০২:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেনী জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ১৫০টি মন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন

ফেনী জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। মহালয়ায় দেবী দুর্গার আবাহন শেষে এখন পঞ্চমী আর ষষ্ঠীর সন্ধিক্ষণে আগামী রোববার দেবী দূর্গার বোধন হবে। তাই মন্দির আর মন্ডপে চলছে প্রতিমা ও মন্ডপ সাজানোর কাজ। শিল্পীরা ষষ্ঠীর আগে প্রতিমার রং সম্পন্ন করতে ব্যস্তসময় পার করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতবছর ১৪৭টি পূজামন্ডপে পূজা উদযাপন হলেও এবার তিনটি বেড়ে ১৫০টি মন্ডপেদুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বছর কোন পূজা মন্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন না, তবে সার্বিকভাবে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব, আনসারের পাশাপাশি এবছর দূর্গোৎসবের নিরাপত্তায় থাকবে সেনাবাহিনী ও বিজিবি। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে জানালেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক মন্দিরে সিসি ক্যামেরা সচল রাখা ও পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রাখতে বলা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও বিজিবির টহল জোরদার করা হলে কোন বিশৃঙ্খলা হবে না এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ফেনীতে ১৫০টি পুজা মন্ডপের মধ্যে কোন ঝুঁকিপূর্ন মন্ডপ নেই। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে প্রতিটি পুজা মন্ডপে প্রশাসনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আহবান জানানো হয়। দূর্গোৎসব সফল করতে সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মন্দির কমিটিগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। শহরে সবচেয়ে বেশি প্রতিমা তৈরি হয়েছে মাষ্টারপাড়ার গুরুচক্রমন্দিরে।

প্রতিমা তৈরীর কারিগর সুশীল পাল গত ৪০ বছর যাবত, প্রতিমা তৈরি করে আসছেন। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত সুন্দর ও নিখুঁতভাবে সেরা প্রতিমা তৈরি করে থাকি। ভক্তরা খুবই পছন্দ করেন। গুরুচক্র মন্দিরের পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শিপন চৌধুরী বলেন, এই মন্দিরে প্রতিমা তৈরিতে আমাদের কারিগররা নিরলসভাবে কাজ করেছে। যাতে ভক্তদের মন জুড়িয়ে যায়।

শহরতলীর বারাহীপুর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি তপন কুমার কর বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি শহর গ্রাম প্রত্যন্ত সবখানেই দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য সবার মাঝে আনন্দ উৎসব পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা এবার অত্যন্ত সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন হবে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হীরালাল চক্রবর্তী বলেন, সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ আনন্দ উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। এবারের পূজায় কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে এ উৎসবটি পালিত হবে এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।

জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শুকদেব নাথ তপন বলেন, সকল ধর্মের জনগণের প্রতি আমাদের আহবান- শারদীয় দুর্গোৎসবটি সুন্দর ও শান্তি শৃঙ্খলার মাধ্যমে পালনে সবাই যেন সহযোগিতা করেন।

জেলার সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি এ ব্যাপারে সজাগ ও সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানাই।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি এডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে আমরা বার বার জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন নেতৃবৃন্দসহ সবার সাথে বৈঠক করেছি। আমাদের প্রত্যাশা এবার দুর্গাপূজা সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে ফেনী পৌরসভার মধ্যে  ও পৌরসভার পাশবর্তীসহ ১৯ টি পূজা মন্ডপে ২০ হাজার টাকা করে শুভেচ্ছা উপহারের চেক বিতরণ করা হয়।

ফেনী পৌরসভার প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, আমরা পূজা মন্ডপের জন্য যে শুভেচ্ছা চেক বিতরণ করলাম এটা আপনাদেরই পরিশোধ কৃত  টেক্সের টাকা। আপনাদের পূজায় ফেনী পৌরসভার পক্ষ থেকে এই সামান্য উপহার দিয়ে আপনাদের আনন্দে অংশ গ্রহণ করলাম।

পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, নাশকতা ঠেকাতে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। দূর্গোৎসব ঘিরে যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে পূজার পূর্বেই গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। মন্দিরগুলোতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কমিটি নিয়ে দ্বন্ধ ও মন্দিরের জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ দুর্গাপূজার আগেই সমাধান করতে হবে, তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, সনাতন সম্প্রদায় যাতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারে সেজন্য সকল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সুন্দরভাবে পূজা উদযাপন করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ হওয়া আধাটন চাল প্রতিটি মন্ডপে পৌছে দেয়া হয়েছে। হিন্দু-ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। সেটিও যথা সময়ো পৌঁছে দেয়া হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনী জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ১৫০টি মন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন

আপডেট সময় : ০৩:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ফেনী জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। মহালয়ায় দেবী দুর্গার আবাহন শেষে এখন পঞ্চমী আর ষষ্ঠীর সন্ধিক্ষণে আগামী রোববার দেবী দূর্গার বোধন হবে। তাই মন্দির আর মন্ডপে চলছে প্রতিমা ও মন্ডপ সাজানোর কাজ। শিল্পীরা ষষ্ঠীর আগে প্রতিমার রং সম্পন্ন করতে ব্যস্তসময় পার করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতবছর ১৪৭টি পূজামন্ডপে পূজা উদযাপন হলেও এবার তিনটি বেড়ে ১৫০টি মন্ডপেদুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বছর কোন পূজা মন্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন না, তবে সার্বিকভাবে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব, আনসারের পাশাপাশি এবছর দূর্গোৎসবের নিরাপত্তায় থাকবে সেনাবাহিনী ও বিজিবি। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে জানালেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক মন্দিরে সিসি ক্যামেরা সচল রাখা ও পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রাখতে বলা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও বিজিবির টহল জোরদার করা হলে কোন বিশৃঙ্খলা হবে না এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ফেনীতে ১৫০টি পুজা মন্ডপের মধ্যে কোন ঝুঁকিপূর্ন মন্ডপ নেই। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে প্রতিটি পুজা মন্ডপে প্রশাসনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আহবান জানানো হয়। দূর্গোৎসব সফল করতে সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মন্দির কমিটিগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। শহরে সবচেয়ে বেশি প্রতিমা তৈরি হয়েছে মাষ্টারপাড়ার গুরুচক্রমন্দিরে।

প্রতিমা তৈরীর কারিগর সুশীল পাল গত ৪০ বছর যাবত, প্রতিমা তৈরি করে আসছেন। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত সুন্দর ও নিখুঁতভাবে সেরা প্রতিমা তৈরি করে থাকি। ভক্তরা খুবই পছন্দ করেন। গুরুচক্র মন্দিরের পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শিপন চৌধুরী বলেন, এই মন্দিরে প্রতিমা তৈরিতে আমাদের কারিগররা নিরলসভাবে কাজ করেছে। যাতে ভক্তদের মন জুড়িয়ে যায়।

শহরতলীর বারাহীপুর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি তপন কুমার কর বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি শহর গ্রাম প্রত্যন্ত সবখানেই দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য সবার মাঝে আনন্দ উৎসব পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা এবার অত্যন্ত সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন হবে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হীরালাল চক্রবর্তী বলেন, সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ আনন্দ উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। এবারের পূজায় কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে এ উৎসবটি পালিত হবে এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।

জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শুকদেব নাথ তপন বলেন, সকল ধর্মের জনগণের প্রতি আমাদের আহবান- শারদীয় দুর্গোৎসবটি সুন্দর ও শান্তি শৃঙ্খলার মাধ্যমে পালনে সবাই যেন সহযোগিতা করেন।

জেলার সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি এ ব্যাপারে সজাগ ও সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানাই।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি এডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে আমরা বার বার জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন নেতৃবৃন্দসহ সবার সাথে বৈঠক করেছি। আমাদের প্রত্যাশা এবার দুর্গাপূজা সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে ফেনী পৌরসভার মধ্যে  ও পৌরসভার পাশবর্তীসহ ১৯ টি পূজা মন্ডপে ২০ হাজার টাকা করে শুভেচ্ছা উপহারের চেক বিতরণ করা হয়।

ফেনী পৌরসভার প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, আমরা পূজা মন্ডপের জন্য যে শুভেচ্ছা চেক বিতরণ করলাম এটা আপনাদেরই পরিশোধ কৃত  টেক্সের টাকা। আপনাদের পূজায় ফেনী পৌরসভার পক্ষ থেকে এই সামান্য উপহার দিয়ে আপনাদের আনন্দে অংশ গ্রহণ করলাম।

পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, নাশকতা ঠেকাতে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। দূর্গোৎসব ঘিরে যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে পূজার পূর্বেই গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। মন্দিরগুলোতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কমিটি নিয়ে দ্বন্ধ ও মন্দিরের জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ দুর্গাপূজার আগেই সমাধান করতে হবে, তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, সনাতন সম্প্রদায় যাতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারে সেজন্য সকল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সুন্দরভাবে পূজা উদযাপন করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ হওয়া আধাটন চাল প্রতিটি মন্ডপে পৌছে দেয়া হয়েছে। হিন্দু-ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। সেটিও যথা সময়ো পৌঁছে দেয়া হবে।