চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের প্রতি চিকিৎসকদের
অবহেলা ও সেবায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে বলে জানিয়েছেন
ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, জরুরি চিকিৎসা না পেয়ে অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা
হাসপাতালের করিডোর ও বারান্দায় পড়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। উন্নত মানের
চিকিৎসা-প্রযুক্তি ও পর্যাপ্ত জনবলের ঘাটতির কারণে জটিল রোগে আক্রান্তদের শেষ
পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহরের বেসরকারি বা সরকারি হাসপাতালে যেতে
হচছে।হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে সেবা নিতে আসা কয়েকজন
রোগী ও স্বজন জানান, ডাক্তারের দেখা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। “রাত
১১টার দিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি; স্ট্রেচার ছিল না, চাদর পেতে বারান্দায়
শুইয়ে রাখতে হয়েছিল, বলেন এক রোগীর স্বজন। আরেকজন বলেন, “ডাক্তার ছিলেন,
কিন্তু নার্স সংকটের কারণে ইনজেকশন দিতেও দেরি হয়েছে।”স্থানীয়দের দাবি,
উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা, উন্নত ল্যাব, কার্ডিয়াক
মনিটরিং, এবং প্রয়োজনীয় ইমেজিং সুবিধা পর্যাপ্ত নয়। ফলে স্ট্রোক, হার্ট
অ্যাটাক, গুরুতর আঘাত, জটিল প্রসূতি জটিলতা এ ধরনের বড় রোগের ক্ষেত্রে
রোগীদের দ্রুত চট্টগ্রাম শহরে রেফার করা হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে খরচ
ও ঝুঁকি।স্বাস্থ্যকর্মীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে পদ
শূন্য, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামের অভাব, এবং যন্ত্রপাতি বিকল থাকার মতো
সমস্যায় সেবার মান বিঘ্নিত হয়। “আমরা চাপের মধ্যে কাজ করি। যে পরিমাণ
রোগী আসে, সেই তুলনায় জনবল ও সরঞ্জাম কম, বলেছেন এক
স্বাস্থ্যকর্মী। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, অনেক সময়ে চিকিৎসক উপস্থিত
থাকলেও রোগী পরিদর্শনে বিলম্ব হয়, পরামর্শ ও ব্যাখ্যা পর্যাপ্তভাবে দেওয়া হয় না।
হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দাবি করেন, “আমরা সীমিত সুবিধায়
সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। গুরুতর রোগীদের দ্রুত রেফার করি এটা অবহেলা নয়, সঠিক
চিকিৎসার অংশ।”স্থানীয়দের দাবি, জরুরি বিভাগে ২৪/৭ কার্যকর চিকিৎসক-
নার্স উপস্থিতি নিশ্চিত করা। স্ট্রেচার, বিছানা, ওষুধ ও ভোগ্যপণ্যের
পর্যাপ্ততা।ভাঙা/বিকল যন্ত্রপাতি দ্রুত মেরামত ও আধুনিক প্রযুক্তি
সংযোজন,প্রসূতি, শিশু ও জরুরি চিকিৎসায় বিশেষায়িত কর্নার ও
মনিটরিং।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ে সীমিত সম্পদকে কার্যকর
ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রোগী সেবা উন্নত করা সম্ভব ট্রায়াজ প্রটোকল চালু,
শিফট-ভিত্তিক দায়বদ্ধতা, রেফারেল-অ্যাম্বুলেন্স সমন্বয়, এবং কমিউনিটি
ক্লিনিকের সঙ্গে সংযোগ জোরদার করলে চাপ অনেকটাই কমবে। স্থানীয়
জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে জরুরি ভিত্তিতে জনবল পূরণ ও বাজেট
বরাদ্দের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হতে পারে।এ বিষয়ে বাঁশখালী
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানতে
চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়া পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের
বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে হালনাগাদ জানানো হবে।অভিযোগ
রয়েছেÑচিকিৎসকের অবহেলা, করিডোরে রোগীর ভিড়, প্রযুক্তি ও জনবল ঘাটতি;
জটিল রোগে শহরমুখী হওয়া। দায়িত্বশীল নজরদারি, জনবল-সরঞ্জাম
জোগান, আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন ও কার্যকর ট্রায়াজ।





















