১২:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
চারজনের নামে নোটিশ জারি, তবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়নি এখনো

ইন্টারপোলে শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনের নামে রেড নোটিশের আবেদন

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আলোচিত ২৮ জনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এই আবেদন পাঠানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে একটি দায়িত্বশীল সূত্র।

রোববার (৫ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তরের ওই সূত্র সবুজ বাংলাকে জানায়, গত এক বছরে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) বরাবর রেড নোটিশের আবেদন করা হয়েছে। সূত্র জানায়, এদের মধ্যে চারজনের নামে রেড নোটিশ জারি হয়েছে, তবে ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র চারজনের নাম প্রকাশ করতে পারেনি।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা, মন্ত্রী, এমপি এবং প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা আত্মগোপনে চলে যান। তালিকায় রয়েছেন শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিসভার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল, সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, হারুন অর রশীদ প্রমুখ।

জানা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও অর্থপাচার মামলার প্রেক্ষিতে এই রেড নোটিশের আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়ারেন্টভুক্ত কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

রেড নোটিশ জারি হলে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট দেশকে অবহিত করা হয়। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বহিঃসমর্পণের অনুরোধ পাঠানো হয়। কূটনৈতিক চ্যানেল ও পুলিশের সহযোগিতায় ওই ব্যক্তিকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে প্রক্রিয়াটি নির্ভর করে আন্তর্জাতিক আইন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট দেশের অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামোর ওপর।

একটি সূত্র জানিয়েছে, ইন্টারপোল সরাসরি কোনো দেশের আবেদনের পর রেড নোটিশ জারি করে না। আবেদন পাওয়ার পর তাদের নিজস্ব তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। সেই তদন্তে যদি দেখা যায়, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ নেই, তাহলে তার নামে রেড নোটিশ জারি করা হয় না।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যেসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং যারা পালিয়ে গেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ভাতের হোটেল খ্যাত) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, হারুন অর রশীদ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের উডল্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছেন। মনিরুল ইসলামও যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান অবস্থান করছেন যুক্তরাজ্যে, আর প্রলয় কুমার জোয়ারদার ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম ভারতের মধ্যে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৪৯০টি মামলা দায়ের হয়। এতে অন্তত ১৩৭ জন পুলিশ সদস্য কর্মস্থল ত্যাগ করেন; তাদের মধ্যে ৫৬ জন ফিরে এলেও ৮১ জন এখনও পলাতক। পলাতকদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন ডিআইজি, ১০ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ১১ জন পুলিশ সুপার, ৯ জন অতিরিক্ত এসপি, ৫ জন এএসপি, ২৭ জন পরিদর্শক, ৮ জন এসআই, ৩ জন এএসআই এবং ৫ জন কনস্টেবল।

গত ৭ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ডিআইজি থেকে পরিদর্শক পদমর্যাদার ৪০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে তাদের অনুকূলে প্রদত্ত পদকও প্রত্যাহার করা হয়।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

চারজনের নামে নোটিশ জারি, তবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়নি এখনো

ইন্টারপোলে শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনের নামে রেড নোটিশের আবেদন

আপডেট সময় : ০৪:২০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আলোচিত ২৮ জনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এই আবেদন পাঠানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে একটি দায়িত্বশীল সূত্র।

রোববার (৫ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তরের ওই সূত্র সবুজ বাংলাকে জানায়, গত এক বছরে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) বরাবর রেড নোটিশের আবেদন করা হয়েছে। সূত্র জানায়, এদের মধ্যে চারজনের নামে রেড নোটিশ জারি হয়েছে, তবে ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র চারজনের নাম প্রকাশ করতে পারেনি।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা, মন্ত্রী, এমপি এবং প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা আত্মগোপনে চলে যান। তালিকায় রয়েছেন শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিসভার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল, সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, হারুন অর রশীদ প্রমুখ।

জানা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও অর্থপাচার মামলার প্রেক্ষিতে এই রেড নোটিশের আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়ারেন্টভুক্ত কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

রেড নোটিশ জারি হলে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট দেশকে অবহিত করা হয়। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বহিঃসমর্পণের অনুরোধ পাঠানো হয়। কূটনৈতিক চ্যানেল ও পুলিশের সহযোগিতায় ওই ব্যক্তিকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে প্রক্রিয়াটি নির্ভর করে আন্তর্জাতিক আইন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট দেশের অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামোর ওপর।

একটি সূত্র জানিয়েছে, ইন্টারপোল সরাসরি কোনো দেশের আবেদনের পর রেড নোটিশ জারি করে না। আবেদন পাওয়ার পর তাদের নিজস্ব তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। সেই তদন্তে যদি দেখা যায়, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ নেই, তাহলে তার নামে রেড নোটিশ জারি করা হয় না।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যেসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং যারা পালিয়ে গেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ভাতের হোটেল খ্যাত) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, হারুন অর রশীদ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের উডল্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছেন। মনিরুল ইসলামও যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান অবস্থান করছেন যুক্তরাজ্যে, আর প্রলয় কুমার জোয়ারদার ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম ভারতের মধ্যে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৪৯০টি মামলা দায়ের হয়। এতে অন্তত ১৩৭ জন পুলিশ সদস্য কর্মস্থল ত্যাগ করেন; তাদের মধ্যে ৫৬ জন ফিরে এলেও ৮১ জন এখনও পলাতক। পলাতকদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন ডিআইজি, ১০ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ১১ জন পুলিশ সুপার, ৯ জন অতিরিক্ত এসপি, ৫ জন এএসপি, ২৭ জন পরিদর্শক, ৮ জন এসআই, ৩ জন এএসআই এবং ৫ জন কনস্টেবল।

গত ৭ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ডিআইজি থেকে পরিদর্শক পদমর্যাদার ৪০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে তাদের অনুকূলে প্রদত্ত পদকও প্রত্যাহার করা হয়।

এমআর/সবা