আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বছর কোন পূজা মন্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন না, তবে সার্বিকভাবে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। পুলিশ, র্যাব, আনসারের পাশাপাশি এবছর দূর্গোৎসবের নিরাপত্তায় থাকবে সেনাবাহিনী ও বিজিবি। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে জানালেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক মন্দিরে সিসি ক্যামেরা সচল রাখা ও পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রাখতে বলা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও বিজিবির টহল জোরদার করা হলে কোন বিশৃঙ্খলা হবে না এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ফেনীতে ১৫০টি পুজা মন্ডপের মধ্যে কোন ঝুঁকিপূর্ন মন্ডপ নেই। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে প্রতিটি পুজা মন্ডপে প্রশাসনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আহবান জানানো হয়। দূর্গোৎসব সফল করতে সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মন্দির কমিটিগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। শহরে সবচেয়ে বেশি প্রতিমা তৈরি হয়েছে মাষ্টারপাড়ার গুরুচক্রমন্দিরে।
প্রতিমা তৈরীর কারিগর সুশীল পাল গত ৪০ বছর যাবত, প্রতিমা তৈরি করে আসছেন। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত সুন্দর ও নিখুঁতভাবে সেরা প্রতিমা তৈরি করে থাকি। ভক্তরা খুবই পছন্দ করেন। গুরুচক্র মন্দিরের পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শিপন চৌধুরী বলেন, এই মন্দিরে প্রতিমা তৈরিতে আমাদের কারিগররা নিরলসভাবে কাজ করেছে। যাতে ভক্তদের মন জুড়িয়ে যায়।
শহরতলীর বারাহীপুর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি তপন কুমার কর বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি শহর গ্রাম প্রত্যন্ত সবখানেই দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য সবার মাঝে আনন্দ উৎসব পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা এবার অত্যন্ত সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন হবে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হীরালাল চক্রবর্তী বলেন, সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ আনন্দ উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। এবারের পূজায় কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে এ উৎসবটি পালিত হবে এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।
জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শুকদেব নাথ তপন বলেন, সকল ধর্মের জনগণের প্রতি আমাদের আহবান- শারদীয় দুর্গোৎসবটি সুন্দর ও শান্তি শৃঙ্খলার মাধ্যমে পালনে সবাই যেন সহযোগিতা করেন।
জেলার সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি এ ব্যাপারে সজাগ ও সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানাই।
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি এডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে আমরা বার বার জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন নেতৃবৃন্দসহ সবার সাথে বৈঠক করেছি। আমাদের প্রত্যাশা এবার দুর্গাপূজা সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে ফেনী পৌরসভার মধ্যে ও পৌরসভার পাশবর্তীসহ ১৯ টি পূজা মন্ডপে ২০ হাজার টাকা করে শুভেচ্ছা উপহারের চেক বিতরণ করা হয়।
পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, নাশকতা ঠেকাতে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। দূর্গোৎসব ঘিরে যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে পূজার পূর্বেই গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। মন্দিরগুলোতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কমিটি নিয়ে দ্বন্ধ ও মন্দিরের জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ দুর্গাপূজার আগেই সমাধান করতে হবে, তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


























