ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনা থেকে সৃষ্ট বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হুমকিতে গত ১৩ দিন ধরে নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ রয়েছে ৮টি পরিবার। এতে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন প্রায় ৩০-৩৫ জন নারী-পুরুষ ও শিশু।
ভুক্তভোগী জুবায়ের আনসারী এ ঘটনায় নান্দাইল মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। জানা গেছে, গত ২২ আগস্ট পূর্বশত্রুতার জেরে জমশেদ আলীর পরিবারের সঙ্গে প্রতিপক্ষ লিটন মিয়া, আতাবুর রহমান ও তাদের সহযোগীদের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন এবং দু’পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এরপর থেকেই লিটন, আতাবুর, বাহাউদ্দিন, বাকি বিল্লাহসহ আরও কয়েকজন নিয়মিতভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি ও শারীরিক আক্রমণের আশঙ্কায় ৮টি পরিবার ঘর থেকে বের হতে পারছে না।
অভিযোগে বলা হয়, শাহ-জাহান, কাজল মিয়া, বাবুল মিয়া, আবু হানিফাসহ কয়েকজন অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু অবরুদ্ধ থাকায় তারা কাজে বের হতে পারছেন না। এতে পরিবারে খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।
চাঁন মিয়ার মেয়ে ময়না আক্তার বলেন, “রাস্তা দিয়ে বের হতে গেলেই তারা বাঁধা দেয়। ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। সব সময় আতঙ্কে থাকি। বাইরে বের হলেই মারার হুমকি দেয়।”
অটোচালক শাহ্-জাহান বলেন, “১৩ দিন ধরে অটোরিকশা চালাতে পারছি না। আয় না থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্তানদের ঠিকমতো খাওয়াতেও পারছি না।”
গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে প্রতিপক্ষের লোকজন জুবায়ের আনসারীকে রাস্তায় আটকে রাখে। পরে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার ওসি খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদ বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং প্রতিপক্ষকে সতর্ক করেছে। ভবিষ্যতে চলাচলে বাঁধা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আবার পুলিশ পাঠানো হবে।”





















