষ্ঠানঃ
লাইসেন্স পেতে এখন পর্যন্ত ১৫ জন মালিক আবেদন করেছেন। এগুলো হলো— আনন্দপুরের ওবায়দুল হক স মিল, ইয়াসিন স মিল, মুন্সীরহাটের ইউছুফ স মিল, কবির স মিল, সাইফুল স মিল, আমজাদহাটের আবু স মিল, আনোয়ার স মিল, বেলাল স মিল, ফুলগাজী উপজেলা গেইট সংলগ্ন হালিম স মিল, মীরু স মিল, ফুলগাজী বাজারের তাহের স মিল, কাদের স মিল, জলিল স মিল, ভুট্টো স মিল ও শহীদ স মিল। আবেদনকৃত স মিলগুলোও বর্তমানে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রয়েছে।
মামলাভুক্ত করাতকলঃ
অন্যদিকে, নজরুল স মিল, রাজ্জাক স মিল, হারুন স মিল, বকসি বাজারের কবির স মিল, আনোয়ার স মিল, জিএমহাটের হাসেম স মিল, ইসমাইল স মিল এবং আমজাদহাটের কিল্লার দীঘির জামাল স মিলের বিরুদ্ধে পরিবেশ ও বন বিভাগের আইন অমান্যের অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
রাস্তা দখল ও জনদুর্ভোগঃ
সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ করাতকল স্থাপন করা হয়েছে ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়ক, জিএমহাটগামী কেবি হায়দার সড়ক এবং ছাগলনাইয়া-পরশুরাম ও ও ফুলগাজীর দৌলতপুর সড়কের পাশে। করাতকল মালিকরা রাস্তার পাশে গাছের স্তূপ ফেলে রাখায় পথচারী ও যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, এমনকি রাস্তার ক্ষতিও হচ্ছে।
প্রভাবশালীদের ছত্রছায়াঃ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, কিছু করাতকল মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় বছরের পর বছর অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় স্বার্থে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
মালিকদের যুক্তিঃ
করাতকল মালিকদের দাবি, এ শিল্পের সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িত। মীরু স মিলের মালিক মীর হোসেন জানান, একটি স মিলে গড়ে অন্তত ৫ জন কর্মী কাজ করেন। একজন মিস্ত্রির মাসিক বেতন প্রায় ৪০ হাজার টাকা এবং সহকারী মিস্ত্রির বেতন ৩০ হাজার টাকা। বিদ্যুৎ বিলসহ মাসিক ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ টাকা। পুরো উপজেলায় দুই শতাধিক মানুষ করাতকল নির্ভর জীবিকা নির্বাহ করছেন।
বিদ্যুৎ সংযোগ প্রসঙ্গঃ
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ফুলগাজী জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আগে সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে এত নিয়মকানুন ছিল না। ট্রেড লাইসেন্স ও জমির কাগজ থাকলেই সংযোগ দেওয়া হতো। বর্তমানে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। অতীতে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে এসব করাতকলে সংযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।
বন কর্মকর্তা (পরশুরাম-ফুলগাজী রেঞ্জ) আবু নাসের জিয়াউর রহমান বলেন, মামলা ও লাইসেন্স আবেদনের কারণে অনেক স মিল বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (উপ-বন সংরক্ষক) মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, সীমান্ত থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন আইনত অবৈধ। ফুলগাজীর ১৬টি করাতকলের মালিক উচ্চ আদালতে রিট করেছেন। মামলাগুলো নিষ্পত্তি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় কার্যকর পদক্ষেপ বিলম্বিত হচ্ছে।
ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহরিয়া ইসলাম বলেন, বন বিভাগ থেকে করাতকলের তালিকা নেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনিকভাবে কাজ চলমান রয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্থানীয়দের সচেতন করতে কাজ করছে।
এসএস/সবা