শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি পরিদর্শন করেছে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) দ্বিতীয়বারের মতো তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনকালে ছাত্রদলের নেতারা ভারপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান অধ্যাপক ড. আশিকুর রহমান ও ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান বাবর আলীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় লাইব্রেরির সার্বিক পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের পাঠসংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।
পরে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ লাইব্রেরির রিডিং রুম, ক্যারিয়ার কর্ণার, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য কর্ণারসহ বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বিদ্যমান অসংগতি ও সমস্যার খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধাভিত্তিক জনসম্পদ তৈরিতে প্রতিটি ক্যাম্পাসের লাইব্রেরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অথচ আমাদের ক্যাম্পাসের লাইব্রেরিতে শব্দদূষণ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে এবং মৌলিক ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি স্পষ্ট।”
তিনি আরও বলেন, “ক্যারিয়ার কর্ণারে যুগোপযোগী ও আপডেটেড স্টাডি ম্যাটেরিয়ালের অভাব রয়েছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, ৪৭তম বিসিএস সম্পর্কিত কিছু বই থাকলেও আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার উপযোগী হালনাগাদ বই নেই, যা সমন্বয়হীনতারই প্রতিফলন।”

বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য কর্ণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেখানে নিরপেক্ষ ও প্রামাণ্য ইতিহাসভিত্তিক কোনো বই পাওয়া যায়নি। এখনো সেখানে শেখ মুজিব ও মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাসভিত্তিক বইয়ের আধিক্য রয়েছে। আমরা জাতীয়তাবাদ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসভিত্তিক বইপুস্তক সংযোজনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছি।”
এ বিষয়ে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, “আমরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি পরিদর্শনকালে বেশ কিছু অসংগতি লক্ষ্য করেছি। লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত একাডেমিক ও রেফারেন্স বইয়ের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে ক্যারিয়ার কর্ণারে হালনাগাদ বই না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “পাশাপাশি ইতিহাস কর্ণারে একমুখী মতাদর্শভিত্তিক বইয়ের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়, যা জ্ঞানচর্চার বৈচিত্র্যের পরিপন্থী। এছাড়া লাইব্রেরির ভেতরে পাঠের পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাহিরের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সাউন্ড ক্যান্সেলেশন ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে। এসব বিষয় দ্রুত সমাধানে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মামুন হাসান, ফারুক আহমেদ খান, আল জকি হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বুলবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাফিন ইকবাল দিহান, শিক্ষার্থী হিমুসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
শু/সবা


























