বিশ্ব দাবার মর্যাদাসম্পন্ন আসর “ওয়ার্ল্ড ক্যাডেট চেস চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫” শেষে কাজাখস্তানের আলমাতি শহর থেকে প্রতিভা, পরিশ্রম আর সম্ভাবনার বার্তা দিয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশের ক্ষুদে দাবারুরা।
এবারের প্রতিযোগিতায় ৮৭টি দেশের ৮২৪ জন প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে দেশের ক্ষুদে দাবারুরা। অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস ও পারফরম্যান্স—তিন দিক থেকেই এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ।

সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ শাখা থেকে তিনজন খেলোয়াড় অংশ নেয়—সাফায়াত কিবরিয়া আযান (অনূর্ধ্ব-১২, ওপেন), সিদরাতুল মুনতাহা (অনূর্ধ্ব-১২, গার্লস) ও আজান মাহমুদ (অনূর্ধ্ব-৮, ওপেন)। তাদের সঙ্গে ছিল মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উত্তরা শাখার ওয়ারিশা হায়দার (অনূর্ধ্ব-১০, গার্লস) এবং রেডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরা শাখার ফারসাত হোসাইন আয়ান (অনূর্ধ্ব-১০, ওপেন)।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স ছিল গ্রেড ৫ (পঞ্চম শ্রেণির) শিক্ষার্থী সাফায়াত কিবরিয়া আযানের। অনূর্ধ্ব-১২ ওপেন বিভাগে অংশ নিয়ে সে তার আন্তর্জাতিক রেটিং ২১ পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে, যা একজন তরুণ দাবারুর জন্য বড় অর্জন।
আযান বলে, “এই টুর্নামেন্টের জন্য আমি তিন মাস ধরে নিয়মিত অনুশীলন করেছি। বাবাই আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা, আর পল্লব স্যার সবসময় সাহস দেন। একটা খেলায় শুরুতে ভুল করেছিলাম, কিন্তু স্যারের কথা মনে করে মাথা ঠান্ডা রেখে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াই।”
“আমার স্বপ্ন একদিন গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়া, আর দেশের হয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা,” — বলছিল সাফায়াত কিবরিয়া আযান।
তবে সন্তোষজনক পারফরম্যান্সের মধ্যেও থেকে গেছে একটি বড় দুঃখ: দলের সঙ্গে কোনো কোচ ছিলেন না। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের দাবারুদের সঙ্গে সহযোগী প্রতিনিধি হিসেবে অভিজ্ঞ কোচ উপস্থিত থাকলেও বাংলাদেশ দল ছিল সম্পূর্ণ কোচবিহীন। ফলে আন্তর্জাতিক মানের বোর্ডে, সময় ব্যবস্থাপনা ও গেম প্ল্যানিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে খেলোয়াড়দের এককভাবে লড়তে হয়েছে। অভিভাবকদের মতে, একজন পেশাদার কোচ থাকলে ফলাফল আরও ভালো হতে পারত।

দলের একাধিক সদস্যের মতে, আন্তর্জাতিক মানের এমন একটি প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। তবে দেশের দাবা ফেডারেশন থেকে আরো সংগঠিত প্রস্তুতি ও সহায়তা পেলে এই প্রতিভাবান শিশুরা অনেক দূর যেতে পারত।
দাবারু দলটি গতকাল এরাবিয়ান একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছে। বিমানবন্দরে অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় তারা বুঝেছে, তাদের এই প্রচেষ্টা কেউ অবহেলা করছে না। কিন্তু বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে আরও শক্তভাবে উপস্থাপন করতে হলে কাঠামোগত ঘাটতি কাটিয়ে উঠে ভবিষ্যতে সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সাফায়াত কিবরিয়া আযানসহ পুরো দলের এই অর্জন শুধু একটি সফরের সমাপ্তি নয়, বরং বাংলাদেশের দাবা অঙ্গনের সম্ভাবনার একটি নতুন সূচনা। এই ক্ষুদে প্রতিভাবানদের ঠিকমতো পরিচর্যা করা গেলে, ভবিষ্যতে তাদের কেউ হয়তো হয়ে উঠবে বাংলাদেশের পরবর্তী গ্র্যান্ডমাস্টার।
এমআর/সবা

























