খাগড়াছড়ি সদরে অষ্টম শ্রেণির এক আদিবাসী ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় রাঙামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডাব্লিউএফ) যৌথভাবে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির রাঙামাটি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমিত্র চাকমা বলেন, “অপরাধীদের শাস্তি না দেওয়ায় এবং বিচারহীনতার কারণে এই ধরনের ঘটনা বাড়ছে। পাহাড়ের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। ধর্ষকরা মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর ভুক্তভোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। তাই ধর্ষণকারীদের মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রুমেন চাকমা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে ধর্ষণের বিচারহীনতা মূল কারণ। সমতলে প্রশাসন সক্রিয় হলেও পাহাড়ে, যদি জুম্ম নারী ভিকটিম এবং অপরাধী সেটেলার বাঙালি হয়, প্রশাসন নিরব থাকে। পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে বিশেষ শাসনব্যবস্থা দেওয়ার কথা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি।”
এইচডাব্লিউএফ কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক চন্দ্রিকা চাকমা বলেন, “জুম্ম নারীরা কোথাও নিরাপদ নয়। প্রশাসন ধর্ষণের বিচার না করায় প্রতিদিন নতুন ঘটনা ঘটছে। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে এক হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল রাঙামাটি জেলা শাখার প্রুহ্লাঅং মারমা বলেন, “পাহাড়ে যত ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, তার কোনোটির বিচার হয়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
বিক্ষোভ মিছিল জেলা জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রদক্ষিণ করে এবং শেষ হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে। সমাবেশে উপস্থিত নাগরিকরা ধর্ষণকারীদের শাস্তি ও পার্বত্য অঞ্চলের নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
এমআর/সবা

























