১১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
চরম দুর্ভোগে অফিসগামী ও শিক্ষার্থীরা

ভোর থেকে টানা বৃষ্টি, ঢাকার বিভিন্ন সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি

রাজধানী ঢাকায় আজ সোমবার ভোর থেকেই শুরু হয়েছে টানা ভারি বৃষ্টি। ভোর পাঁচটার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়ে একটানা চলে প্রায় ২ ঘণ্টা। এর আগে গত রাতেও থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে হাঁটুপানি থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, কারওয়ান বাজার, গ্রিন রোড, নিউমার্কেট, মনিপুরীপাড়া, আসাদগেট ও জিগাতলা এলাকাগুলোতে যানচলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। রিকশা, সিএনজি ও প্রাইভেট গাড়িগুলোর গতি হয়ে পড়ে ধীর। অনেক স্থানে যানবাহন বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, ফলে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট।

 

অফিসগামীদের ভোগান্তি চরমে

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী শামীমা নাসরিন জানান, “সকালে গ্রিন রোডে হাঁটুপানি পেরিয়ে অফিসে যেতে হয়েছে। কারওয়ান বাজারের কাছে রিকশায় উঠেও দেখা গেল পানিতে প্রায় রিকশার পাদানি পর্যন্ত উঠে গেছে।”

আরেক কর্মকর্তা শিপন আহম্মেদ বলেন, “ফকিরাপুল থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এলাকায় কোমরসমান পানি। অফিসে পৌঁছাতে প্রায় দেড় ঘণ্টা লেগেছে, যেখানে সাধারণত ৩০ মিনিট লাগে।”

 

শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্ভোগ আরও বেশি

সকালে স্কুল ও কলেজে যাওয়ার পথে অনেক শিক্ষার্থী ভিজে যায়। অনেক শিশুদের মা-বাবাকে কোলে নিয়ে রাস্তা পার হতে দেখা গেছে। স্কুল ইউনিফর্ম ও বইপত্র বাঁচাতে অনেকেই পলিথিন ব্যবহার করেছেন, তবুও এ দিনটি শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল দুর্বিষহ।

এদিকে, আশফাক নামে একজন চাকরিজীবী জানান, “রাতের শিফট শেষে ভোরে বাসায় ফেরার পথে জিগাতলা, গ্রিন রোড ও নিউমার্কেট এলাকায় পানি জমে থাকায় হাঁটা ছাড়া উপায় ছিল না।”

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গতকাল রাত ১২টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাতের প্রকৃত পরিমাণ অনেক বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ জলাবদ্ধতা ছিল অতিমাত্রায় দৃশ্যমান।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, উত্তর বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপের সম্ভাব্য প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আজকেও সারাদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং রাত্রিতে আবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, “তিন দিনের ব্যবধানে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, ফলে সতর্ক থাকতে হবে।”

 

জলাবদ্ধতা কেন ঘন ঘন?

ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, নালা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ার কারণে অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গত বর্ষা মৌসুমেও জলাবদ্ধতা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবচিত্রে তার প্রতিফলন কম।

ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির ফলে ঢাকাবাসীর জন্য আজকের দিনটি হয়ে উঠেছে চরম দুর্ভোগের। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অফিসগামীদের দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে প্রস্তুতি ও সতর্কতা গ্রহণ জরুরি।

এমআর/সবা

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

চরম দুর্ভোগে অফিসগামী ও শিক্ষার্থীরা

ভোর থেকে টানা বৃষ্টি, ঢাকার বিভিন্ন সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি

আপডেট সময় : ১১:৩৪:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজধানী ঢাকায় আজ সোমবার ভোর থেকেই শুরু হয়েছে টানা ভারি বৃষ্টি। ভোর পাঁচটার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়ে একটানা চলে প্রায় ২ ঘণ্টা। এর আগে গত রাতেও থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে হাঁটুপানি থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, কারওয়ান বাজার, গ্রিন রোড, নিউমার্কেট, মনিপুরীপাড়া, আসাদগেট ও জিগাতলা এলাকাগুলোতে যানচলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। রিকশা, সিএনজি ও প্রাইভেট গাড়িগুলোর গতি হয়ে পড়ে ধীর। অনেক স্থানে যানবাহন বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, ফলে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট।

 

অফিসগামীদের ভোগান্তি চরমে

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী শামীমা নাসরিন জানান, “সকালে গ্রিন রোডে হাঁটুপানি পেরিয়ে অফিসে যেতে হয়েছে। কারওয়ান বাজারের কাছে রিকশায় উঠেও দেখা গেল পানিতে প্রায় রিকশার পাদানি পর্যন্ত উঠে গেছে।”

আরেক কর্মকর্তা শিপন আহম্মেদ বলেন, “ফকিরাপুল থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এলাকায় কোমরসমান পানি। অফিসে পৌঁছাতে প্রায় দেড় ঘণ্টা লেগেছে, যেখানে সাধারণত ৩০ মিনিট লাগে।”

 

শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্ভোগ আরও বেশি

সকালে স্কুল ও কলেজে যাওয়ার পথে অনেক শিক্ষার্থী ভিজে যায়। অনেক শিশুদের মা-বাবাকে কোলে নিয়ে রাস্তা পার হতে দেখা গেছে। স্কুল ইউনিফর্ম ও বইপত্র বাঁচাতে অনেকেই পলিথিন ব্যবহার করেছেন, তবুও এ দিনটি শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল দুর্বিষহ।

এদিকে, আশফাক নামে একজন চাকরিজীবী জানান, “রাতের শিফট শেষে ভোরে বাসায় ফেরার পথে জিগাতলা, গ্রিন রোড ও নিউমার্কেট এলাকায় পানি জমে থাকায় হাঁটা ছাড়া উপায় ছিল না।”

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গতকাল রাত ১২টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাতের প্রকৃত পরিমাণ অনেক বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ জলাবদ্ধতা ছিল অতিমাত্রায় দৃশ্যমান।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, উত্তর বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপের সম্ভাব্য প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আজকেও সারাদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং রাত্রিতে আবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, “তিন দিনের ব্যবধানে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, ফলে সতর্ক থাকতে হবে।”

 

জলাবদ্ধতা কেন ঘন ঘন?

ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, নালা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ার কারণে অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গত বর্ষা মৌসুমেও জলাবদ্ধতা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবচিত্রে তার প্রতিফলন কম।

ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির ফলে ঢাকাবাসীর জন্য আজকের দিনটি হয়ে উঠেছে চরম দুর্ভোগের। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অফিসগামীদের দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে প্রস্তুতি ও সতর্কতা গ্রহণ জরুরি।

এমআর/সবা