ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম এবং তার স্ত্রী ডা. জাহানারা আরজুর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার পর নাসিম দম্পতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।
দুদক সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মার্চ নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল নোমান বাদী হয়ে ফেনীর বিশেষ জজ আদালতে মামলাগুলো দায়ের করেন। মামলায় নাসিমের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ৫২ লাখ ১৭ হাজার টাকার এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৬ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ১৯৮৬ সালে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়া নাসিম ২০০৯ সালে যুগ্ম সচিবের পদ থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। পরের বছর আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ফেনী-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তবে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কানাডার নাগরিকত্ব থাকার পরও তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সাংবিধানিক শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। এ ছাড়া বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগও পেয়েছে দুদক।
দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, ‘সাবেক সংসদ সদস্য নাসিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান চলছে। তার দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য নিশ্চিত হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইসিকে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
স্থানীয় সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে নাসিমের প্রভাব ছিল ব্যাপক। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, স্বর্ণ ও মাদক পাচার, সরকারি প্রকল্পে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে কমিশন ও ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অর্জনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এক সময় শেখ হাসিনার প্রটোকল কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী নাসিমকে ফেনী আওয়ামী রাজনীতিতে বলা হতো ‘নিজাম হাজারীর অভিভাবক’। তবে দুদকের মামলার পর তিনি এখন পলাতক।
এমআর/সবা






















