১১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক: সরকারি ঔষধ পাচ্ছেন না আক্রান্তরা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত মানুষেরা সরকারি ঔষধ পাচ্ছেন না। নিজেরা বাজার থেকে ঔষধ ক্রয় করে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বহির্বিভাগ খোলা থাকাকালীন মাত্র আক্রান্তরা অ্যান্টিবায়োটিক পাচ্ছেন; অন্য সময় আসা রোগীদের ঔষধ দেওয়া হচ্ছে না।

গত সোমবার ও মঙ্গলবার ৬ জন নতুন আক্রান্তসহ মোট ২২ জনের চিকিৎসা হয়েছে। তাদের মধ্যে রোজিনা বেগম নামে একজন নারী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি অ্যানথ্রাক্সে নয়, অন্য সমস্যার কারণে মারা গেছেন।

স্থানীয়রা জানান, আক্রান্তদের হাতে ফোসকা দেখা গেছে। বিশেষভাবে মোজাফফর আলীর বাম চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি জানিয়েছেন, ২৭ সেপ্টেম্বর সংক্রামিত গরুর মাংস কাটার সময় সংস্পর্শে এসেছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হতে গেলে চিকিৎসক ঔষধ লিখে দিয়ে বাড়িতে পাঠান, ফলে রোগীরা নিজ খরচে ঔষধ কিনে নেবার প্রতি বাধ্য হচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে কেউ গুরুতর অবস্থায় নেই। বর্তমানে ১৬ জনকে ১০ দিনের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছে। উপজেলার মেডিকেল টিম এবং প্রাণিসম্পদ দফতর গবাদিপশুকে টিকা দিচ্ছে এবং সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অ্যানথ্রাক্স মানবদেহে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান কারণ হলো আক্রান্ত পশু জবাই ও তার মাংসের সংস্পর্শ। রোগ প্রতিরোধ সম্ভব টিকা প্রয়োগ এবং সঠিক আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ১৯৮০ সাল থেকে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। চার দশকের বেশি সময়ে মূলত উত্তরাঞ্চলসহ ১৬টি জেলায় রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। সম্প্রতি রংপুর ও গাইবান্ধায় নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক: সরকারি ঔষধ পাচ্ছেন না আক্রান্তরা

আপডেট সময় : ০৮:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত মানুষেরা সরকারি ঔষধ পাচ্ছেন না। নিজেরা বাজার থেকে ঔষধ ক্রয় করে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বহির্বিভাগ খোলা থাকাকালীন মাত্র আক্রান্তরা অ্যান্টিবায়োটিক পাচ্ছেন; অন্য সময় আসা রোগীদের ঔষধ দেওয়া হচ্ছে না।

গত সোমবার ও মঙ্গলবার ৬ জন নতুন আক্রান্তসহ মোট ২২ জনের চিকিৎসা হয়েছে। তাদের মধ্যে রোজিনা বেগম নামে একজন নারী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি অ্যানথ্রাক্সে নয়, অন্য সমস্যার কারণে মারা গেছেন।

স্থানীয়রা জানান, আক্রান্তদের হাতে ফোসকা দেখা গেছে। বিশেষভাবে মোজাফফর আলীর বাম চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি জানিয়েছেন, ২৭ সেপ্টেম্বর সংক্রামিত গরুর মাংস কাটার সময় সংস্পর্শে এসেছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হতে গেলে চিকিৎসক ঔষধ লিখে দিয়ে বাড়িতে পাঠান, ফলে রোগীরা নিজ খরচে ঔষধ কিনে নেবার প্রতি বাধ্য হচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে কেউ গুরুতর অবস্থায় নেই। বর্তমানে ১৬ জনকে ১০ দিনের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছে। উপজেলার মেডিকেল টিম এবং প্রাণিসম্পদ দফতর গবাদিপশুকে টিকা দিচ্ছে এবং সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অ্যানথ্রাক্স মানবদেহে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান কারণ হলো আক্রান্ত পশু জবাই ও তার মাংসের সংস্পর্শ। রোগ প্রতিরোধ সম্ভব টিকা প্রয়োগ এবং সঠিক আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ১৯৮০ সাল থেকে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। চার দশকের বেশি সময়ে মূলত উত্তরাঞ্চলসহ ১৬টি জেলায় রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। সম্প্রতি রংপুর ও গাইবান্ধায় নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

এমআর/সবা