০৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মাস শেষে ভুতুড়ে বিল

মেরামতের অজুহাতে মহেশখালীতে বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাপক অনিয়ম

মেরামত ও গাছপালা কাটার অজুহাতে বছরজুড়েই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগছে কক্সবাজারের মহেশখালীবাসী। দিনের পর দিন বিদ্যুৎ না থাকা এখন যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। অনেক সময় সকাল থেকে গভীর রাত, এমনকি টানা তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বৃষ্টিপাত হলে।

এদিকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাঝেও মাস শেষে গ্রাহকদের কাছে আসে অতিরিক্ত ও অসঙ্গতিপূর্ণ বিদ্যুৎ বিল। বাস্তব ব্যবহার না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে বিল এসেছে দ্বিগুণ পর্যন্ত, যা গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থী, গৃহস্থালির কাজ সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোনো পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি বা নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায় এবং আবার কখন আসবে তারও ঠিক থাকে না। ফলে অনেক সময় খাবার নষ্ট হয়ে যায়, পানির সংকট দেখা দেয়, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিও বিকল হয়ে পড়ে।

আল্লাহর দান হোটেলের মালিক জামাল ও আনোয়ার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজের পণ্য নষ্ট হয়ে যায়, ক্রেতাও কমে যায়। অথচ মাস শেষে বিল আসে আগের চেয়েও বেশি। ব্যবসা টিকিয়ে রাখা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

মহেশখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল কর্মকর্তা (ডিজিএম) নাজমুল হাসান জানান, লাইনে ফল্ট, যান্ত্রিক ত্রুটি, গাছপালা বিদ্যুৎ লাইনে পড়া এবং মাঝে মাঝে জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গাছপালা কাটার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, তাই নির্দিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রেখে কাজ করা হচ্ছে। তবে স্থায়ী সমাধান কবে আসবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারেননি।

বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিবাদ ও অভিযোগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্ব এড়িয়ে সময়ক্ষেপণ করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, নেই যথাযথ জবাবদিহিতা কিংবা তদারকি। ফলে অব্যাহত এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।

এমআর/সবা

হাতিয়ায় জেলের জালে ধরা পড়লো বিরল গঙ্গা কাছিম

মাস শেষে ভুতুড়ে বিল

মেরামতের অজুহাতে মহেশখালীতে বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাপক অনিয়ম

আপডেট সময় : ০১:২১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

মেরামত ও গাছপালা কাটার অজুহাতে বছরজুড়েই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগছে কক্সবাজারের মহেশখালীবাসী। দিনের পর দিন বিদ্যুৎ না থাকা এখন যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। অনেক সময় সকাল থেকে গভীর রাত, এমনকি টানা তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বৃষ্টিপাত হলে।

এদিকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাঝেও মাস শেষে গ্রাহকদের কাছে আসে অতিরিক্ত ও অসঙ্গতিপূর্ণ বিদ্যুৎ বিল। বাস্তব ব্যবহার না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে বিল এসেছে দ্বিগুণ পর্যন্ত, যা গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থী, গৃহস্থালির কাজ সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোনো পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি বা নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায় এবং আবার কখন আসবে তারও ঠিক থাকে না। ফলে অনেক সময় খাবার নষ্ট হয়ে যায়, পানির সংকট দেখা দেয়, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিও বিকল হয়ে পড়ে।

আল্লাহর দান হোটেলের মালিক জামাল ও আনোয়ার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজের পণ্য নষ্ট হয়ে যায়, ক্রেতাও কমে যায়। অথচ মাস শেষে বিল আসে আগের চেয়েও বেশি। ব্যবসা টিকিয়ে রাখা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

মহেশখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল কর্মকর্তা (ডিজিএম) নাজমুল হাসান জানান, লাইনে ফল্ট, যান্ত্রিক ত্রুটি, গাছপালা বিদ্যুৎ লাইনে পড়া এবং মাঝে মাঝে জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গাছপালা কাটার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, তাই নির্দিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রেখে কাজ করা হচ্ছে। তবে স্থায়ী সমাধান কবে আসবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারেননি।

বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিবাদ ও অভিযোগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্ব এড়িয়ে সময়ক্ষেপণ করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, নেই যথাযথ জবাবদিহিতা কিংবা তদারকি। ফলে অব্যাহত এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।

এমআর/সবা